টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

টিকিটের পেছনে ছুটছে দর্শক

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫২
আগামী মার্চে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট। এনসিসি ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংকের সহযোগিতায় গতকাল থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাগতিক দেশ। তাই টিকিটের চাহিদা বাংলাদেশের ম্যাচ নিয়ে। তরুণ দর্শকরাই টিকিটের সবচেয়ে বেশি ক্রেতা। ঘরের মাঠে খেলা তাই টিকিট পেতেই হবে। বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা দ্বিতীয় পছন্দ তুলে নিয়েছেন ভারত এবং পাকিস্তান ম্যাচকে। ২১ মার্চ প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা। এই ম্যাচের টিকিট নাকি প্রায় শেস হয়ে গেছে। এছাড়াও সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের জন্য তারুণ্যের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যাংকগুলোতে পুলিশি ব্যবস্থা ছিল। শনিবার, দিন পেরিয়ে রাত তখন সাড়ে ১২টা। এনসিসি গুলশান ব্রাঞ্চের সামনে উপচেপড়া ভিড়। অভিজাত এলাকায় হঠাত্ ভিড় দেখে আশ-পাশের সুরম্য ভবন থেকে উঁকি দিচ্ছিলেন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। সকালে ব্যাংক খুললেই যেন প্রথম টিকিটটি পাওয়া যায়। তার জন্য মতিঝিলে ভিড় শুরু হয় আগের রাতে। এনসিসির মতিঝিল শাখার সামনে শত শত তরুণদের ভিড় জমার খবর পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ ছুটে গিয়েছিলেন ব্যাংকের সামনে। অগ্রণী ব্যাংকের হাটখোলা শাখায় হাজার খানেক তরুণ। বিছানাপত্র এনে সবাই ফুটপাতে শুয়ে পড়েছেন। কেউ ঘুমিয়ে আবার কেউ কার্ড খেলে সময় কাটাচ্ছিলেন। অন্য পাশে ছিল শচিনের বিদায় নিয়ে আলোচনায় মগ্ন। গোল বাঁধলো সকালে। মাত্র ৫০ জনকে টিকিট দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। তাতেই ক্ষুব্ধ তরুণরা। গেটে ঝুলতে থাকা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছেন তারা। সবার একই কথা টিকিট নিয়ে লুকোচুরি হচ্ছে। ব্যাংক বলছে টিকিট আমাদের এখতিয়ারে নেই। টিকিট বিতরণ শুরু রবিবার সকালে। আর শুক্রবার দুপুরে অগ্রণী ব্যাংকের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাইম। তারা কয়েকজন তরুণ চাহিদা মতো টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন দোতলায় ব্যাংকের গেটের সামনে। বলছিলেন, একজন প্রতিটি ম্যাচের চারটি করে টিকিট পাবে। কিন্তু ব্যাংক থেকে সব মিলিয়ে দেয়া হচ্ছে ১০টি।’ ৫০ জনকে টিকিট দেয়া হবে। আর অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় জনসংযোগ কর্মকর্তা কবীর আহমেদ জানিয়েছেন, একজন চাইলে ১০টি খেলার ৪টি করে ৪০টি টিকিট পাবেন।’ টিকিট সংশ্লিষ্ট বিসিবি’র এক কর্মকর্তা জানান, পুরো টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচের ৪টি করে টিকিট দেয়ার বিধান রয়েছে। কেন ১০টি করে দেয়া হবে।’ ব্যবসা করেন মহসীন হোসেন জয়, কবি নজরুলের ছাত্র লেলিন, অতীশ দীপঙ্করের ছাত্র সুমন, ঢাকা কলেজের ছাত্র সজল, সবাই ক্ষুব্ধ ব্যাংকের উপর। ক্ষোভ প্রকাশ করার পর টিকিট বিরতণের কাজে নিয়োজিত নাসির উদ্দিন প্রান্ত ক্ষুব্ধ তরুণদের জানালেন, ১২টি করে টিকিট দেয়া হবে।’ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ফরিদুল ইসলাম বলছেন, আমরা টিকিট বিক্রি করছি না। আমাদের ব্যাংকের ভেতরে টিকিট এজেন্ট কাজ করছে। আমরা জায়গা দিয়েছি। তাদের বিক্রিত টিকিটের টাকা আমরা জমা নেব।’ একই কথা এনসিসি ব্যাংকের মতিঝিল শাখার ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোঃ মাসুমের। তিনি বলেন, দর্শকরা আমাদের শাখায় এসে টিকিট নিচ্ছে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ পরিচালনা করছে নির্ধারিত ব্যক্তিরা। টিকিট বিক্রির সাথে আমরা সরাসরি জড়িত না। আমরা শুধু টিকিট থেকে বিক্রিত অর্থ জমা নেব।’ যৌথভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের টিকিট বাংলাদেশে মার্কেটিং করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বিগ-ট্রি এন্টারটেইনমেন্ট এবং বাংলাদেশি পার্টনার এটট্রিবিট টেকনোলজি এন্ড সলিউশন্স লিমিটেড। অগ্রণী ব্যাংক এবং এনসিসি ব্যাংকের শাখায় ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৭৫০ টাকা মূল্যের সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হলেও দুপুরের আগেই টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে ব্যাংকের ভেতর থেকে দর্শকদের জানানো হয়। টিকিট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনলাইনে অনেকেই টিকিট কিনেছেন বলে কিছুটা চাপ ছিল। সার্ভারে সমস্যা থাকায় ভোগান্তি হয়েছে দর্শকদের। আশা করি, এটা আর হবে না। একমাস টিকিট বিক্রি হবে। এর আগে শেষ হয়ে গেলে বিক্রি বন্ধ।