ফুটবল মৌসুমে যে কয়টি আসর হবে তার সব কয়টি শিরোপা ঘরে তুলতে চায় মোহামেডান ও আবাহনী। গত মৌসুমে খালি হাতে ঘরে ফেরা এই দল দু’টি মনে করছে, এবার তারা সবক’টি টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতবে। সেভাবেই এবার ফুটবল দল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। গত শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় গেছে। শেষ দিনে মোহামেডান, আবাহনী, ব্রাদার্স, চট্টগ্রাম আবাহনী এবং নতুন দল উত্তর বারীধারা ক্লাব খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। আগেই খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন শেষ করেছে বিজেএমসি, ফেনীর সকার ক্লাব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
দেশি-বিদেশি ফুটবলার নিয়ে মোহামেডান ২৬ জন এবং আবাহনী ৩৪ জনকে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। দুই শিবিরে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন। মোহামেডান এবং আবাহনী উভয়েই দাবি করেছে তাদের দল ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। খেলোয়াড়রা যদি ঠিক মতো নৈপুণ্য দেখাতে পারেন তাহলে শিরোপা তাদের ঘরে উঠবে। দুই ক্লাব থেকে আগাম টাকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারী ফুটবলার জাহিদ হোসেন এবং নাহিদুল ইসলাম মোহামেডানে যোগ দিয়েছেন। শেখ রাসেল এই ফুটবলারদেরকে সমঝোতা হওয়ায় ছেড়ে দেয়।
মোহামেডানে জাতীয় দলের ফুটবলার পাঁচজন। এদের মধ্যে রয়েছেন নিজ দলের গোলকিপার মামুন খান, স্ট্রাইকার ওয়াহেদ আহমেদ, শেখ রাসেল থেকে আসা জাহিদ, এমিলি এবং শেখ জামাল থকে আসা ডিফেন্ডার আরিফুল ইসলাম। জাতীয় দল থেকে বাদপড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন শেখ জামালের স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম সবুজ, ব্রাদার্সের মিডফিল্ডার ইউসুফ সিফাত, দলে থেকে গেলেন ডিফেন্ডার মিন্টু শেখ, মিডফিল্ডার মেসবাবুল হক মানিক। শেখ রাসেল ছেড়ে আসা স্ট্রাইকার এমিলি বলেছেন, তাদের দলের প্রত্যেক পজিশন শক্তিশালী এবং বিদেশি ফুটবলারের সংগ্রহ ভালো। এছাড়াও মোহামেডান পাঁচজন বিদেশি ফুটবলারকে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে।
আবাহনীর নীল হলুদ জার্সি গায়ে খেলবেন জাতীয় দলের তিন ফুটবলার। গোলকিপার সোহেল, ডিফেন্ডার আতিকুর রহমান মিশু, ওয়ালী ফয়সাল। আবাহনী আগেই বলেছে, তারা শেখ রাসেলের স্ট্রাইকার মিঠুন চৌধুরীকে রেজিস্ট্রেশন করাবে। বাস্তবে করেছেও তাই। তবে মিঠুনকে নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। শেখ রাসেলের মিঠুন আবাহনীর কাছ থেকে আগাম এক লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে রাসেলেই ফিরে গেছেন। আবাহনীর রুপু বলেছেন, খেলোয়াড়টি তাদের।
স্থানীয় ১৩ জন ফুটবলার আবাহনী ছাড়েননি। এর সাথে বিদেশি কোটায় নয়জনকে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিত্ দাস রুপু মনে করছেন এটা তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আগের ব্যর্থতা ঘুচিয়ে এই দলটি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। শেখ জামালের কাছে আবাহনী তাদের ট্রায়ালে থাকা একজন ছাড়া বাদবাকি বিদেশিদের বিদায় করে দিয়েছে। শুক্রবার ভোরে ব্রাজিলীয়ানসহ আরো কিছু ফুটবলার ঢাকায় পৌঁছায়। তাদের কোন ইনজুরি রয়েছে কিনা এবং খেলা কেমন তা দেখতে গিয়ে রাত ৯টায় রেজিস্ট্রেশন করে আবাহনী।
মোহামেডানে যোগ দিলেন
এমিলি, জাহিদ, ইমন বাবু, নাহিদুল ইসলাম (শেখ রাসেল), আরিফুল ইসলাম, তৌহিদুল আলম সবুজ অরুপ বৈদ্য (শেখ জামাল), সিফাত ইউসুফ (ব্রাদার্স)।
দলে থেকে গেলেন
মিন্টু শেখ, গোলকিপার মামুন খান, তপু বর্মণ, গোলকিপার তিতুমীর চৌধুরী টিটু, মেজবাবুল হক মানিক, সোহাগ, ওয়াহেদ আহমেদ, এমিলি ভাই ফয়সাল আহমেদ এমেকা। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে নেয়া হয়েছে গোলকিপার আহসান হাবিব বিপু, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস, মনসুর আলম, রিমন, ফয়সালকে। বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন বাইবেক ইসাই (ক্যামেরুন), ড্যামিয়েন, আননেমি চুকা (নাইজেরিয়া), আওয়াদুকুম ইদু (ঘানা), মোস্তফা মোহাম্মদ সিদ্দিক (মিসর)।
আবাহনী
নতুন যোগ দিলেন
শরিফুল ইসলাম (মোহামেডান), গোলকিপার সুলতান আহমদে শাকিল, সোহেল রানা, মোফাজ্জাল হোসেন সৈকত (শেখ জামাল), নাসিরুল ইসলাম নাসির, রাজন মিয়া (শেখ রাসেল), জামাল হোসেন (ব্রাদার্স), রনি (মুক্তিযোদ্ধা), ওবায়দুর রহমান (বিজেএমসি), আব্দুল কাদের (সকার ক্লাব), দিদারুল আলম (অনূর্ধ্ব-১৬)।
দলে থেকে গেলেন
গোলকিপার সোহেল, সুজন, ওয়ালী ফয়সাল, নজরুল, আরমান আজিজ, মিশু, প্রাণতোষ, আব্দুল বাতেন কোমল, আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সৈকত ভৌমিক, শাহেদুল আলম।
বিদেশিদের মধ্যে নাম জমা দেয়া হয়েছে
সামাদ ইউসুফ, আউডু ইব্রাহিম (আবাহনী, ঘানা) ওসে মরিসন (মোহামেডান, ঘানা), ইউকো থমাস, একেলে প্যাটট্রিক (ক্যামেরুন), লুইস ডি কষ্টা, আন্দ্রে লুইস ডি সুজা (ব্রাজিল), লাকিপল, ওনইকেচু ড্যানিয়েল (নাইজেরিয়া)।
