সাভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় হাত অথবা পা হারানো ১২ জনকে কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনে সহায়তা করেছে ব্র্যাক। শনিবার শেরেবাংলা নগরস্থ ব্র্যাক লিম্ব অ্যান্ড ব্রেইস সেন্টারে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের এক জনকে দুটি কৃত্রিম পা ও বাকিদের হাত প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সাথে যৌথভাবে এ কাজ করেছে বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। এই ১২ জনের প্রত্যেককে আর্থিক সহায়তা হিসাবে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিটও করে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা আগামী পাঁচ বছর প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে তুলতে পারবেন। পাঁচ বছর পর পুরো টাকাই তারা পেয়ে যাবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. জুলফিকার আলী লেনিন, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক খন্দকার আবদুল আউয়াল রিজভি, ব্র্যাকের ভাইস চেয়ারপারসন আহমেদ মোশতাক রাজা চৌধুরী, ব্র্যাকের দুর্যোগ পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক ড. বাবর কবীর, স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক ডা. কাওসার আফসানা প্রমুখ।
ডা. জুলফিকার আলী লেনিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাভুক্তির পর বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিত্তিতে তাদের আর্থিক সহায়তারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি এরকম মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অধ্যাপক খন্দকার আবদুল আউয়াল রিজভি বলেন, ব্র্যাক ও আমাদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই ১২ জনের জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার মনোবল আরও বেড়েছে।
স্বাগত বক্তব্যে ডা. কাউসার আফসানা বলেন, আমরা চাই না এরকম দুর্ঘটনা আর ঘটুক, তবে বিপদের সময় এদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত। ব্র্যাকের দুর্যোগ পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক ড. বাবর কবীর ১২ জনকে কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত থেরাপি নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।
