বিতর্ক জিইয়ে রেখে আবাহনীতে যোগ দেয়া ডিফেন্ডার নাসিরুল ইসলাম নাসিরকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে শেখ রাসেলের সাথে সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দেশ দিয়েছে বাফুফের প্লেয়ার্স স্ট্যান্ডিং কমিটি। শেখ রাসেলের নাসির এবার আবাহনীতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু শেখ রাসেল দাবি করেছে নাসির গত মৌসুমে পারিশ্রমিক নিলেও একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি ইনজুরির কারণে। কিন্তু নাসির এ বিষয়টি নিষ্পত্তি না করেই নাকি আবাহনীতে নাম লিখিয়েছেন।
নাসিরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বাফুফের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির কাছে জমা পড়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে নাসিরকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুরাহা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাফুফে। সোমবার রাতে বাফুফেতে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে শেখ রাসেলেরই স্ট্রাইকার মিঠুনকে আবাহনীর টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। মিঠুন নতুন মৌসুমে আবাহনীর জার্সি গায়ে খেলার জন্য চুক্তি চূড়ান্ত করে এক লাখ টাকা আগাম পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন। এরপর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আরো বড় পারিশ্রমিক পাওয়ার আশায় পুনরায় শেখ রাসেলে ফিরে গেছেন। আবাহনী ও শেখ রাসেল, দুই দলই এবার দলবদলে মিঠুনের নাম জমা দিয়েছে। এই নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি বলেছে মিঠুনকে টাকা ফেরত দিতে হবে। আর ভবিষ্যতে যেন এধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে তার জন্য সতর্ক করা কার হয়েছে মিঠুনকে। তবে ধারণা করা হচ্ছে আবাহনী যদি মিঠুনের দাবি ছেড়ে দেয় তাহলে শেখ রাসেলও নাসিরের দাবি ছেড়ে দিতে পারে।
মোহামেডান ছেড়ে আবাহনীতে যোগ দেয়া শরিফুল ইসলামের দাবি ছেড়ে দিয়েছে মোহামেডান।
এর আগে সমঝোতা হয়েছিল মোহামেডান এবং শেখ রাসেলের মধ্যে। কারণ দুই ক্লাব থেকে টাকা নিয়ে ফুটবলার জাহিদ, নাহিদুল, মামুন মিয়া এবং শাকিলকে নিয়ে জট বেঁধেছিল। যে কারণে ফুটবল খেলোয়াড়দের দলবদল কয়েকবার পিছিয়ে যায় এবং মৌসুমও পিছিয়ে যায় ঐ চার ফুটবলারের জন্য। নির্ধারিত সময়ে খেলা মাঠে গড়াতে পারেনি। শুধুমাত্র এই একটি ইস্যুর কারণে। শেষ পর্যন্ত মোহামেডান এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র সমঝোতার মাধ্যমে চার ফুটবলারকে ভাগ করে নিয়েছে। সমাধান হলেও এই বিষয়টি মোটেও ভালো ছিল না। একজন ফুটবলার কিভাবে এক ক্লাব থেকে ১০ লাখ টাকা আগাম পারিশ্রমিক নিয়েও অন্য ক্লাবে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন ? একটি ক্লাব জানছে তার পছন্দের খেলোয়াড়টি অন্য ক্লাব থেকে আগাম টাকা নিয়েছে। তারপরও দ্বিতীয় ক্লাবটিই বা কিভাবে জেনে শুনে লোভনীয় টাকার আমন্ত্রণ দিয়ে দলছুট করে নিয়ে আসেন। দুই ক্লাব মিলে যাওয়ায় কেউ শাস্তি পায়নি। অপরাধ করেও বেঁচে গেলেন খেলোয়াড়রা। শাস্তি হলো না ক্লাব খেলোয়াড় কারোই। বাফুফেও কোনো কথা বলেনি এ ব্যাপারে। খেলোয়াড়রা যে অপরাধ করল তার কোনো বিচারও হলো না। অপরাধ করেও যদি পার পাওয়া যায়, ভবিষ্যতে এমন অপরাধ যে কোনো ফুটবলার করবেন। বর্তমানে ফুটবলারদের মান অনেক নিচে। পায়ের কাজ বলতে কিছুই নেই। মাঠে দর্শক টানতে পারে না। অথচ পারিশ্রমিক শুধু বাড়ছেই। ৩৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে যাচ্ছেন একজন। সেভাবে খেলাটা দেখাতে পারছেন তিনি।
