শিক্ষা পরামর্শ

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:২৩
শিশুর বিকাশে পরিবেশই মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে আজকের শিশু আগামীতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্ণধার হয়ে সমাজ ও দেশ গঠনে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখবে। আর এক্ষেত্রে পরিবেশই মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু শিশুর অনুকূলে পরিবেশগত ভারসাম্য যদি সঠিকভাবে সংরক্ষিত না হয় অর্থাত্ যদি চ্যুতি (Deviation) সৃষ্টি হয়, তাহলে ঐ শিশুর গঠনমূলক কাজ তো দূরে থাক, তখন হয়ে উঠে সমাজ ও দেশের জন্য দায়ভার (Liability) এবং অনেক ক্ষেত্রে সমাজের ক্ষতিকর ব্যক্তি হয়ে দাঁড়ায়। যাহোক, দুটি বিষয় নিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। একটি স্বয়ং শিশু, অন্যটি হলো শিশুকে ঘিরে বাস্তবপ্রসূত পরিবেশ। প্রথমতঃ শিশু বলতে আমরা সেই মানব শিশুদের কথা বুঝাচ্ছি, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। আর এ বয়সের সময়সীমাটা জাতিসংঘ সনদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং বাংলাদেশের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। তবে এক্ষেত্রে বয়সের আওতায় দৈহিক ও মানসিক বিকাশের পরিপক্কতা ও বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। অনেক সময় এমনও দেখা যায় যে ৮ বা ১০ বছরের শিশু যুবক বয়সের চেয়ে বেশী বুদ্ধি রাখে এবং সৃজনী শক্তি অনেকের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। তবে এ বিষয়টি সচারচর হয় না, এটি ব্যতিক্রমের পর্যায়ভুক্ত। এক্ষেত্রে আমাদের চিন্তা-ভাবনা কেবল অধিকাংশ গড়ভিত্তিক বুদ্ধ্যঙ্ক সংবলিত শিশুদের নিয়ে। দ্বিতীয়তঃ পরিবেশের কথা আসে। এখানে পরিবেশ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এই ভাবে-আমাদের চারিদিকে যা আছে, যা দেখি এবং যে সমস্ত জীবজন্তুসহ বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদান মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিশুর বিকাশ আলোড়িত করে থাকে, আসলে একটি শিশু ভুমিষ্ট হওয়ার পর থেকে বর্ণিত জীবগতসহ, বস্তু ও অবস্তুগত উপাদনের মধ্যে দিয়ে বেরে উঠতে থাকে। কতগুলো সরাসরি জীবনের উষালগ্ন থেকেই আষ্টে-পিষ্টে জড়িয়ে থাকে, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো মা-বাবা। এই দুই জন ব্যক্তিত্ব শিশুর এমনই আপনজন, যাঁদের সাথে রক্তের বাঁধনে বাঁধা। তাই শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রতিমুহূর্তে তাঁদের ক্রিয়াকলাপ অনুসৃত হয়ে থাকে। এ অবনীতে শিশু প্রথম যে মানুষটিকে চিনে, তিনিই গর্ভধারিণী মা এবং তত্পর বাবা। শিশু প্রথম যে গন্ধ ও শব্দের সাথে পরিচিত হয়, সেটা হলো মায়ের গায়ের গন্ধ ও তাঁর মধুর ডাক। উল্লেখ্য যে, শিশুর জীবনের প্রথম আট বছর পরিবারের লোকজন বিশেষ করে মায়ের সরাসরি বিভিন্ন আঙ্গিকে হূদয় নিংড়ানো যত্ন, আদর ও ব্যবহার শিশুর ভবিষ্যত্ জীবনের বীজ হিসেবে পুষ্টি লাভ করে কিশলয় হয়ে শাখা-প্রশাখা ছেড়ে বাড়তে থাকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, শিশুর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব সুগঠিত হয় মূলত তিনটি স্বভাবজাত ও কৌশলগত সম্পর্কের (Co-herent & strategic relations) উপর ভিত্তি করে যেমন- (ক) পিতা-মাতার মধ্য সম্পর্ক (খ) পিতা মাতা ও শিশুর মধ্যে সম্পর্ক এবং (গ) পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন, খেলা ও স্কুল সাথীসহ অন্য শিশুদের মধ্যে সম্পর্কের উপর। এদিকে জীবগত, বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মিথস্ক্রিয়ার সূত্র ধরে শিশুর জ্ঞান, নৈতিকতা ও বাস্তবতা প্রসূত রূপ রসে ভরে দিতে থাকে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলে তো বুঝতেই পারছেন, জীবনের মান রক্ষা তো দূরে থাক, জীবন পর্যন্ত সংকটাপূর্ণ হতে পারে। সেহেতু পারিপাশ্বিকতাসহ অতি আদর বা অনাদর উভয়ই খারাপ। লেখক, মো. আব্দুল বাকী চৌধুরী নবাব, গবেষক