হরতালের বিকল্প

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৫
বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরো এগিয়ে নিতে হলে হরতাল বন্ধ করার কোন বিকল্প নেই। অনেকে হরতালকে গণতান্ত্রিক অধিকার বলে চালিয়ে দেন। আমরা তো এখন আগের মতো পরাধীন জাতি নই। বৃটিশ কিংবা পাকিস্তানী হানাদারদের বিতাড়িত করার জন্য হরতালের মতো কর্মসূচি আমাদের নেতৃবৃন্দ ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন আমরা পুরোপুরি স্বাধীন হওয়ার পরও কেন এবং কার বিরুদ্ধে হরতাল করছি। এরশাদ স্বৈরশাসক ছিল বলে তার বিরুদ্ধে হরতাল যৌক্তিক ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালের পর থেকে অনবরত হরতাল আমাদের পর্যোদস্ত করে ফেলেছে। না হয় আমরাও এতোদিন উন্নত দেশের কাতারে যেতে পারতাম। আমাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে আমরা এখনো উন্নয়নশীল জাতি হিসাবে পড়ে রইলাম। সর্বোপরি দুই দলকে বলছি জাতিকে বাঁচান এবং হরতাল মুক্ত করুন। শাহ আলম খান অরল বাঁশখালী, চট্টগ্রাম যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। তাই আমাদের বিরোধী দলীয় নেত্রীর মধ্যে কিছু আছে বলেই হয়তো এরকম হরতাল দিয়ে যাচ্ছেন। এই যে মানুষগুলোর ক্ষতি হচ্ছে তাই উনি বুঝতে পারছেন না। তাছাড়া উনিতো আর মিছিলে যান না কিংবা উনার সন্তানরাও না। তাই তিনি হরতালের যে ক্ষতির মর্ম তা বুঝেন না বলেই হরতাল দিয়ে যাচ্ছেন। মো. মিজানুর রহমান আদরা, বরুড়া, কুমিল্লা ১৮ দলীয় নেত্রী একের পর এক হরতাল দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। মরছে মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত করছে ব্যবসা। ফলে অর্থনীতি আমাদের পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। এই যে জান-মালের ক্ষতি হচ্ছে তাই উচিত এর পরিবর্তে অন্যকিছু চিন্তা করা। ফারুক আহমেদ, বাঘমারা, রাজশাহী হরতালের বিকল্প হতে পারে গণসাক্ষর সংগ্রহ, মানববন্ধন, র্যালি ও ধর্মঘট। কিন্তু আমাদের দেশে যে দলেই সরকারে থাকুক না কেন তাদের হাবভাব এমনই থাকে যে, তারা কিছুতেই পরোয়া করেন না। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের সচেতনতাও স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই হরতালের আর প্রয়োজন হবে না। মো. ফখরুল ইসলাম টিপু সেনবাগ, নোয়াখালী হরতালের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। জনগণ আর হরতাল চায় না। তাই রাজনীতিবিদদের উচিত স্মারকলিপি পেশ করে তাদের দাবিসমূহ সরকারের কাছে তুলে ধরা। আর এমন সংলাপ আয়োজন করা যেখানে দেশের অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন এবং তাদের মতামত দেবেন। সেলিনা রাহাত আরা গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ হরতাল প্রতিরোধকারী ও হরতাল সমর্থনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে সাধারণ জনতা সময়ে সময়ে মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে। এমনকি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীরা এতে যুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে দেশের মানবসম্পদ তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাজেই এই হরতালের বিকল্প কি সে চিন্তা করা দরকার বলে আমিও মনে করি। এখন আমার কথা হলো যে সকল দাবির জন্য হরতাল করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সে সকল দাবিগুলোকে মেনে নিয়ে যথাযথ আইনে ব্যবস্থা করা একান্ত উচিত হবে। হরতালের বিকল্প হিসাবে আমি মাত্র ২টি চিন্তাধারা ব্যক্ত করছি। একটি হচ্ছে-দেশের জনগণের শান্তিপূর্ণ ন্যায়সঙ্গতভাবে দাবিগুলোর প্রতিবাদ ও সভা করা অন্যটি হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করা। আলহাজ্ব মো. হাফিজুর