জোহানেসবার্গের সকার সিটিতে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। সেই মাঠে ফেরাটা সুখের হলো না শিরোপধারীদের। স্পেনকে একমাত্র গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা।
মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলের পরাজয় বরণ করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। এই নিয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল স্প্যানিশরা।
৫৬ মিনিটে মিডফিল্ডার বার্নার্ড পারকারের একমাত্র গোলে স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত হয়। ভিক্টর ভালদেসের মাথার উপর দিয়ে চিপ করা পার্কারের বলটি স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররাও আটকাতে পারেনি। সকার সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির স্টপেজ টাইমে আলভারো আরবেলোয়া প্রায় সমতায় এনেই ফেলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের হাসি কেড়ে নিতে পারেনি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
চলতি বছরে নিজেদের শেষ ম্যাচে প্রত্যাশিত ফুটবল খেলতে পারেনি ভিসেন্তে দেল বস্কের শিষ্যরা। প্রাপ্য জয়ই পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা—অন্তত দেল বস্ক তাই মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘এদিন আমরা সামপ্রতিক সময়ে সব থেকে বাজে খেলেছি। আমি মনে করি এই হার আমাদের প্রাপ্য ছিল। আমরা ভালোভাবে শুরু করেছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা ভালো খেলতে শুরু করে এবং আমরা এই সময় তাদেরকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ দিয়েছি।’
কনফেডারেশন কাপের ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হবার পাঁচ মাস পরে এই হতাশাজনক পরাজয় বরণ করতে হলো লা রোজাদের। ম্যাচ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ গর্ডন ইগেসুন্দে বলেছেন, ‘এটা সত্যিই দারুণ একটি ম্যাচ ছিল। এই ফলাফলে আমরা বিস্মিত। খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত খেলেছে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে খেলতে না পারার পরে এই জয়টা সমর্থকদের জন্য খুবই জরুরি ছিল।’
ম্যাচ শুরুর সাত মিনিটের মধ্যেই স্প্যানিশ তারকা ফরোয়ার্ড ডেভিড ভিয়ার দুইবার স্বাগতিকদের জালে বল জড়ালেও সহকারী রেফারি দুইবারই অফ সাইডের কারণে তা বাতিল করে দেন। ম্যাচের শুরুর দিকে বলের পজিশনের দিক থেকে স্প্যানিশদের প্রাধান্য বজায় ছিল। এমনকি কিছু কিছু সময় দেখা গেছে স্প্যানিশ অর্ধে কেবলমাত্র গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস দাঁড়িয়ে আছেন। তবে ১৮ মিনিটে দূরপাল্ল¬ার শট থেকে মানিয়াসার শট ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে চলে না গেলে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ত তখনই এগিয়ে যেতে পারতো। এরপর পার্কারের একটি প্রচেষ্টা ক্যাসিয়াস ধরতে ব্যর্থ হলেও তার থেকে কোন রকমে স্পেন রক্ষা পায়। দ্বিতীয়ার্ধে ক্যাসিয়াসের পরিবর্তে ভিক্টর ভালদেস খেলতে নামলেও ম্যাচ শেষের ১০ মিনিট আগে ইনজুরিতে পড়লে তাকে বদল করা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কারণ ততোক্ষণে স্পেনের ছয়টি পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। তবে টাচলাইনে কিছুক্ষণ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পরে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় গোলরক্ষক পেপে রাইনাকে ম্যাচে নামার অনুমতি দেয়া হয়।
