এ কোন সর্বনাশের পথে এগুচ্ছে স্বদেশ? পত্রিকার পাতা খুললেই, টিভি চ্যানেল ধরলেই শুধু জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিদগ্ধ স্বজনদের আহাজারি ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর দেখতে ও শুনতে হচ্ছে আমাদের। এ কোন অভিশপ্ত দেশে বাস করছি আমরা। এই তো সেদিনের ঘটনা (১৪ নভেম্বর) একটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ছবিসহ সংবাদ দেখে বুকটা কেঁপে উঠলো। বাবার পোড়া বুকে কী নিশ্চিন্তেই না ঘুমাচ্ছে ১৪ মাসের মরিয়ম। ব্যান্ডেজ বাঁধা পোড়া হাতটি যেন সন্তানের মাথার উপর ছায়া হয়ে আছে। ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা খবির উদ্দিনের শরীর পুড়িয়ে দিয়েছে সহিংস রাজনীতির আগুন। আসলে আমাদের ১৬ কোটি মানুষেরই পোড়া কপাল। তা না হলে কেন আমাদের এতোসব বেদনাদায়ক ও মর্মস্পর্শী ছবি প্রায় প্রতিদিনই দেখতে হবে?
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল ক্ষমতার লড়াইয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর শিকার হচ্ছে দেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ। ধ্বংস হচ্ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, ধ্বংস হচ্ছে অর্থনীতি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে দেশটি যতোটুকু অগ্রসর হয়েছিল, গেল কয়েক বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংস হরতালে তা ভেস্তে যাচ্ছে। এখন বাংলাদেশ চিহ্নিত হচ্ছে একটি উগ্রজঙ্গিবাদী, রাজনৈতিকভাবে অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল ও সহিংস দেশ হিসেবে। ইউরোপ, আমেরিকা, ব্রিটেন, চীন ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা আমাদের অকৃত্রিম শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দুই প্রধান দলকে চলমান রাজনীতি সংকট, সহিংস, সংঘাত ও সংঘর্ষ পরিহার করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য বার বার তাগিদ দিয়ে আসছেন। কিন্তু দুই প্রধান দল তাদের নিজস্ব অবস্থানে অনঢ়। দেশের স্বার্থের কথা, জনগণের দুর্ভোগের কথা, দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছে যাওয়ার কথা, তারা মোটেই কর্ণপাত করছে না। ক্ষমতার মোহে, ক্ষমতার মসনদে কে কীভাবে যেতে পারবেন, সেটাই যেন এখন তাদের কাছে মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খবরে প্রকাশ যে, গত ২৬ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর, ১৯ দিনের মধ্যে ১০ দিনই হরতালের সহিংসতায় কারণে সারাদেশে নিহত হয়েছে ২৬ জন, আহত হয়েছে এক হাজারের বেশি। পেট্রোল বোমা ও অগ্নিসংযোগের দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়েছে ৭৬ জন। ঢাকা লক্ষ্মীবাজারে একটি লেগুনায় পেট্রোল বোমায় পুড়ে গেছে ৭ পরিবার, ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে কয়েকজন। গত এক মাসে দশ হাজার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় এক হাজার। ঢাকায় শিবিরের একটি মেস থেকে থরে থরে সাজানো ৩৫০টি ককটেল উদ্ধারসহ বোমা বানানোর বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এসবই মারাত্মক নাশকতামূলক কাজ।
এদিকে চলমান হরতাল ও সহিংসতায় দেশের অর্থনীতির চিত্র একেবারেই ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। উদীয়মান ব্যাঘ্র ও গোল্ডম্যান সেকস কর্তৃক চিহ্নিত দেশের অন্যতম এগারটি ব্রিক এখন অনেকের কাছে করুণার পাত্র। অস্থিতিশীল ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত একটি সংঘাত সংকুল দেশ। বিদেশি বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে গত এক বছরে। বৈদেশিক রেমিট্যান্সের প্রবাহও কমে গেছে। দেশের ভাবমূর্তি গভীর সংকটে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে নতুনভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পেলে নতুনভাবে কর্মসংস্থানের পথ হবে রুদ্ধ। ফলে বেকার সমস্যার রাহু নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরো তীব্রতর করবে।