ইসলাম (হিফজু) সেক্রেটারী, মানবকল্যাণ ইসলামী সংস্থা হাউজিং স্টেট, রাজশাহী যে সহিংসতার খবর আমরা দেখছি, এতে করে মানুষের আতংক বাড়ছে। হরতাল মানে এখন সৃষ্টি হচ্ছে ককটেল বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর। অন্যদিকে যাত্রীবাসে আগুন। কি নির্মম চিত্র দেখছি। এমন হরতাল দেশের মানুষ মানতে রাজি নয়। মো. হানিফ মিয়া রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি, ঢাকা হরতালের জনপ্রিয়তা এখন আর নেই। হরতাল এখন জনদুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। হরতাল এখন ধ্বংসের একটি নাম। গরিব দিনমজুরের খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ এই হরতাল। গাড়ি, বাস, টেম্পোতে আগুন লাগানো, পিকেটিং করা, এটা তো এখন আর হরতাল নয়। সুতরাং বিরোধী দলকে বলছি, হরতাল বন্ধ করুন। আসুন সংলাপে, সমঝোতা করে দেশটাকে এগিয়ে নেই। দীনবন্ধু দত্ত ডেপুটি ম্যানেজার রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি, ঢাকা হরতালে জনজীবন ও অর্থনীতি বিপন্ন হলেও যে কারণে তারা হরতাল করে তাদের ঘরে ফল আসে না। তাই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, হরতাল পরিহার করে বিকল্প কিছু ভাবুন। আইরিন সুলতানা সন্জু ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম হরতালে দেশের জনগোষ্ঠীকে করে তোলে অলস কর্মবিমুখ ও ক্ষতি হয় অর্থনীতির। তাই হরতাল পরিহার করে বিকল্প আন্দোলনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার। লাড্লা, আজিমপুর, ঢাকা বাংলাদেশের অর্থনীতি রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হরতালের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। এর কোন বেকল্প নেই। আবদুল মালেক মিয়া দলিল লেখক, মিরপুর-২, ঢাকা হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। এর কোন বিকল্প নেই। অন্যদিকে বিকল্প হচ্ছে দুই নেত্রীকে জনসম্মুখে বসিয়ে তাদের সংলাপের আয়োজন করা। তা না হলে কোন কিছুই হবে না। শেখ আলী রাজী স্টেডিয়াম রোড, বাগেরহাট সারাদেশের মানুষ এখন জিম্মি অবস্থায় আছে। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার কি-না তা বোঝা কঠিন। সারাদেশে অর্থনীতি ধ্বংসের সম্মুখীন, হরতাল সাংবিধানিক ভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত সংসদে বিল উত্থাপন করা উচিত। শাহ আলম মীরবাগ, ঢাকা। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে দুই দফায় ৬০ ঘন্টার হরতালের পর গত রবিবার থেকে বুধবার একটানা ৮৪ ঘন্টা হরতাল আহ্বান করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল। এতে মানুষের কষ্ট বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সুতরাং হরতালকে পরিহার করে অন্য কিছু কর্মসূচি দেয়া ভালো হবে। শিশির, আজিমপুর, ঢাকা। হরতাল মানেই এখন সহিংসতা, হরতাল মানেই এখন নৃশংসতা, ককটেল, বোমা বিস্ফোরণ ও মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারা। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এই মুহূর্তে দুই নেত্রীকে সহনশীলতা, সমঝোতা ও আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে। নতুবা হরতাল দিন দিন বেসামাল হয়ে উঠবে। মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ প্রধান সড়ক ফেনী। রাজনৈতিক সহিংসতা যেন বেড়েই চলেছে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের জরিপ অনুযায়ী ২০১৩ সালের এ পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছে ৩৫০ জন। যা হয়তো আমাদের মত সাধারণ মানুষের বিবেকজ্ঞান হারাবে। আর কত মানুষের প্রাণ গেলে রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল হবে। ইজন, কাওরাইদ, শ্রীপুর, গাজীপুর। হরতাল কোন ভদ্র/সভ্য মানুষের কাম্য নয়। কিন্তু