বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনালের সংবাদ সম্মেলনে দর্শক সারির পেছন দিকে চেয়ে অনেকেই একটু অবাক হলেন—তিন বিদেশি গভীর মনযোগ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শুনছেন! পরে জানা গেল এই তিন জনই আইসিসির আইন বিষয়ক তিন কর্মকর্তা। বিসিবির একটি সূত্র নিশ্চিত করলো, আইসিসি ও বিসিবির পক্ষে শুনানিতে অংশ নিতে এসেছেন তারা। এ ছাড়াও শুনানিতে বিসিবির নিজস্ব আইনজীবী উপস্থিত থাকবেন।
তবে প্রস্তুতিটা শুধু এক তরফা হচ্ছে তা নয়। ইতিমধ্যে অভিযুক্তরাও যার যার আইনজীবীর মাধ্যমে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া শুনানিতে সওয়াল-জবাবের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন। গতকাল যে কয়জন অভিযুক্তর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হল, তার মধ্যে একমাত্র ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স মালিকপক্ষ ছাড়া সবাই-ই আজ থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে এই শুনানিতে অংশ নেয়ার কথা নিশ্চিত করলেন।
ট্রাইব্যুনালে ‘বাদী পক্ষ’ হিসেবে দাঁড়াতে হবে আইসিসি, বিসিবি ও আকসুকে। মূলত আকসুর তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের বিপক্ষে মামলা সংহত করা হবে। আর এই অভিযোগপত্র উপস্থাপনের কাজটা করবেন আইসিসির আইন বিভাগের প্রধান ইয়ান ইগিনস ও আইসিসির আইন কর্মকর্তা শেলি ক্লার্ক। আর তাদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন আইসিসির কৌঁসুলী জনাথন টেলর। এ ছাড়া বিসিবির বিপিএল বিষয়ক আইনজীবী ব্যারিস্টার মোদাচ্ছেরও শুনানিতে থাকবেন বলে জানিয়েছে বিসিবির একটি সূত্র।
এদিকে পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি চোখ থাকবে ক্রিকেটারদের ওপর, বিশেষ করে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের একসময়ের শীর্ষ তারকা মোহাম্মদ আশরাফুলের ওপর। আশরাফুল অবশ্য নিশ্চিত নন যে, এই প্রাথমিক শুনানিপর্বে তাকে বা তার আইনজীবীকে উপস্থিত হতে হবে কি না। এ বিষয়ে তিনি তার দুই আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছেন, ‘ ‘আমরা আমাদের বক্তব্য যেহেতু আগেই জানিয়েছি, প্রাথমিক শুনানিতেই আমাদের থাকা সম্ভবত জরুরী না। আইনজীবী সেরকমই বলেছে। তবে ট্রাইব্যুনাল যখন প্রয়োজন মনে করবেন, আমাকে ডাকলেই উপস্থিত হব।’
প্রাথমিক শুনানিতে এরপরও দরকার হলে আশরাফুলের ব্রিটিশ আইনজীবী ইয়াসিন প্যাটেল হয়তো ই-মেইল যোগে উত্তর দেবেন। আর সরাসরি ট্রাইব্যুনালে আশরাফুলকে প্রতিনিধিত্ব করতে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের ব্যারিস্টার খালেদ চৌধুরী। আশরাফুল নিশ্চিত করলেন চূড়ান্ত শুনানিতে ইয়াসিন প্যাটেলও উপস্থিত থাকবেন।
প্যাটেলের অবশ্য আরও একজন ‘মক্কেল’ আছেন এখানে। যতোদূর জানা গেছে শ্রীলঙ্কার কৌশল লুকুরুয়াচ্চিরও প্রতিনিধিত্ব করবেন প্যাটেল।
একইরকম দুই অভিযুক্তর প্রতিধিনিত্ব করতে আজই উপস্থিত হবেন ব্যারিস্টার নূর-ই সাদিক। সাবেক দুই জাতীয় ক্রিকেটার মোশাররফ রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিনের হয়ে লড়বেন তিনি। সাদিক কাল বলে দিলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমার দুই মক্কেলই নিরপরাধ বলে প্রমাণিত হবেন।’
একই আত্মবিশ্বাস আছে রবিনের নিজেরও, ‘আমার তো আত্মবিশ্বাস হারানোর মতো কিছু ঘটেনি। আমি জ্ঞানত কোনো অন্যায় করিনি। বাকীটা আইন ও আদালতের ব্যাপার।’
এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আছেন ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিক সেলিম চৌধুরী, তার ছেলে শিহাব চৌধুরী এবং দলটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গৌরব রাওয়াত। এই তিন জন এতোটাই আত্মবিশ্বাসী যে, তারা আদৌ ট্রাইব্যুনালের সামনে নিজে বা প্রতিনিধি নিয়ে হাজির হবেন কি না, বোঝা কঠিন। এর আগে সেলিম চৌধুরী বলেছিলেন, চল্লিশ দিনের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় তারা এই ট্রাইব্যুনালের সামনে যাবেন না। গতকাল অবশ্য ফোনে বললেন, ‘এটা সাবজুডিশিয়ারি ট্রাইব্যুনাল। তাই এখানে যাবো না।’
পরে অবশ্য সেলিম চৌধুরী বললেন, তার আইনজীবীর সঙ্গে এখনও বিষয়টা নিয়ে আলাপ চলছে।
বাকী সবার খবর পাওয়া গেলেও বাংলাদেশের সাবেক তারকা মোহাম্মদ রফিক ও ইংল্যান্ডের ড্যারেন স্টিভেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেল না। তবে এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আইনজীবীদের মাধ্যমেই এই ট্রাইব্যুনালে নিজেদের বক্তব্য জানাবেন তারা।
