আইভরি কোস্ট ও নাইজেরিয়া আগামী বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। নাইজেরিয়া আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখালো। এ মহাদেশ থেকে আরো তিনটি দল চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। দিদিয়ের দ্রগবার আইভরি কোস্ট শনিবার রাতে নিরপেক্ষ ভেন্যু মরক্কোর ক্যাসাব্লাংকায় সেনেগালের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে। এরই সুবাদে দুই পর্ব মিলিয়ে ৪-২ গোলে জিতলো দ্রগবার দল।
এ নিয়ে আইভরি কোস্ট টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠলো। আইভরি কোস্ট সমর্থকদের অবশ্য এজন্য উত্তেজনার আগুনে পুড়তে হয়েছে। কেননা সেনেগাল ৭৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দ্রগবার ফাউল থেকেই পেনাল্টি পায় সেনেগাল। আরেকটি গোল পেলে ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট সেনেগালই যেতো ব্রাজিলে। কিন্তু ইনজুরি টাইমে সলোমন কালুর সমতাসূচক গোলে সৌভাগ্যের দেখা পায় আইভরি কোস্ট।
বিশ্বকাপের আগের দুটি আসরে ২০০৬ ও ২০১০ সালে ‘এলিফেন্ট’ হিসেবে খ্যাত আফ্রিকার এ ফুটবল দলটি কঠিন গ্রুপে পড়ার কারণে বেশিদূর যেতে পারেনি। ৬ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের ড্রয়ের সময় তাই কায়মনোবাক্যে আশা করবে যেন সহজ গ্রুপে পড়ে।
দ্রগবারা বাছাই পর্বে অপরাজিত থাকলো। খেলাটি সেনেগালের ডাকারেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতবছর আইভরি কোস্টের সাথে আফ্রিকান নেশন্স কাপের বাছাইয়ের খেলাটিতে দাঙ্গা হওয়ায় ফিরতি পর্বের খেলাটিকে মরক্কোর এই শহরে সরিয়ে নেয়া হয়।
নাইজেরিয়া নিজ মাঠে ভিক্টর মোজেস ও বদলি খেলোয়াড় ভিক্টর ওবিন্নার গোলে ইথিওপিয়াকে হারিয়ে একই কৃতিত্ব দেখায়। বর্তমান আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা এ নিয়ে পঞ্চমবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠলো।
সুপার ঈগলদের কোচ স্টিফেন কেশি এ জয়ে বিরল এক কৃতিত্বের ভাগিদার হলেন। কেননা তিনি হলেন প্রথম আফ্রিকান যিনি প্রথমে খেলোয়াড় ও পরে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখালেন। নাইজেরিয়া ১৯৯৩ সালের ৮ অক্টোবর আলজেরিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করার সময় তিনিই ছিলেন দলটির অধিনায়ক। এর ২০ বছর পর কেশি কোচ হিসেবে একই উদাহরণ গড়লেন। এর আগে আফ্রিকান নেশন্স কাপেও খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে একই নজির গড়েছিলেন তিনি।
কেশি অবশ্য নিজের ব্যক্তিগত রেকর্ডকে অত বড় করে দেখছেন না। তার নজর আরো বড় কিছুর দিকে, ‘এটা কোন ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এটা আমাদের দেশের ব্যাপার। আমাদের লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপ পর্যায়ে প্রত্যাবর্তন এবং এমন কিছু করা যা আমাদের সমর্থকদের উদযাপনের উপলক্ষ এনে দেয়।’
গতকাল রবিবার রাতে ক্যামেরুন নিজ মাঠে তিউনিসিয়ার সাথে খেলেছে। অপরদিকে বাছাই পর্বের শেষ দিনে মঙ্গলবার বুরকিনা ফাসো ও আলজেরিয়া এবং মিসর-ঘানা অবশিষ্ট তিনটি আসনের জন্য লড়বে। সুপার ঈগলসদের আগের অংশগ্রহণগুলো ছিল ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ সালের আসরে।
উল্লেখ্য, ৩২টি দেশ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, বসনিয়া হারজেগোবিনা, ব্রাজিল (স্বাগতিক হিসেবে), চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডোর, ইংল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, হন্ডুরাস, ইরান, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে রেখেছে।
