শচিন যুগের অবসান

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৩, ২২:১১
শচিন টেন্ডুলকারের ২৪ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনের সমাপ্তি ঘটলো ভারতের সবচাইতে সহজ এক জয়ে। কেননা মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে গতকাল শনিবার সিরিজ সমাপনী টেস্টটির তৃতীয় সকালেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক ইনিংস ও ১২৬ রানে হেরে অসহায় আত্মসমর্পণ করে। তাতে স্টেডিয়াম ঠাসা দর্শকদের দাঁড়িয়ে জানানো অভিবাদন এবং সতীর্থদের দেয়া গার্ড অব অনারের মধ্যে শেষবারের মতো ক্রিকেট মাঠ ছেড়ে আসেন অশ্রুসজল এই ক্রিকেট কিংবদন্তী। আবেগে বাকরুদ্ধ শচিন বিদায়ের প্রাক্কালে বলেন, ‘দুর্দান্ত একটা যাত্রার যে সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে তা বিশ্বাস করা কঠিন। কিছু বলা খানিকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে আমি সামলে নেব। আমার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন আমার বাবা, ১৯৯৯ সালে তার মৃত্যুর পর থেকে যার অভাব আমি অনেক অনুভব করি। তার দিক-নির্দেশনা ছাড়া আমি আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারতাম না।’ প্রজ্ঞান ওঝা মুম্বাই টেস্টের দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচটি এবং রবিচন্দন অশ্বিন দুই ইনিংস মিলিয়ে সাত উইকেট দখল করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এদিন লাঞ্চের আগেই দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। তাতে সফরকারীরা শুধু ইনিংস ব্যবধানেই হারেনি, শচিন রমেশ টেন্ডুলকারও চলে যান কালের পাতায়। ওয়াংখেড়ের দর্শকরা অবশ্য শেষবারের মতো শচিনের ক্রিকেট অ্যাকশন দেখতে পান যখন তিনি দুই ওভার বল ছুঁড়েন। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ক্যারিবীয়দের অষ্টম উইকেট পতনের পর শচিনকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন। দর্শকরা তার কাছ থেকে একটা উইকেট চাইছিলেন কিন্তু ওভার দুটিতে আট রান দেয়ার পর ধোনি তার মূল বোলারদের নিয়ে আসেন আবার। কয়েক ওভারের মধ্যে তো খেলাই শেষ হয়ে যায়। মোহাম্মদ সামি বিপক্ষের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের মিডল স্টাম্প উপড়ে দিয়ে সমাপ্তি ঘটান খেলার। ক্যারিবীয়রা যে প্রথম ইনিংসে ৩১৩ রানে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয় পালায় ব্যাট করতে আসার পর আর দাঁড়াতে পারবে না সেটা বোঝা গিয়েছিল আগের দিন ৪৩ রানে পাওয়েল, ড্যারেন ব্রাভো ও টিনো বেস্টের বিদায়ে। গেইল ও চন্দরপল তৃতীয় দিনে কতটা টানতে পারবেন সেটা নিয়েও সংশয় ছিল। গেইল ৩৫ রানে বিদায় নেন। চন্দরপলের ইনিংস থেমে যায় ৪১ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ হাঁকালেই কেবল শচিনের আরেকবার ব্যাট করার সুযোগ থাকতো। কিন্তু দলীয় ৮৯ রানেই ক্যারিবীয়দের ছয় উইকেট পড়ে গেলে সে সম্ভাবনা আর থাকেনি। রামদিন অর্ধশতক হাঁকিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতে এসেছিল ছয়টি জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে। কিন্তু কোলকাতা ও মুম্বাইয়ের জয় দুটিতে ভারতীয় দল শচিনকে রেকর্ড ছয় টেস্ট জয় উপহার দিল বিদায় বেলায়। রোহিত শর্মা ম্যান অব দ্য সিরিজ ও ওঝা ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১৮২ (পাওয়েল ৪৮, ব্রাভো ২৯, চন্দরপল ২৫, ডিউনারাইন ২১; ওঝা ৫/৪০, অশ্বিন ৩/৪৫) ভারত ১ম ইনিংস: ৪৯৫ (পূজারা ১১৩, রোহিত অপরাজিত ১১১, টেন্ডুলকর ৭৪, কোহলি ৫৭, মুরালি ৪৩, ধাওয়ান ৩৩, অশ্বিন ৩০; শিলিংফোর্ড ৫/১৭৯, দেওনারায়ন ২/৪৫)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ১৮৭ (রামদিন অপরাজিত ৫৩, চন্দরপল ৪১, গেইল ৩৫, ব্রাভো ১১, স্যামুয়েলস ১১; অশ্বিন ৫/৪৯, অশ্বিন ৪/৮৯, সামি ১/২৮)।