জানা গেছে যে, এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় বিশ হাজার কোটি টাকা। ক্ষণে ক্ষণে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের প্রায় ১৩ শতাংশ হয়ে পড়েছে খেলাপি। অনুরূপভাবে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভাল নেই। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই গত বছর জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ের চেয়ে এই বছর জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ মুনাফা হারিয়েছে। এ বছর জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পিরিয়ড পুরো এনবিএফআই খাতের আয় কমেছে ২৪৯ কোটি টাকা, যা গত বছর একই পিরিয়ডে ছিল ২৬৯ কোটি টাকা। এই সেক্টর থেকে বলা হয়েছে যে মূলত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তাদের ব্যবসায় এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমনিতেই দেশের ব্যাংকিং খাতের উচ্চ সুদের চাপে ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়েছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব। ঘন ঘন হরতাল ও সহিংসতার কারণে দোকানপাট খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। শিল্প প্রতিষ্ঠান ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবসা খাত ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। এর উপরে কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ অনেকের পক্ষেই পরিচালনা করা সম্ভবপর হচ্ছে না। অন্যদিকে ব্যাংকের ঋণের উপর সুদারোপ নিয়মিত চলছে। এতে দেশের ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকসহ শিল্পপতি সমাজ হচ্ছেন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। একটি দৈনিক জানিয়েছে যে, শুধু চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার পণ্য। টানা হরতালে ভেঙ্গে পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা। চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য বোঝাই সাড়ে ২৬ হাজার কন্টেইনার আটকা পড়ে আছে। এছাড়াও মংলা, বেনাপোল ও বুড়িমারিসহ বিভিন্ন বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় পড়ে আছে হাজার হাজার টন আমদানি পণ্য। এগুলো খালাস না হওয়ায় আমদানিকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় শাক-সবজি, ফলমূল ইত্যাদি উত্পাদন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। শুধু সড়ক পরিবহন খাতে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে ক্ষতি হয়েছে ২৫০০ কোটি টাকা। চলাচল বন্ধ রেখেও ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না পরিবহন মালিকরা। নিরাপদে সরিয়ে রাখা বিলাসবহুল গাড়িতেও আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে হরতালকারীরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প। কারখানা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না রপ্তানির জন্য তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য সামগ্রী। সাম্প্রতিককালে পণ্য বোঝাই লরি, কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শত শত কোটি টাকার পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সাথে ঘটছে পণ্য বোঝাই কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনা। এসব মিলে শুধু তৈরি পোশাক শিল্পে দৈনিক উত্পাদন ক্ষতির পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকার মতো।
রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্ডার বাতিল করে বিদেশি ক্রেতারা চলে যাচ্ছেন অন্য দেশে। ক্রেতারা একবার চলে গেলে তাদের ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে যখন দেশে ৬০ ঘন্টার হরতাল চলছিল তখন পাকিস্তান ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন থেকে পেয়ে গেল তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত জিএসপি সুবিধা। ফলে ইউরোপে বাংলাদেশের প্রতিযোগী পাকিস্তানের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। তাই ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে পাকিস্তানে তৈরি পোশাক পণ্য ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের মতো শুল্ক সুবিধা পেতে যাচ্ছে। এতে ইউরোপে বাংলাদেশের আরেকটি প্রতিযোগী বাড়লো। জানা গেছে যে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে। এর ফলে ভারতও পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বৈকি! সুতরাং বাংলাদেশের জন্য এগুলো মোটেই সুখকর সংবাদ নয়। বাংলাদেশে যখন একের পর এক হরতাল ও সহিংসতা করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে তখন প্রতিবেশী দেশগুলো শনৈঃ শনৈঃ করে এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও দীর্ঘায়িত সহিংস হরতাল ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় সর্বশেষ অক্টোবরে ৩৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব কম হয়েছে নির্ধারিত টার্গেট থেকে। রাজনৈতিক সহিংসতা সংস্কৃতি বন্ধ না হলে দেশের অর্থনীতি যে কি ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছবে তা সহজেই অনুমেয়। এমনিতেই পোশাক শিল্পকে নিয়ে চলছে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। যার মিল পাওয়া যায় স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের পাট শিল্প ও এর গুদামগুলোতে অহরহ আগুন ও জ্বালাও-পোড়াও এর ঘটনার সাথে। পাট শিল্পকে নানাভাবে ছলে-বলে-কৌশলে ধ্বংস করা হয়েছে। এবার পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে পারলে তাদের বহুদিনের প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ যতো বেশি দুর্বল হবে তাদের স্বার্থ ততো বেশি হাসিল হবে। আমাদের রাজনীতিবিদরা কৌটিল্যের হাজার বছরের সেই কুটিল রাজনীতির নীল নকশার চক্রান্ত অনুধাবন করতে পারছেন কি-না জানি না।
সত্য বলতে কি। অর্থনীতির এমন কোন শাখা-প্রশাখা নেই যা চলমান অস্থিতিশীল রাজনীতি ও সহিংস হরতালের কারণে আক্রান্ত হয় নাই। খবরে প্রকাশ যে হরতালের কারণে দেশের পর্যটন শিল্প বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এ বছর এ শিল্পে প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করা হয়েছিল। প্রবৃদ্ধি তো দূরের কথা এ শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত সকলেরই এখন মাথায় হাত। কক্সবাজারের প্রায় ৯৫ শতাংশ হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউজের বুকিং বাতিল করা হয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে কক্সবাজারে যাওয়া এবং আসার অনিশ্চয়তা। সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে যাওয়ার চেয়ে নিরাপদে ফিরে আসার গ্যারান্টি। এ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না। ফলে এ ব্যবসার অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক। এ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লে-অফ করা হয়েছে ব্যবসায় মারাত্মক মন্দাজনিত কারণে। এ খবর পরিবেশন করেছে ডেইলি স্টার পত্রিকাটি। শুধু তাই নয় পত্রিকাটির ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২ লাখ দুগ্ধ খামার মিল্কভিটা, আড়ং ও প্রাণের মতো প্রতিষ্ঠান দুধ সরবরাহ করতে পারছে না। প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ লিটার দুধ হয় নষ্ট হওয়ার কারণে ফেলে দিতে হচ্ছে নয়তো বা নামমাত্র মূল্যে লোকসান দিয়ে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। এর সার্বিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দুগ্ধ শিল্পের উপর। মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন যে ঘন ঘন হরতালজনিত কারণে কোম্পানিকে এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। লোকসানের খাতে পিছিয়ে নেই দেশের অন্যতম উদীয়মান প্লাস্টিক শিল্প। ১৮০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভারের এই শিল্পে বর্তমানে দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে ৫ কোটি টাকার বেশি। এই খাতে বর্তমানে ৩ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪শটি রপ্তানিমুখী। দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা ও সহিংস হরতালের কারণে এমন কোন ব্যবসা-বাণিজ্য নেই যা এর ক্ষতির শিকার হয়নি।
সর্বশেষ বিরোধী দলীয় নেত্রীর সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন আলাপ এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা যে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে দেশের মানুষের শান্তিই চান বেশি, যা দেশবাসীকে অনেকটা আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা নিয়ে যে বাক-বিতণ্ডা ও ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে আশাকরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক প্রগাঢ় বলে তাঁর ইতি টানবেন এবং দেশে সুস্থ রাজনৈতিক আবহাওয়া সৃষ্টির লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ইতিপূর্বে তিনি বলেছেন যে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। আমরা গভীর আগ্রহে সেই শুভদিনের অপেক্ষায় রইলাম যাতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্তের ফলে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশ্বস্ত হয়। যাতে বাংলাদেশ আবার বিশ্বের দরবারে একটি স্থিতিশীল ও উদীয়মান দেশ হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে এবং ২০২১ সালের আগেই একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে।
লেখক :ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
[email protected]
