ইংলিশরা অ্যাশেজ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১০
অ্যাশেজের ১৩১ বছরের ইতিহাসে একই বছর দু’টি সিরিজের দ্বিতীয় আসর বসছে অস্ট্রেলিয়ায়। আগামী বৃহস্পতিবার ব্রিসবেনে শুরু হচ্ছে সিরিজটি। এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে টানা চারটি শিরোপা জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ইংলিশরা। নিজেদের মাটিতে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়টি এখনো স্মৃতির পাতায় জ্বল জ্বল করছে ইংলিশদের, যা তাদেরকে উজ্জীবিতও করছে। ফলে ১৯৭০ সালের পর যে কোন সময়ের তুলনায় অধিক আত্মবিশ্বাস নিয়েই অস্ট্রেলিয়া সফর করছে তারা। অপরাজিত থেকেই বছরটি কাটিয়ে দেয়া ইংলিশ দল ২০১০-১১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরটিও শেষ করেছিল খোশ মেজাজ দিয়েই। এসময় তারা স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে। ইংলিশ ক্রিকেটের ২৪ বছরের ইতিহাসে এটি ছিল বিদেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের প্রথম সিরিজ জয়। ওই সফলতাটিই নিজেদের মাটিতে পরবর্তী সিরিজে প্রেরণা যুগিয়েছে তাদের। এসময় তারা শুধু সিরিজ জয়ই করেনি। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তারা ব্যাটিংয়েও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিয়েছে। স্টুয়ার্ট ব্রড গত সপ্তাহেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার মনে হয় ইংলিশ কন্ডিশনের তুলনায় নিজেদের মাটিতে আরো বেশি সাবলীল হবে অস্ট্রেলীয়রা। এখানকার স্লে¬া ও টার্নিং কন্ডিশনের ব্যাপারে আমাদের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এটি আমাদের জন্য রান তুলতে কষ্টকর হবে। বিশেষ করে ছেলেদের সাবলীলভাবে রান সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে। তবে আমাদের খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে ভাল করার জন্য মুখিয়ে আছে।’ এখানে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নয় ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই পরাজিত এবং দু’টিতে ড্র করা সত্ত্বেও তারা অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে ক্রমেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠছে। স্বাগতিকরা মনে করেন রানের হিসেব ধরলে ইংল্যান্ডের মাটিতে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই হয়েছে সমান তালেই। কোন কোন সময় তাদের ব্যাটসম্যানরা অপেক্ষাকৃত বেশি খাপ খাইয়েছিল। তাদের পেসাররা যদি আর একটু বেশি জোরদার আক্রমণ চালাতে পারতো তাহলে তারা ইংলিশদের সত্যিকারভাবেই চাপে ফেলতে পারতো। এসময় তাদের প্রস্তুতিতেও একটু ব্যাঘাত ঘটেছিল। আর কোচ মিকি আর্থারকে বরখাস্ত করার কারণে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাদের বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সে সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ডেভিড ওয়ার্নার বিতর্ক। একটি পানশালায় ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার প্রতিপক্ষ ইংলিশ ক্রিকেটার জো রুটকে ঘুষি মেরে ফেলে দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে রায়ান হ্যারিসের পারফর্মেন্স দলকে উত্সাহ যুগিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার ইনজুরি অস্ট্রেলীয় শিবিরকে উপহার দেয় হতাশা। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি যে এখন আমরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। এ পর্যায়ে এসে আপনি সব সময় চাপের মধ্যেই থাকবেন। সেই সঙ্গে আগের কয়েকটি সিরিজে জিততে না পারাটা ওই চাপকে আরো বাড়াবে। তবে আমরা যদি নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে জয় লাভ করবোই। আমাদের নিজেদের মধ্যে ওই আত্মবিশ্বাসটুকু রয়েছে।’ এদিকে মিচেল জনসনের ইনজুরি কিছুটা বেকায়দায় ফেলেছে অস্ট্রেলিয়াকে। বিগত চার বছর তার নিজের পারফর্মেন্সের কারণে ইংলিশ সমর্থক গোষ্ঠী ‘বার্মি আর্মি’ তাকে আদর্শ লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করেছিল।-বাসস