শচিন মানে ব্যবসাও

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫০
সেই ১৯৯৫ সালে ওয়ার্ল্ডটেলের সঙ্গে প্রায় ৩২ কোটি রুপির চুক্তি করে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রোজগেরে ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছিলেন শচিন টেন্ডুলকার। এরপর সময় গড়ানোর সাথে সাথে রান, সেঞ্চুরি আর জনপ্রিয়তা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে তার বাণিজ্যিক মূল্যও। দুদীর্ঘ এক ক্রিকেট জীবন শেষে ব্যাটিং জিনিয়াসের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টেও তাকে ঘিরে লগ্নিকৃত অর্থের হিসাবটা তার রেকর্ডগুলোর মতোই বিস্ময়কর। অসংখ্য রান আর অজস্র রেকর্ডের বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ার পেছনে ফেলে শচিন ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন মুম্বাই টেস্ট শেষেই। ভারত তো বটেই পুরো ক্রিকেট বিশ্বই এখন আক্রান্ত শচিন বিদায়ের আবেগে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে বেশ জোরেশোরেই নেমেছে বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও। ক্রিকেটের পূজারি ভারতীয়রা এই টেস্টকে ঘিরে যে বাজি ধরেছে, তার পরিমাণ দুই হাজার কোটি রুপিরও বেশি। বাজিকরদের উপরে সতর্ক দৃষ্টি রাখা মুম্বাই পুলিশের বরাতেই জানা গেছে এ তথ্য। একটি অনলাইন বাজি ধরার প্রতিষ্ঠান বেটফেয়ার ডট কম জানিয়েছে, ওয়াংখেড়েতে এ ম্যাচে ভারতের জয়ের পক্ষে বাজির দর ৫৬ পয়সা। অর্থাত্ যারা ভারতের জয়ের পক্ষে এক রুপি বাজি ধরবেন, এর বিপরীতে তারা পাবেন ১.৫৬ রুপি। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের পক্ষে বাজির দল ১০.৫ রুপি। ড্র’র ক্ষেত্রে যেটা ৩.৭৫ রুপি। এই টেস্টে সেঞ্চুরি করে রূপকথার নায়কের মতোই শচিন বিদায় নেন, এমন ভক্তের সংখ্যা বোধহয় নিতান্তই কম নয়। আর শচিনের সেঞ্চুরির পক্ষে বাজি ধরতেও ভক্তরা মোটেই আপত্তি করছেন না। এর প্রমাণ এই ব্যাটিং কিংবদন্তির পক্ষে বাজির দল ৬.৬ রুপি। অন্যদিকে চেতেশ্বর পূজারা এবং রোহিত শর্মার ক্ষেত্রে এটি ৪.৮ এবং ৬। ঘটনার শেষ নয় এখানেই। মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) তাদের নির্ধারিত টিকেটগুলোর বাইরে সাধারণ মানুষের জন্য টিকেট ছেড়েছিল মাত্র সাড়ে তিন হাজার। অনলাইনে বিক্রি শুরুর সাথে সাথেই পাঁচশো থেকে দশ হাজার টাকা মূল্যের টিকেটের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন বিপুল পরিমান মানুষ। বলা বাহুল্য খুব অল্প কয়েকজনের ভাগ্যেই শিকে ছেড়ে। তবে অবাক করা বিষয় হলো এই টিকেটগুলোই কালোবাজারে পরবর্তীতে পনের থেকে সত্তর হাজার টাকায় বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে টুর্নামেন্টের টেলিভিশন স্বত্বাধিকারি স্টার গ্রুপ সুযোগ পেয়ে বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের বিজ্ঞাপনের দরও। ইকোনমিক টাইমসের তথ্যানুযায়ী, অন্যান্য সময়ে যেখানে প্রতিটি দশ সেকেন্ডের জন্য বিজ্ঞাপন বিক্রি হয় ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকায় সেখানে মুম্বাই টেস্টের জন্য এই দর ষাট হাজার থেকে এক লাখ রুপি! সাধারন সব ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ইবের মতো শীর্ষস্থানিয় অনলাইন দোকানও বসে নেই টেন্ডুলকার বিদায়ের এই ড়্গনে। শচিনের জন্য বিশেষভাবে তৈরী করা অল্প সংখ্যক রৌপ্য মূদ্রা বিক্রি হয়ে গেছে প্রায় ঘোষনার সাথে সাথেই। এছাড়া টেন্ডুলকারের অটোগ্রাফসহ ব্যাট, বই, মগ, মোবাইল কভার এবং পোস্টারও দেদার বিকাচ্ছে সারা ভারত জুড়ে। শুধু অর্থ উপার্জন নয়, টেন্ডুলকারের সমাপনী টেস্টে অর্থও ব্যয় হচ্ছে বিপুল পরিমানে। সাধারন সময়ে দুই টেস্টের একটি সিরিজের জন্য বিসিসিআই যেখানে ১৭০ কোটি রূপির বিমা করে, সেখানে এই টেস্টের জন্য তাদের বিমা বাবদ খরচ হয়েছে ১৯০ কোটি রূপি। যেখানে, কমনওয়েলথ গেমসের মতো বিশাল এক ক্রীড়াযজ্ঞেও বিমা বাবদ খরচ ছিল ২০০ কোটি রূপি। বোঝাই যাচ্ছে, ক্রিকেটীয় মূল্যের মতোই আর্থিক মূল্যেও শচিন অতুলনীয়।