হরতালকে রাজনীতিবিদগণ কিভাবে যে সমর্থন দেয়, এটাই আমাকে অবাক করে। আইন করে হলেও হরতাল বন্ধ করা উচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী এবং খেটে-খাওয়া দিনমজুর মানুষ হরতালে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হরতালের বিপরীত হিসাবে মানববন্ধন, অনশন বা বিক্ষোভের মাধ্যমে মনের ক্ষোভ প্রকাশ করা যেতে পারে। যেখানে কোন সহিংস অবস্থা থাকবে না। তাদের ক্ষোভ প্রকাশের কারণে সরকার/রাজনীতিবিদগণ তাদের ভুল বুঝতে পারবেন এবং মানববন্ধন, অনশন বা বিক্ষোভ প্রদর্শনকারীদের দাবি সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য কি-না বিবেচনা করে সমাজের শৃঙ্খলা অটুট রাখতে কাঙ্ক্ষিত দাবি মেনে নিবেন। সর্বোপরি এ পদ্ধতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জান-মালের কোন ক্ষতি হবে না। মো. ইয়াছিন উদ্দিন বিএসসি অনার্স ৩য় বর্ষ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, সরকারি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা বর্তমান হরতাল সামাজিক, আর্থিক, নৈতিক, মানবিক, শিক্ষা, শিল্প, চাকুরী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পেশা, মৌলিক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা বিরোধীসহ সকল ক্ষেত্রে চরম বিপর্যয়ের কারণ এবং অত্যন্ত ঘৃণিত ও মারাত্মক আত্মঘাতী অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত। উপর্যুপরি হরতালের কারণে দেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট; ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি, শ্রমনির্ভর আরএমজি ও রেমিট্যান্স ক্ষেত্রে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয় হ্রাস; সার্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যস্ততা এবং জনগণের হতাহতের ও জীবন্ত অগ্নিদগ্ধের করুণ চিত্র কারো নজর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। হরতাল ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অর্থনীতি ক্ষেত্রে তাদের চরম উদ্বেগের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত্ করেও তা জানিয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো হরতালের নৃশংসতা অবলোকন করে তাদের চরম উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট যথাযথভাবে জানাচ্ছে। তাছাড়া ভারতের জাতির পিতা ও অহিংস আন্দোলনের মহান নেতা মহাত্মা গান্ধী প্রবর্তিত হরতাল বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও গোষ্ঠী কর্তৃক যে আঙ্গিকে যথেচ্ছ ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, গান্ধী বেঁচে থাকলে তা দেখে তিনি যে লজ্জায় মুখ লুকাতেন একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। আমাদের দেশে ১৯৯৯ ইং সালের মে মাসে মাননীয় হাইকোর্ট হরতালকে একটি সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন, তবে একই সঙ্গে বলেন, জবরদস্তিমূলকভাবে হরতাল চাপিয়ে দেয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু ২০০৭ ইং সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায়ের প্রথম অংশ বহাল রাখেন কিন্তু দ্বিতীয় অংশটি খারিজ করে দেন। ফলে রাজনীতিবিদরা এর অপব্যাখ্য দিয়ে হরতালের প্রাক্কালে ও হরতাল চলাকালে ধ্বংসাত্মক ও হূদয়বিদারক তাণ্ডবে মেতে উঠছেন দ্বিধাহীন চিত্তে। কাজেই আমাদের মতে, দেশ ও জাতিকে এই সর্বনাশা ধ্বংসাত্মক ও নৃশংস হরতাল থেকে রক্ষা করার জন্য আইন করে তা বন্ধ করে দিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদদের তার বিকল্প হিসেবে মাঠে ময়দানে বক্তৃতা-বিবৃতি প্রদান, স্মারকলিপি পেশ, সুশৃঙ্খল মৌন মিছিল, সাংবাদিক সম্মেলন, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বিতর্ক বা বিশেষ টক-শো এর আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দিয়ে জাতিকে রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ বেগমগঞ্জ পেশাজীবী সমিতি, ৫, বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী ঢাকা রাজনৈতিক দলের সরকারের কাছে কোন দাবি আদায়ের সবচেয়ে মোক্ষম হাতিয়ার হলো হরতাল। বর্তমানে বিরোধীদল যে দাবি নিয়ে হরতাল পালন করছে সেটা এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার তাই বলে এর নামে আমরা জ্বালাও পোড়াও, বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ দেখতে চাই না। পিকেটারদের ছোঁড়া ককটেল, পেট্রোল বোমায় মারা যাচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে অসংখ্য মানুষ, পথশিশু। সামপ্রতিক দিনগুলোতে দেখা যাচ্ছে হরতালের আগের দিনই সন্ধ্যায় গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে, ককটেল ফাটিয়ে হরতালের উত্তাপ ছড়ানো হয়। হরতালের নামে নৈরাজ্য কোন সচেতন মানুষেরই পছন্দ নয়। এ নৈরাজ্য ঠেকাতে সরকারকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন, দেশের মানুষের শান্তির জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব ত্যাগ করতে রাজি আছেন। তাহলে তিনি দেশের শান্তির স্বার্থে বিরোধীদলের এ দাবি পূরণ করে দেশের মানুষকে এ অশান্তির হাত থেকে নিশ্চয়ই রক্ষা করবেন। মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সারিয়াকান্দী, বগুড়া প্রতিদিনের হরতাল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি দিয়ে শেষ হচ্ছে, তবুও রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বিরোধী দল লাগাতার হরতাল দিয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক চাওয়া-পাওয়ার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য। এই ধরনের জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি স্বাধীন দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌম শক্তি সামর্থ্যের পরিপন্থি। এর পরেও বিরামহীন হরতাল কর্মসূচির মাধ্যমে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণের। রাজনৈতিক দলগুলোর (ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল) আদর্শিক বিষয়টি হচ্ছে, জনগণের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে ব্যক্তি ও দলের স্বার্থে সিঁদুরে আমের লাল দিকটা খেয়ে, উচ্ছিষ্টটা জনগণের হাতে ধরিয়ে দেয়া। কারণ হতদরিদ্র পরিবার থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগে অর্জিত ‘স্বাধীনতা’টি ছিনতাই হয়ে এলিট শ্রেণীর সুচতুর রাজনীতিকদের তালুবন্ধ হওয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে রাষ্ট্রের সকল জঞ্জাল। হরতালের একমাত্র বিকল্প হতে পারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। আর রাজনীতিকদের রাজনৈতিক আদর্শ হতে হবে, “ষোল কোটি মানুষের আত্মার আত্মীয় হওয়া”। জনবিচ্ছিন্ন ও দেশ প্রেম বিবর্জিত রাজনীতির প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য যেখানে ব্যক্তির আখের গোছানো, সেখানে অসহায় মানুষগুলোর জীবনের মূল্য দলপতিদের কাছে বড়জোর এক কাপ চায়ের সমান। শস্তা মূল্যে জীবন পেলে যদি রাজনীতিকদের উদ্দেশ্য সফল হয়, তাহলে ধুরন্দর রাজনীতিকরা এই সুযোগ কেন হাত ছাড়া করবে? হরতালের নামে জান-মালের ক্ষতি থেকে সাধারণ জনগণ যদি নিস্তার পেতে চান, তাহলে আসুন আমরা কোন দলের ভাড়াটিয়া হবো না এই অঙ্গিকারে আবদ্ধ হই। কোন কিছুর বিনিময়ে আমরা যেন নিজেদেরকে বিকিয়ে না দিই এই সংকল্পে অটল থাকি। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকর গাছা, যশোর দেশের অর্থনীতিকে পর্যুদস্ত করার জন্য হরতাল যে বড় কারণ সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। হরতালের মত কর্মসূচি দিয়ে দেশে নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, সেটি দেশের কোন সচেতন মানুষই পছন্দ করতে পারে না। কিন্তু হরতাল ডাকা বাংলাদেশে একটি সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। তাই বিরোধীদল যেন হরতালের মত দেশের ক্ষতিকর কোন কর্মসূচি দিতে বাধ্য না হয়, সেজন্য হরতালের মূলকারণকে প্রাধান্য দিয়ে সে বিষয়ে সুরাহা করতে হবে। ডা. মর্জিনা আক্তার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন ও চিকিত্সক বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার, উত্তর বারিধারা (নদ্দা), ঢাকা-১২১২ হরতালে দেশের সামগ্রিক ক্ষতির বিষয়টি বলাই বাহুল্য। এটি একটি দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির অন্তরায়, এ নিয়ে দেশের কোন একটি মানুষও দ্বিমত করবে না। প্রশ্ন হল, হরতাল দিতে হয় কেন? প্রথম কথা হল হরতাল দিতে হয় যে কারণে সে সমস্যা যদি সুরাহা হয়ে যায়, তাহলে তো আর হরতাল ডাকতে হয় না। একটি দেশে যখন কোন সরকার জনগণের ন্যায্য দাবিকে কেবলই অগ্রাহ্য করে, শুধু তাই নয় নিজস্ব ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য দমন-নিপীড়ন ও মানবাধিকার লংঘনের মত মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করার কোন আন্তরিকতা না থাকে, সে দেশের বিরোধীদল সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে হরতাল ডাকার মত কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়। হরতালে যদি বৃহত্তর জনগণের সম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠিত সরকার এমনিতেই তো হরতাল দমন করতে পারে। অধ্যাপক ওমর ফারুক এডিটর, ইংরেজি সাপ্তাহিক ঢাকা পোস্ট, উত্তর বারিধারা, ঢাকা-১২১২ দেশ এখন সংকটময় পরিস্থিতির সম্মুখীন, তাই বড় দুই দলের নেত্রীকে সংলাপে বসতে হবে। তাহলেই দেশে শান্তি আসবে। আর হরতালের প্রয়োজন হবে না। মো. আকবর হোসেন খোকা সোনামুই, গোপালপুর, টাঙ্গাইল। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বড়ই নাজুক। হরতালের কারণে অচল হয়ে পড়েছে দেশ। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে অবশ্যই হাসিনা ও খালেদাকে আলোচনায় বসতে হবে এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশে শান্তি ফেরানো সম্ভব। এমডি হাফিজুর রহমান সায়মন সভাপতি, যমুনা ডিএম, রেডিও ক্লাব, কবুরীবাড়ী, রাশা বাজার, সরিষাবাড়ী, জামালপুর। হরতালের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের মালামাল আনা-নেয়া যানবাহনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই হরতালের পরিবর্তে অন্যকিছু করা উচিত বিরোধীদলের। গেন্দু ভুঁইয়া কওলি, তারাইল, কিশোরগঞ্জ হরতালের বিকল্পে আমাদের যাওয়া উচিত। এদেশের মানুষের এতে করে বেশি সমর্থন পাওয়া যাবে। বিকল্প হিসেবে মানববন্ধন, অনশন, লালজামা পরা, লালটুপি পরা, চুল না কাটা, পুরুষ রাস্তায় খালি গায়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইত্যাদি। বিকল্পের পথে না গেলে আমাদের অর্থনীতি শেষ হয়ে যাবে। মোহাম্মদ কবিরুল আজাদ মনকাশাইর, কসবা, বি-বাড়িয়া হরতাল একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু বর্তমানে যে হরতালের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি শুরু হয়েছে সেটা মেনে নেয়া যায় না। তাই এই রাজনীতি পরিহার করে আন্তরিক ও সুস্থ মানসিকতা নিয়ে হরতালের বিকল্প অন্য কর্মসূচির কথা ভাবা দরকার। মাসুম আহম্মেদ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা মানুষ এখন সর্বান্তকরণে এই হরতাল থেকে মুক্তি চায়। কাজেই হরতাল আর নয়; চাই বিকল্প কর্মসূচি। সোহাগ ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা জনগণের জানমাল রক্ষায় ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আইন করে হরতাল বন্ধ করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। কাওছার আকন্দ, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা হরতাল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বিকল্প চিন্তা করার অবকাশ অবশ্যই ১০০% আছে। কিন্তু জনকল্যাণার্থে ও দেশের স্বার্থে হরতাল পালন করা খারাপ কিছু নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ন্যায্য দাবি আদায়ে হরতালের ডাক দিলেই যদি ক্ষমতাসীন দল আহ্বানকারী দল বা কোন অরাজনৈতিক দলের উপর অন্যায়ভাবে মারমুখী আচরণ জেল-জুলুম, দমন-পীড়ন শুরু করে দেয়; তখন হরতাল আহ্বানকারীরাও স্বভাবতই উশ্ছৃংখল আচরণে বাধ্য হয়। পরিশেষে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি। হে প্রভু যাদের অহেতুক জেদাজেদির কারণে অসহায় দেশবাসী অগ্নিদগ্ধ হচ্ছে মানুষের প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে তুমি তাদের ও তাদের নাতিপুতিদেরও রোজ কেয়ামতের দিনে দোযখের আগুনে তিলে তিলে অগ্নিদগ্ধ করিও। প্রভু আমরা তো অসহায়, তুমি তো একমাত্র সহায়, অসত্ রাজনীতি বন্ধে আর হরতালের বিকল্পের জন্য কি প্রার্থনা করতে পারি। প্রভু তুমি বল? মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা দাবি আদায়ের অস্ত্র হচ্ছে হরতাল বা ধর্মঘট। হরতাল শব্দটি গোজরাটি ভাষা। হর অর্থ প্রত্যেক, তাল অর্থ তালা অর্থাত্ সবকিছুতে তালা বন্ধ করে দেয়া। বর্তমানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে তালা বন্ধ করে দেয়ার জন্য রাজনৈতিক দল হরতালের অস্ত্র ব্যবহার করছে। প্রকৃতপক্ষে ভুল পথে রাজনৈতিক দল হাঁটছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি প্রযুক্তির যুগে বিজ্ঞানের নানা ধরনের উদ্ভাবন হয়েছে। মান্ধাতা আমলের শ্রমিক-মালিকদের দাবি আদায়ের দেশ অচল করার কোন অধিকার রাজনৈতিক দলগুলোর নেই। হরতাল সাধারণত মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে হয়ে থাকে। হরতাল বর্তমানে রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হয়েছে। হরতালের মূল কারণ খুঁজে আলাপ-আলোচনার মধ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষার সাথে বিনয়ের মিল রেখে দুপক্ষকে নমনীয় হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। অর্থনীতি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তা না হলে নিজের ধ্বংস বা নিজেদের কবর নিজেরাই তৈরি করবো। আশা এলিজাবেথ গোমেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০ গণতন্ত্রের আরো একটি ভাষা হলো হরতাল। কিন্তু দেশের সম্পদ আগুন দিয়ে পুড়ানো ও সরাসরি মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র। এটা সরাসরি হত্যা। এর দায়-দায়িত্ব নিতে হবে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আমি মনে করি এতোগুলো আইনজীবী আছেন তারা কেন এই দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন না। যারা সমাজের সংগঠক আছেন তারা মানুষের নিরাপত্তার জন্য হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করুন। এতে করে মানুষ হত্যা বন্ধ হবে। তা না হলে এভাবে মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারতে থাকবে আর আমরা নিরব দর্শক হয়ে তাকিয়ে থাকবো। সৈয়দ হায়দার আলী সভাপতি, মহাখালী যুব কল্যাণ সমিতি, মহাখালী, ঢাকা হরতালের মতো সহিংস কর্মসূচি দেশের মানুষের শান্তির পরিবর্তে অস্বস্তিকর পরিবেশ, খুন, হত্যা, গাড়ি পোড়ানো, ভাংচুর, পুলিশের উপর হামলা, নেতাদের বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ, নেতাদের গ্রেফতার মামলা চলতেই থাকবে। যা এদের শান্তিকামী মানুষের কাম্য নয়। মানুষ আর হরতাল চায় না। দেখতে চায় না মানুষের