সংলাপ চাই, নির্বাচন চাই

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৪
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি একদিন দুপুর একটা হতে শুরু করে বিকেল ৬টা পর্যন্ত চেষ্টা করে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগে সমর্থ হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাসভবনে নৈশভোজের দাওয়াত ও আলোচনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাদের ফোনালাপ জনগণকে হতাশ করেছে, বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে যা করেছে যা জনগণের কল্পনাতীত। সংলাপের সম্ভাবনা বেগম খালেদা জিয়া ব্যর্থ করে দিলেন। আমার মনে হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান না। তিনি চান রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দিতে। দুই নেত্রীর রেকর্ডকৃত ফোনালাপ যেহেতু জনগণ শুনেছে সেক্ষেত্রে বলা যায়, জনগণের বিবেকের আদালতে বেগম খালেদা জিয়া হেরে যাবেন। আমাদের দেশে মোট ভোটের ৭০ শতাংশ হল ভাসমান ভোট। বাকি ৩০% হলো দলের নেতাকর্মীদের ভোট। ৭০% ভাসমান ভোটারের বিবেকের আদালতে যিনি জয়ী হবেন তিনিই ক্ষমতায় আসবেন। কেউ একগোয়েমি করলে ভোট তার বিপক্ষে যাবে। এখনো সময় আছে উভয় দলের একান্ত আন্তরিক সদিচ্ছার উদয় ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে বিএনপি নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর সাথে বসুন। আলোচনা হোক, একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে। দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের আমি আহবান জানাব আপনারা নীরব না হয়ে উদ্যোগ নিয়ে দুই নেত্রীকে একত্রে বসার ব্যবস্থা করুন। দুই নেত্রী এক টেবিলে না বসলে সমাধান হবে না। দেশের মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। যে করে হোক দুই নেত্রীকে এক টেবিলে বসিয়ে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটা অবাধ নির্বাচন হবে। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত কথা তা দুই নেত্রীকে মেনে নিতে হবে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল বর্তমানে যে নির্বাচনের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ঐ নির্বাচনটি হবে বিএনপির ’৯৬ সালের নির্বাচনের মত তা সঠিক নয় তবে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। আলোচনার মাধ্যমে যদি সমঝোতা হয় সেক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন করার কোন প্রয়োজন হবে না। বিএনপি বলছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল যে সর্বদলীয় সরকার নিয়ে ব্যবস্থা তাও বিরোধী দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে যদি শেখ হাসিনা ঐ সরকারের প্রধানমন্ত্রী না হন অর্থাত্ শেখ হাসিনা যদি সরকারে না থাকেন, সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়া সর্বদলীয় সরকার মেনে নিবেন। এখানে রাষ্ট্রপতি একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে পারেন। রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নিলে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে এক টেবিলে বসিয়ে একটি সমাধান বের করতে পারেন। দুই নেত্রী একই টেবিলে আলোচনায় বসলে ঐ আলোচনায় কে আন্তরিক আর কে একরোখা তা জনগণ প্রত্যক্ষ করবে। জনগণ অবশ্যই একরোখাকে প্রত্যাখ্যান করবে। আর আলোচনা হলেই একটা সমাধান চলে আসবে। জনগণ হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে। দেশে বর্তমানে জঙ্গীবাদ নেই। জঙ্গীবাদীরা সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত হয়েছে। নির্বাচনে যারাই জয়ী হবেন তাদের এই অঙ্গীকার করতে হবে যে তারা কোন অবস্থায়ই জঙ্গীদের মদদ দিবে না। জঙ্গীদের মদদ দিবে না তা নির্বাচনী ইশতেহারেই ছিল । বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, অনেকের রায় হয়ে গেছে। প্রত্যেকের নির্বাচনী প্রচারণায় বলতে হবে যে তারা ক্ষমতায় আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখবে এবং যাদের বিচারের রায় হয়ে গেছে সে রায় কার্যকর করবে। সব দলকেই নির্বাচনী প্রচারণায় বলতে হবে যে বর্তমান সংবিধানে নারীর যে সম-অধিকার আছে তা অক্ষুণ্ন রাখবে। অর্থাত্ নারীর অধিকার একবিন্দুও ক্ষুণ্ন করবে না। সব দলকেই নির্বাচনী প্রচারণায় উল্লেখ করতে হবে যে তারা দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহাল রাখবে। মুুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিন্দুমাত্র খাটো করবে না। সব দলকেই নির্বাচনী প্রচারণায় উল্লেখ করতে হবে যে তারা কোন অবস্থায় দেশের ইতিহাস বিকৃত করবে না। দেশে সুশাসন আসবে। সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক চেতনায় দেশ পরিচালনা করবে। লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যাংকার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন