প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক লিনু

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ২১:০৯
এতো দিন জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সাধারণ সম্পাদক পদে পুরুষরাই দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারই প্রথম কোনো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে নারী দায়িত্ব পেলেন। তিনি হচ্ছেন টিটির তারকা জোবেরা রহমান লিনু। বাংলাদেশ টেবিলটেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে রবিবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন লিনু। এক সময় টেবিলটেনিস খেলাটি দেখার জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেসিয়ামে দর্শকদের ভিড় ছিল। বয়সে কম হলেও লিনুর প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ছিল প্রচুর। টিটিই লিনুকে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায় তুলে দিয়েছে। টিটি খেলাটির জনপ্রিয়তা এখন নিচের দিকে ধাবমান। টিটিতে বিতর্ক লেগেই থাকে। খেলোয়াড় কোচ কর্মকর্তাদের মধ্যে কলহ নতুন কিছু নয়। টেবিলের উপর ছোট বলের নান্দিনিক খেলাটি যতটা এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। পরস্পর বিরোধিতার কারণে বরং কমে গেছে। পাড়া-মহল্লার ক্লাব কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেবিলটেনিস খেলাটাকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় না। একারণে দিনে দিনে খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া অনেকটাই বন্ধ প্রায়। শখ করে যারা আসছেন তারা খুব বেশি সময় দিতে চান না। বিবর্ণ টিটি খেলাটিকে আবার রং দিয়ে সাজিয়ে তুলতে চান লিনু। এডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিনুর প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে স্কুল পর্যায়ের খেলাটাকে জাগিয়ে তোলা। যেখান থেকে খেলোয়াড় তৈরির একটা পাইপ লাইন তৈরি হতে পারে। এটিকে প্রাণ দিতে না পারলে খেলোয়াড় উঠে আসবে না বলে মনে করছেন তিনি। খেলোয়াড়দের সাথে ফেডারেশন কর্মকর্তাদের দূরত্বের কথা কে না জানে। এটি আর চলতে দেয়া যায় না। লিনু চাইছেন এর একটা সমাধান হোক। লিনু খেলোয়াড়দের ডাকার আগেই খেলোয়াড়রাই লিনুর সাথে আলোচনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার তাদের মধ্যে আলোচনা হবে। লিনু সমস্যাগুলো শুনবেন। তারা কি চায় জানতে চাইবেন। নিজে খেলোয়াড় ছিলেন বলে তার কাছে খেলোয়াড়দের মর্যাদা আলাদা। তার মানে এই নয় কারো অন্যায্য দাবি পূরণ করতে অন্যকে ঠকাবেন। লিনু বলেছেন, প্লেয়াররা আমাকে ডেকেছেন। আমি তাদের কথা শুনব। তাদের চাওয়া শুনব। তিনি আরো বলেন, আমি সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারব না। ১ ডিসেম্বর লিনুর প্রথম সভা। একটা কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনে টিটির গ্ল্যামার লিনু। দায়িত্ব নেয়ায় তার প্রতি প্রত্যাশাটাও বেড়ে গেছে সবার। এই টিটি তারকা বলছেন, আমি যদি বছরে পাঁচ থেকে ছয়টা টুর্নামেন্ট করতে পারি। তাহলেই আমি সন্তুষ্ট। বিজয় দিবস টুর্নামেন্ট, ফেডারেশন কাপ আন্তঃস্কুল টুর্নামেন্ট, লিগ এবং জাতীয় টেবিলটেনিস করাটা আমার আসল লক্ষ্য। যেন দেড় দুই মাস পর পর খেলোয়াড়রা খেলতে পারেন। আর কী করতে চান ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বছরে তিন চারটা টুর্নামেন্টের জন্য বিদেশে দল পাঠাতে পারব না। এক বছর প্রশিক্ষণ, পরের বছর বিদেশে যাবে দল। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বটি খুবই কঠিন। এখানে ভালো কাজ করেও সাধুবাদ পাওয়া কঠিন। তার উপর লিনু একজন নারী সাধারণ সম্পাদক। তাকে পা ফেলতে হবে অনেক বুঝে শুনে। কারণ লিনু দায়িত্ব পাওয়ায় অনেকেই তার ভুল খুঁজে বের করে বিব্রত করার চেষ্টা করবেন। সব বাধা পেরিয়ে লিনু কতটা উতরে যাবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। তিনি চাইছেন সবার সহযোগিতা নিয়ে ফেডারেশন পরিচালনা করতে।