লাশ। দেখতে চায় না রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি। আগামীতে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি যে দলই ক্ষমতায় আসুন না কেন দেশের মানুষ হরতালের মত দানবীয় কর্মসূচি চায় না। জনগণ চায় শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হোক। দেশের উন্নয়ন হোক। প্রতিষ্ঠিত হোক হরতালমুক্ত বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠিত হোক হরতালমুক্ত গণতন্ত্রের। যেন আগামী প্রজন্ম হরতালমুক্ত বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চায় আরো দায়িত্বশীল হতে পারে। মঞ্জু খন্দকার, চুয়াডাঙ্গা এই হরতালে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক কারোরই মধ্যে শান্তি নেই, স্বস্তি নেই, উত্সব নেই। শুধু আছে দুশ্চিন্তা। যেহেতু দেশের পিএসসি, জেএসসি, জেডিসি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বিভিন্ন শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এর মধ্যে চলছে টানা ৮৪ ঘণ্টার হরতাল; সুতরাং এভাবে চলতে থাকলে দেশ অচল হয়ে পড়বে। কাজেই হরতালের বিকল্প ভাবা দরকার। নীলুফা আক্তার টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা হরতালে বিপুলসংখ্যক মানুষের হতাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্পোত্পাদন যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি অর্থনীতির চাকাও হয়ে পড়ে স্থবির। কাজেই এই হরতাল থেকে রেহাই চায় দেশবাসী। শিলা, সিডনী, অস্ট্রেলিয়া হরতালে সহিংসতায় নতুন রূপ ও সংকট বেড়েই চলেছে। হরতালে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় করুণ মৃত্যু হয়েছে কয়েকজনের, পুড়ে গেছে অনেকে। হরতালে ব্যাহত হচ্ছে অর্থনীতি, অন্যদিকে জুনিয়র শিক্ষার্থী, পিএসসি ও বিভিন্ন স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়েছেন। সাধারণভাবে উদ্বিগ্ন ঘন ঘন টানা ও সহিংসতা হরতালে অসহায় মানুষ। তাই এর থেকে পরিত্রাণ চাই। শেলী, স্যানিসাইড, নিউইয়র্ক বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর যে ক্ষতি হয়েছে,তা বাংলাদেশের জিডিপির ৪ দশমিক ৫ শতাংশের সমান। সুতরাং এমন যদি ক্ষতি হয় তাহলে এদেশ উন্নয়নে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই রাজনীতিবিদগণের কাছে দাবি হরতাল বন্ধ করে অন্য কোন শান্তিময় কর্মসূচি দিন। এম,কে, এইচ রমিজউদ্দিন প্রশিকা প্রধান কার্যালয় মিরপুর-২, ঢাকা হরতালে অর্থনীতি ও ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়, এই ক্ষতি পূরণ হবার নয়। অন্যদিকে হরতালে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যা সাধারণ মানুষের জন্য দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই হরতাল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিকল্প চিন্তা করা এখনই দরকার। হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী কবিরহাট, নোয়াখালী একটি জাতীয় পত্রিকার হিসাব অনুযায়ী গত ২৬শে অক্টোবর থেকে সোমবার পর্যন্ত রাজধানী ও এর বাইরে অন্তত ৬২ জন আহত ও দগ্ধ হয়েছেন। মারা গেছে অনেকে। সুতরাং এরকম লাগাতার হরতালে মানুষ এখন বিপাকে পড়েছে। তাই হরতাল বন্ধ করে অন্য কিছু নিয়ে ভাবা একান্ত দরকার। পারভীন সুলতানা, মালিবাগ, ঢাকা হরতালের নামে জ্বালাও, পোড়াও, বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ মানুষ আর দেখতে চায় না। হরতাল বন্ধ করে এখন রাজনীতিবিদদের কাছে সময়ের দাবি জনগণের। হরতালের বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে ভাবা দরকার। রিফাত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ইচ্ছুক, মালিবাগ জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে। হরতালের কারণে জিনিসপত্রের