পেসার মিচেল জনসন আবার অস্ট্রেলীয় দলে ডাক পেয়েই বিধ্বংসী বোলিং উপহার দিলে স্বাগতিকরা ইংল্যান্ডকে প্রথম ইনিংসে ১৩৬ রানেই গুটিয়ে দেয়নি, গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় দিনেই ব্রিসবেন টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
ইংল্যান্ড টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় মাত্র ১০ ওভারে ৯ রানে ছয় উইকেট হারায়। ফলে অস্ট্রেলিয়াকে দিনের শুরুতে ২৯৫ রানে অলআউট করে দেয়ার পর দুই উইকেটে ৮২ রান তোলা সফরকারীরা চটজলদি অলআউট হয়ে যায়। জনসন ৬১ রানে চার উইকেট নেন। এরপর স্বাগতিক ওপেনাররা কোন উইকেট না হারিয়ে ৬৫ তুললে ২২৪ রানে এগিয়ে যায় মাইকেল ক্লার্কের দল। ডেভিড ওয়ার্নার ৪৫ এবং ক্রিস রজার্স ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। অ্যাশেজ সিরিজে ১৯৯০ সালের পর এটাই ইংলিশদের সবচেয়ে খারাপ রেকর্ড।
ব্রিসবেনে অনুষ্ঠানরত চলতি অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টের এখনো তিনদিন বাকি।
বাঁহাতি পেসার জনসন তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে দিশেহারা করে তোলেন। মাত্র ১৩ ওভার বোলিং করে তিনি জনাথন ট্রট, মাইকেল কারবেরি, জো রুট এবং গ্রায়েম সোয়ানকে উইকেট দিতে বাধ্য করেন তিনি। রায়ান হ্যারিস নেন তিন উইকেট। হ্যাটট্রিক মিস করা স্পিনার নাথান লিয়ঁর পর স্টিভেন স্মিথের তিন ক্যাচে মাত্র তিন মাস আগে ইংল্যান্ডে ৩-০ ম্যাচে পরাজিত হওয়া অস্ট্রেলিয়া যেন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হয়ে ওঠে।
অজিরা ১৯৮৮ সালের পর থেকে গাব্বার এ মাঠে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা আরো বাড়াতে এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। এছাড়া ১২৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত এক নাগাড়ে চারটি টেষ্ট সিরিজে পরাজয়ের হাত থেকে রেহাই পেতেও চেষ্টা করবে অস্ট্রেলিয়া।
সর্বশেষ ১৯৯০ সালে মেলবোর্নে মাত্র ৪৭ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০৯ সালে হেডিংলি টেস্টে প্রথম ইনিংসে ইংলিশরা সর্ব নিম্ন ১০২ রানে অলআউট হয়েছিল।
শততম টেস্ট খেলা কেভিন পিটারসেন মাত্র আট রানে একবার পিটার সিডলের হাতে কট এন্ড বোল্ড হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পান। তবে শেষ পর্যন্ত ৪২ বল খেলে ১৮ রান করে হ্যারিসের বলে এ টেস্টেই অভিষেক নেয়া জর্জ বেইলির হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তিন ওভার পরে আবারো আঘাত হানেন জনসন। জনসনের শর্ট বল খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে শেন ওয়াটসনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ৪০ রান করা মাইকেল কারবেরি।
এরপর লিয়ঁ পর পর দুই বলে ইয়ান বেল (৫) ও ম্যাট প্রিয়রকে (০) প্যাভিলিয়নে ফেরান।
অ্যাশেজ হিরো স্টুয়ার্ট ব্রড দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রান করে সিডলের বলে ক্রিস রজার্সের হাতে ধরা পড়েন। মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক এবং ট্রটকে ফিরিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে সেঞ্চুরি থেকে ছয় রান দূরে থাকতে ব্র্যাড হাডিন রান আউটের শিকার হলে ২৯৫ রানে শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া ইনিংস।
ম্যাচের প্রথম দিনের নায়ক ইংলিশ পেসার ব্রড ২৪ ওভারে ৮১ রানে ৬ উইকেট নেন।
স্কো র কা র্ড
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস (আগের দিন ২৭৩/৮)
ক্রিস রজার্স ক বেল ব ব্রড ১
ডেভিড ওয়ার্নার ক পিটারসন ব ব্রড ৪৯
শেন ওয়াটসন ক সোয়ান ব ব্রড ২২
মাইকেল ক্লার্ক ক বেল ব ব্রড ১
স্টিভ স্মিথ ক কুক ব ট্রেমলেট ৩১
জর্জ বেইলি ক কুক ব এন্ডারসন ৩
ব্র্যাড হার্ডিন রান আউট (কারবেরি) ৯৪
পিটার সিডল ক কুক ব এন্ডারসন ৭
রায়ান হ্যারিস ক প্রিয়র ব ব্রড ৯
নাথান লিয় অপরাজিত ১
অতিরিক্ত (লেগবাই-১১, ওয়াইড-১, নোবল-১) ১৩
মোট (৯৭.১ ওভারে অলআউট) ২৯৫
উইকেট পতন : ১/১২, ২/৭১, ৩/৭৩, ৪/৮৩, ৫/১০০, ৬/১৩২, ৭/২৪৬, ৮/২৬৫, ৯/২৮২, ১০/২৯৫।
বোলিং : অ্যান্ডারসন ২৫.১-৫-৬৭-২, ব্রড ২৪-৩-৮১-৬ (নোব-১, ও-১), ট্রেমলেট ১৯-৩-৫১-১, সোয়ান ২৬-৪-৮০-০, রুট ৩-১-৫-০।
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস
এলিস্টার কুক ক হাডিন ব হ্যারিস ১৩
মাইকেল কারবেরি ক ওয়াটসন ব জনসন ৪০
জনাথন ট্রট ক হাডিন ব জনসন ১০
কেভিন পিটারসেন ক বেইলি ব হ্যারিস ১৮
ইয়ান বেল ক স্মিথ ব লিয়ঁ ৫
জো রুট ক স্মিথ ব জনসন ২
ম্যাট প্রিয়র ক স্মিথ ব লিয়ঁ ০
স্টুয়ার্ট ব্রট ক রজার্স ব সিডল ৩২
গ্রায়েম সোয়ান ক বেইলি ব জনসন ০
ক্রিস ট্রেমলেট ক লিয়ঁ ব হ্যারিস ৮
জেমস অ্যান্ডারসন অপরাজিত ২
অতিরিক্ত (বাই-৪, লেগবাই-২) ৬
মোট (৫২.৪ ওভারে অলআউট) ১৩৬
উইকেট পতন : ১/২৮, ২/৫৫, ৩/৮২, ৪/৮৭, ৫/৮৭, ৬/৮৭, ৭/৮৯, ৮/৯১, ৯/১১০, ১০/১৩৬।
বোলিং : হ্যারিস ১৫-৫-২৮-৩, জনসন ১৭-২-৬১-৪, সিডল ১১.৪-৩-২৪-১, লিয়ঁ ৯-৪-১৭-২।
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস
ক্রিস রজার্স অপরাজিত ১৫
ডেভিড ওয়ার্নার অপরাজিত ৪৫
অতিরিক্ত ( লেগবাই ৫) ৫
মোট (২২ ওভারে বিনা উইকেট) ৬৫
বোলিং : অ্যান্ডারসন ৫-১-৬-০, ব্রড ৫-১-১৩-০, ট্রেমলেট ৪-২-৮-০, সোয়ান ৬-১-২২-০, রুট ২-১-১-০।
