চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে উত্পাদিত বনজ সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ ছোট আকারে হলেও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। কিন্তু অযাচিতভাবে বন নিধনে এই বনজ সম্পদটি দিন দিন কমে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকায় ছয় প্রজাতির বাঁশ উত্পন্ন হয়ে থাকে। এসব বাঁশের মধ্যে রয়েছে মূলি বাঁশ, ডলু বাঁশ, নিতিয়া বাঁশ, ওরা বাঁশ, বাইজ্জা বাঁশ, মাহাল বাঁশ। পার্বত্য অঞ্চলে উত্পাদিত বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ ছাড়াও কর্ণফুলী পেপার মিলে কাগজ উত্পন্নের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয়। চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকার বাঁশ ব্যবসায়ী কিরণ বাবু বাঁশ উত্পাদন এবং সরবরাহ সম্পর্কে বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে বাঁশ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছি। অতীতে যেভাবে বাঁশের ব্যবহার হত বর্তমানে তা হয় না। অতীতে দুর্গম পাহাড় থেকে বাঁশ আনতে অনেক সমস্যা হলেও এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তা সহজ হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁশের দাম আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাইজ্জা বাঁশ প্রতি শ’ ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। মূল বাঁশ প্রতি হাজার ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। নিতিয়া বাঁশ প্রতি হাজার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ডলু বাঁশ প্রতি হাজার ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। কর্ণফুলী পেপার মিলের উপপ্রধান প্রকৌশলী শেখ আহমেদ বলেন, পেপার মিলে উত্পাদিত কাগজের জন্য সব ধরনের বাঁশ ব্যবহূত হয়। এ মিলে প্রতিমাসে পূর্ণ উত্পাদনের সময় সাত থেকে আট হাজার টন বাঁশ লাগে। পার্বত্য অঞ্চলে যেভাবে বন নিধন চলছে তাতে বাঁশের উত্পাদন কমে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
