আবেগে ভাসছে বিশ্ব

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৩
ভক্তদের উপচে পড়া ভালবাসা, শচিন...শচিন চিত্কারে প্রকম্পিত ওয়াংখেড়ে আর বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে শচিন টেন্ডুলকারের বিদায়ী ভাষণ। গত শনিবার মুম্বাইয়ে আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে রোমঞ্চকর অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো এভাবেই। ব্যাটিং জাদুকরের রাজসিক এই বিদায়কে ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে অভূতপূর্ব বলে মনে করছে বিশ্বের প্রভাবশালী সব দৈনিকগুলো। আর সেখানে ক্রিকেটার টেন্ডুলকারের পাশাপাশি মূর্তমান হয়ে উঠেছেন ব্যক্তি টেন্ডুলকারও। বিখ্যাত ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি টেলিগ্রাফ শচিনের এই বিদায় আয়োজনকে ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে জানিয়েছে, ‘ক্রীড়া বিশ্বে বিদায়ের এমন ঘটনা সত্যিই আগে কখনো দেখা যায়নি। এটা ছিল এমন একটি আয়োজন যা কিনা কোটি কোটি মানুষকে একই সঙ্গে আনন্দিত এবং ব্যথিত করতে পারে।’ টেলিগ্রাফের পাতায় উঠে এসেছে টেন্ডুলকারের বিদায়ী ভাষণও, ‘নিজের মাঠে শেষ টেস্টে খেলা টেন্ডুলকারের ইনিংসটি তার জীবনের অন্যতম সেরা একটি ইনিংস হিসেবেই থাকবে। পার্থক্য কেবল ব্যাটের বদলে এদিন তার হাতে ছিল মাইক্রোফোন।’ মাঠের অসাধারণ সব কীর্তি আর মাঠের বাইরে সাধারণ এক জীবনে বরাবরই বিনয় আর ভদ্রতার পরাকাষ্ঠা ব্যাটিং জিনিয়াসের ক্রিকেটের বাইরের পরিচয়কেও তুলে ধরেছে তারা। চব্বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অগণিত ভক্তের প্রত্যাশা আর আবেগের চাপ শচিন সামলেছেন প্রায় নির্বিকার ভঙ্গিতেই। শেষ টেস্টের শেষ বেলায়ও ব্যতিক্রম হয়নি তার, ‘ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোনেই কেবল দেখা যাচ্ছিল মানুষের অশ্রুসজল চোখ। আন্দাজ করুন তো- আবেগের এক মহামঞ্চে শান্ত আর উত্তেজনাহীন ছিলেন কে? মাইক্রোফোন হাতে তাকে অনেকটা অনুরোধই করতে হলো, ‘বন্ধুরা দয়া করে আমার কথা শুনুন। আপনি হয়তো ভয় পাচ্ছিলেন শেষ পর্যন্ত তিনি ভেঙে পড়বেন; কিন্তু না, পিচে আবেগকে দারুণ ভাবেই সামলে নিলেন তিনি। ছোটখাট মানুষটি শেষবারের মতো ঘাসের উপর দাঁড়িয়ে চাপ আর আবেগের আঘাতগুলোকে ফুলে পরিণত করে যাচ্ছিলেন।’ স্টেডিয়াম তো বটেই পুরো বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজারো ভক্তকে বিদায় বেলায় যথোপযুক্ত উপহার দিয়েছেন জানিয়ে তারা আরো বলেন, ‘অদ্ভুত সুন্দর! তাদেরকে দেয়া শচিনের শেষ উপহারটা ছিল দারুণ। মুম্বাইয়ে অবিস্মরণীয় এই দুপুরে ৩২,০০০ দর্শক তাদের সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে শেষবারের মতো চিত্কার করছে শচিন...শচিন। তারা যেন কাশ্মির থেকে কন্যাকুমারি পর্যন্ত তাদের এই চিত্কার ছড়িয়ে দিতে চাইছিল।’ আরেক বিখ্যাত দৈনিক গার্ডিয়ান বলছে, ‘তিনি এমন একজন যে কিনা একটি ক্রিকেটার প্রজন্মকে শিখিয়েছেন কিভাবে এই পথে চলতে হয়। কখনো কখনো মনে হয়েছে খেলাটা এখানে গৌন। শত কোটি মানুষের এক দেশে সমস্ত কিছুই যেন ছিল বিশেষ এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে। আর চল্লিশ বছর বয়সী টেন্ডুলকার যেন বিদায় লগ্নে সেই সব মানুষের মনের কথাটাই বললেন, “বিশ্বাস করা কঠিন বিস্ময়কর সেই যাত্রা আজই শেষ হতে চলেছে।’ এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পত্রিকা সিডনি মর্নিং হেরাল্ড বলেছে, ‘সবচেয়ে বেশি রান আর সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিসহ বহু বছর ক্রিকেটে রাজত্ব করার পর ক্রিকেটে শচিন টেন্ডুলকারের দিন শেষ হলো।’ আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন বলেছে, ‘চব্বিশ বছর ধরে ব্যাটিংয়ের মানদণ্ড সৃষ্টি করার পর অবশেষে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন শচিন টেন্ডুলকার।’