পৃথক অগ্নিকাণ্ডে ৩৭টি বাড়ি ও সিএনজি ভস্মীভূত

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৪৩
দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডে ও দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে ৩৭টি বসতবাড়ি ও একটি সিএনজি পুড়ে গেছে। -খবর ইত্তেফাক সংবাদদাতাদের। কচুয়ায় ১৮টি বসতঘর কচুয়া (চাঁদপুর ) সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কড়াইয়া ইউনিয়নের আকানিয়া গ্রামের মিজি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছোট-বড় ১৮টি বসতঘর পুড়ে গেছে। এসময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ৪ জন আহত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে নগদ অর্থসহ প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে হান্নান মিয়ার ৩টি, ইদ্রিস মিয়ার ২টি, নুরুন্নবীর ২টি, মো. জাহাঙ্গীর আলমের ৩টি, মনিরউদ্দিনের ৪টি, আবুল কালাম কালুর ৩টি ও সুলতান আহমেদের ১টি ঘর পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, রাত প্রায় ১২টার দিকে হঠাত্ করেই হা্ন্নানের পাকের ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে সবাই ঘর থেকে ছুটোছুটি শুরু করে। বাড়ির লোকজনের আর্তচিত্কারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের প্রায় দেড়ঘন্টা পর কচুয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্ত ফারুক মিয়া ও ইদ্রিস মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় কিছু সুবিধাবাদী লোকজন আমাদের ঘরে থাকা নগদ অথ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এছাড়া তাত্ক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলেও তারা অনেক দেরি করে ঘটনাস্থলে আসায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে। কচুয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মোস্তফা খান জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা হচ্ছে। সদরপুরে ৮ বাড়ি সদরপুর (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, গত শনিবার ফরিদপুর সদরপুরে ঢেউখালী ইউনিয়নের দুলাল মাতুব্বর ডাঙ্গী গ্রামের ৮ বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। শনিবার ভোরে ময়না বেগম (৪০) এর রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে বাড়ির অন্যান্য ঘরে আগুন লাগে। আগুনের লেলিহান শিখায় শেখ হাবিব, শেখ চাঁন মিয়া, লাল মিয়া, ছরোয়ার হোসেন, শহিদুল, সিদ্দিক মিয়া, মোঃ হোসেন ও ময়না বেগমের বসতঘর পুড়ে যায়। এলাকাবাসী ২ ঘন্টা চেষ্টার পর অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আসে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লোকমান হোসেন অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রত্যেককে নগদ ২ হাজার টাকা ও ২টি করে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করে। বর্তমানে আগুনে পুড়ে যাওয়া ৮টি পরিবারের সদস্যরা অসহায় আকুতি এবং খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। মুকসুদপুরে পাঁচটি বসতঘর মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গৌরনদী গ্রামে গত শনিবার আতিয়ার খানের বাড়ীতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে । এলাকাবাসী জানায়, রান্না ঘর থেকে আগুন লেগে আগুনের লেলিহান শিখা বাড়ীর অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে পড়ে । এসময় পাঁচটি বসতঘর সম্পন্ন পুড়ে যায় । অগ্নিকান্ডে প্রায় ২০লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় । এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় সুজানগরে ৫টি ঘর-বাড়ি সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, সুজানগরের তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের ক্রোড়দুলিয়া গ্রামে এক অগ্নিকাণ্ডে ৩টি পরিবারের ৬টি ঘর-বাড়ি এবং ঘরে থাকা মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এতে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে এই অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। জানা যায়, ওই গ্রামের আবুল কাশেম শেখের চুলার আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন নিমিষের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলা এই অগ্নিকাণ্ডে কাশেম এবং তার প্রতিবেশী মাবুদ ও হামিদের বসত ও রান্নাঘরসহ ৫টি টিনের ঘর-বাড়ি এবং ঘরে থাকা ধান, চাল এবং নগদ টাকাসহ অন্য মালামাল ভস্মিভূত হয়। খবর পেয়ে সুজানগর দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবার প্রতি ৩ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। এছাড়া তাঁতীবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রউফ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৫ হাজার টাকা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। বাগমারায় প্রতিবন্ধীর বাড়িতে দুর্বৃত্তের আগুন বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, বাগমারায় গভীর রাতে এক ভূমিহীন ও শারীরিক প্রতিবন্ধীর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের ঝাড়গ্রামের খুলুপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার খাজা ময়েন উদ্দিন তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঝারগ্রামের জাঙ্গালপাড়ায় ফুফা অহির উদ্দিনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। খাজা ময়েন উদ্দিন বাড়িতে ফিরে না আসায় বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। বাগমারা থানার উপ-পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনও কেউ আসেনি এবং লিখিত কোন অভিযোগও দাখিল করেনি। মতলবে দুর্বৃত্তদের আগুনে সিএনজি মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লবাইরকান্দি গ্রামের শরীফ প্রধানের সিএনজি (অটোরিকশা) আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে শরীফ প্রধানের বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে রাস্তায় থাকা সিএনজিতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে সিএনজিটি মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে সুদে টাকা এনে সিএনজিটি কেনা হয়েছিল বলে চালাক জানান। সুদের টাকা পরিশোধ না করতেই দুর্বৃত্তের আগুনে তার ভবিষ্যত্ পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। শরীফ এখন অসহায় জীবন-যাপন করছে।