দেশে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৯
আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে নির্বাচন কিভাবে হবে এই দায়িত্ব প্রধান দু্’দলকেই নিতে হবে। এজন্য এত মাতামাতি কেন? আমেরিকাতে তো নির্বাচন হল। সেখানে কি হরতাল হয়েছে ? মানুষ মরেছে ? গাড়ি ভাংচুর হয়েছে? কোন কিছুই হয়নি। কারণ তারা দেশকে ভালবাসে। তারা দেশের জন্য কাজ করে। আমাদের দেশের নেতা-নেত্রীরা নিজের পকেট ভর্তি করে ক্ষমতার জন্য। দেশকে প্রকৃত অর্থে যদি ভালবেসেই থাকেন তাহলে সব দলকে এগিয়ে আসতে হবে, ছাড় দিতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে, সমঝোতার মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে যেখানে সব দল স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। দেশে নিরপেক্ষ লোক পাওয়া যেন দুষ্কর। যে দলই নির্বাচিত হোক না কেন মেনে নেয়ার মত মন ও মানসিকতা থাকতে হবে। মো. কোরবান আলী অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ। নির্দলীয় কোন ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে নির্বাচন ক্ষমতার পালাবদলের অন্যতম মাধ্যম। সুষ্ঠু নির্বাচন জনগণের কাম্য। গণভোটের মাধ্যমে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। দেশের অধিকাংশ মানুষ যে ব্যবস্থার পক্ষে মতামত দেয় সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে। যদি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা ঠিক না হয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে সংঘাত অনিবার্য। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবশ্যই নির্দলীয় কোন ব্যক্তিকে সরকার প্রধান করতে হবে যাতে তিনি সকল প্রকার দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে পারেন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার জন্য অন্যতম আরেকটি শর্ত হলো প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। সকল দলের মতামত নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে। সকল দল অংশগ্রহণ না করে যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে দেশের মানুষের কাছে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, তেমনি দেশের বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। সরকারি দল ও বিরোধী দলকে অবশ্যই নির্বাচনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল সম্ভব। আ. রহমান নঈম অনার্স ৩য় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা-১২০৫। সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে সংবিধান মতে, জনগণ সকল শক্তির উত্স। কিন্তু জনতা আজ নেতাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কাছে জিম্মি। জনতার প্রত্যাশা আশু সমঝোতা। কিন্তু নেতারা তাদের দলীয় স্বার্থের লড়াইয়ে অনড়। দেশ এগুচ্ছে সংঘাতের দিকে। ক্ষতি হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। আমার মতে, দু’নেতার রূপরেখা কাটছাঁট করে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা দরকার। এ সরকারে সব দলের প্রতিনিধি থাকবে এবং নির্দলীয় প্রধানসহ নিরপেক্ষ ব্যক্তিরা থাকবেন। মাহদী হাসান লিখন শেরপুর সরকারি কলেজ বিবিএস (সম্মান), ব্যবস্থাপনা ফাইনাল ইয়ার। নির্বাচন কমিশন দ্বারাই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব আমার ভাবনায় নির্বাচন কমিশনই হতে পারে সহজ সমাধান। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচনকালীন সরকার অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে নামেই বলি না কেন তার প্রধান করে এবং তাকে সাহায্য করার জন্য অতিরিক্ত কাউন্সিলর নিয়োগ করে নির্বাচন-পূর্ব সময়ের জন্য দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান (বাংলাদেশ সংবিধান, সপ্তম ভাগ, অনু: ১১৮-১২৬), সেহেতু তার উপর আমরা আস্থা রাখতে পারি। তবে প্রশ্ন হচ্ছে এটি নিরপেক্ষ কি না? এক্ষেত্রে আমি বলব- এর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দুই নেত্রীর। এর অর্থ- তারাই ঠিক করবেন কে বা কারা হবেন কমিশনার ও কাউন্সিলর। মোদ্দাকথা সমাধান দুই নেত্রীর আলোচনা। একটি কথা দুই নেত্রীর সবসময় মনে রাখা উচিত বলে আমি মনে করি তা হলো এমন আচরণ করবেন না যাতে অন্য কেউ এসে গণতন্ত্রের মূল উত্পাটন করে দেয়। আলোচনা করুন। শান্ত হন। ছাড় দিন। দেশকে বাঁচান। মানুষকে মুক্তি দিন। মো. শরিফুল ইসলাম আইন বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।