দাম দিন দিন বাড়ছে। ধ্বংসাত্মক হরতাল ও হিংসা এই রাজনীতির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এখান থেকে সবাই স্বস্তি চায়। তাই এর জন্য প্রয়োজন হরতাল ব্যতীত অন্য কিছু ভাবার। মেজবাহ উদ্দিন সেলিম শেওড়াপাড়া, (পাকার মাথা), মিরপুর, ঢাকা বাংলাদেশে হরতালকেন্দ্রিক সহিংসতা এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। অর্থাত্ হরতালে এখন বেশী বিপজ্জনক ও ভোগান্তিপূর্ণ সময় কাটে মানুষের। তাই হরতালের বিকল্প কিছু আনা দরকার। খায়রুল বাশার (চয়ন) ৫৬, কুতুবখালী, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা ৮৪ ঘণ্টার হরতালের আগের দিন আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে পোড়ানো ও ভাংচুর করা হলো বহু যানবাহন। আতংকিত হয়ে উঠেছে সারাদেশ। তাই এরকম হরতাল আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ অন্যরকম পরিবেশ ও এর জন্য দরকার ভিন্ন কর্মসূচী। মো: খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরাপপুর, ঝিনাইদহ হরতালপূর্ব সহিংসতায় আকস্মিকতা চরম অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সময় থাকে। হরতাল এখন অতি ভয়ংকর ও এক অপকৌশল মাত্র। এটা অতিশীঘ্রই বন্ধ করা উচিত। শান্তিপূর্ণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হরতাল আহ্বানকারীদের একান্ত দায়িত্ব। কাজী শহীদুল ইসলাম (রয়েল) নিশিন্দারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া হরতালের বিকল্প অবশ্যই রাজনীতিবিদদের বের করা উচিত। হরতালের বিকল্প হতে পারে মানববন্ধন, অবরোধ, গণঅনশনসহ ব্যাপক মিছিল মিটিং এবং লিফলেট বিতরণ। হরতাল ডাকলে মানুষ হত্যা, সম্পত্তি ধ্বংস এবং জ্বালাওপোড়াও, কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ওয়াহিদ মুরাদ, নেসারাবাদ, পিরোজপুর হরতালের বিকল্প পথ আমার কাছে মনে হলো নিয়মিত সংসদে যাওয়া। ওখানেও বিরোধী দলের দাবি তুলে ধরা অথবা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে জানানো যেতে পারে। তা ছাড়া ন্যায্যভাবে হরতাল পালন করা বাধা মনে করি না, হরতালের আগের দিন মানুষ পুড়ানো কিংবা গাড়ি পুড়ানোর নাম হরতাল নয়। আলপনা জাহান সাথী ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর মানুষ খুন, অর্থনীতির ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে হলে হরতালের বিকল্প পন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক। এবং তা জরুরিভিত্তিতে করা উচিত। যাতে মানুষ এবং অর্থনৈতিক সম্পদ রক্ষা পায়। এখন রাজনীতিকদের সহিংসতার চরিত্র পাল্টাতে হবে। সেই সঙ্গে হরতালের বিকল্প পথে হাঁটতেও হবে। এ নিয়ে রাজনীতিকদের হরতালের বিকল্প পথ আবিষ্কার করা প্রয়োজন। কারণ হরতালের থাবা জাতির কপালে আঘাত হেনেছে। সর্বনাশা এই থাবা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নইলে দেশে ধ্বংসের প্রলয় ঘটতেই থাকবে। যে ভয়ংকর রূপ আজ জাতি দেখতে পাচ্ছে তাতে গোটা জাতি আক্রান্ত ও জিম্মি হয়ে গেছে। রাজনীতিকদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তাদের সহিংসতার রাজনীতি আজ সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। হরতালের বিকল্প যথেষ্ট রয়েছে জনগণ তাদের মতামত ব্যাখ্যা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সে দিক নির্দেশনা জনগণ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জনগণের মতামত সরকার ও বিরোধী দল আমলে আনছেন না। সুতরাং জনগণের জান-মাল ও রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা উভয় নেত্রীর আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসা আবশ্যক। শাহ্ মো. হেলালউদ্দিন (হিরু) কালিহাতী, টাঙ্গাইল

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন