শচিন টেন্ডুলকারের বিদায়ের দিনে পুরো ক্রিকেট বিশ্বই যখন ব্যস্ত এই ব্যাটিং কিংবদিন্তকে শ্রদ্ধা আর অভিনন্দন জানাতে, তখন ভারত সরকারই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? ক্রিকেটের সঙ্গে চব্বিশ বছরের বন্ধন ছিন্ন করার দিনে শচিনকে সম্মানিত করার দারুন এক উপায়ই বেছে নিলে ভারত সরকার। ক্রিড়াঙ্গনের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ভারতরত্ন উপাধি দেয়া হচ্ছে শচিনকে। মুম্বাই টেস্টের সমাপনী এবং শচিনের অবসর জীবনের ঠিক শুরুর সময়টাতেই গতকাল প্রধানমন্ত্রির অফিস থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষনা দেয়া হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,‘শ্রী শচিন টেন্ডুলকার নি:সন্দেহে অসাধারন একজন ক্রিকেটার। পুরো বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য মানুষকে সে অনুপ্রানিত করেছে। মাত্র ১৬ বছর বয়স থেকে গত ২৪ বছর সে সারা বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেট খেলেছে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে। ক্রিড়া বিশ্বে ভারতীয় ক্রিড়াঙ্গনের সত্যিকারের একজন দূত হিসেবেই সে কাজ করেছে। ক্রিকেটে অর্জনের দিক থেকে সে অতুলনীয়, যে রেকর্ডগুলো সে করেছে সেখানে তার সমকক্ষ কেউ নেই। আর যে ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় সে দিয়েছে, বাকি বছরগুলোয় তা অনুকরনীয় হয়েই থাকবে। ক্রিড়া ক্ষেত্রে যে বিশেষ প্রতিভার পরিচয় সে দিয়েছে সেজন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পুরস্কারে তাকে সম্মানিত করা হয়েছে।’
শচিনের ভারতরত্ন পাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছিল বেশ কয়েক বছর ধরেই। আর এই গুঞ্জন নতুন মাত্রা পায় ২০১১ সালে যখন এই পুরস্কার পাবার যোগ্যতা পুন:নির্ধারন করা হয়। ‘শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং মানবকল্যান’, এই চার শর্তের বাইরে নতুন বিষয় হিসেবে যুক্ত হয় ‘যে কোন বিষয়ে মানুষের সর্বোচ্চ অর্জন’ও। শচিনের জন্যই ভারত রত্নের শর্ত শিথিল করা হয়েছে বলেও অনেকে তখন অনুমান করেন। তবে শচিনের এই অর্জনে অখুশি হবেন, এমন মানুষ হয়তো ভারতে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এর আগে গ্রান্ডমাস্টার বিশ্বনাথন আনন্দের সঙ্গে ক্রিড়াঙ্গনের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ২০০৮ সালে পদ্মভূষন পুরস্কার পান শচিন। যা কিনা ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত। তারও আগে ক্রিড়াঙ্গনের বিশেষায়িত নানা সম্মান, যেমন অর্জুনা পুরস্কার (১৯৯৪ সাল) এবং রাজিব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার পান শচিন।
