মিশেল জনসনের বিধ্বংসী বোলিংয়ে প্রথম অ্যাশেজ টেস্টের চতুর্থ দিনেই ইংল্যান্ডকে ৩৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করলো অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৪২ রান খরচায় পাঁচ উইকেট নেয়ার পথে গতকাল রোববার বৃষ্টি বিঘ্নিত দ্বিতীয় দিনে জনসন প্রায় একাই ধসিয়ে দেন ইংল্যান্ডকে। ফলে ম্যাচের এক দিন বাকি থাকতেই সফরকারিরা অল আউট হয়ে যায় মাত্র ১৭৯ রানে।
ভারতের কাছে তাদের মাটিতে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর চলতি বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারে অজিরা। ফলে সর্বশেষ ১০ টেস্টে এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম জয়। আর অ্যাশেজে অজিদের সর্বশেষ জয়টি এসেছিল প্রায় তিন বছর আগে পার্থে।
বোলারদের নৈপুণ্যের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল টেস্টের ফল। তবে চতুর্থ দিনে স্বাগতিকদের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৈরী আবহাওয়া। কিন্তু টানা দ্বিতীয় ইনিংসে রায়ান হ্যারিস-জনসন পেস জুটির সফল আক্রমণে দুই দফায় দুই ঘন্টারও বেশি সময় খেলা বন্ধ রাখারর পরও জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি অজিদের। যদিও ৫৭১ রানের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের শুরুতেই আগের দিনের শেষ ভাগেই দু’টি উইকেট হারায় ইংলিশরা। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান অ্যালিস্টার কুক এবং কেভিন পিটারসেন সাবধানী ভঙ্গিতে দিন শুরু করলেও জনসনের দারুণ এক ডেলিভারিতে ফিরে যান পিটারসেন। এরপর চতুর্থ উইকেটে ইয়ান বেলের সঙ্গে ইংলিশদের পক্ষে এই টেস্টে সর্বোচ্চ ৭০ রানের জুটি গড়েন কুক। বেলকে উইকেটের পেছনে হাডিনের ক্যাচ বানিয়ে এই জুটি ভাঙ্গেন তৃতীয় পেসার পিটার সিডল। তবে তখনও উইকেটে ছিলেন অধিনায়ক কুক।
ব্যক্তিগত ৬৫ রানে কুক বিদায় নেয়ার পরপরই ধ্বস নামে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনে। ৪ উইকেটে ১৪২ রান সংগ্রহকারী ইংলিশ দল ৪৫ মিনিটের ব্যবধানে ১৬০ রানে পৌঁছতেই হারায় আরো চারটি উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৬১ রানের বিপরীতে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ইংলিশ দলকে ১৩৬ রানে আটকে দেয়া জনসন দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নেন পাঁচ উইকেট। যা কিনা টেস্টে তার অস্টমবারের মত পাঁচ উইকেট সংগ্রহ করার ঘটনা। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ওঠে এই বাঁহাতি পেসারের হাতেই।
এর আগে ডেভিড ওয়ার্নারের প্রথম অ্যাশেজ সেঞ্চুরির পাশাপাশি মাইকেল ক্লার্কের মাত্র ১৩০ বলে করা ১১৩ রানের দারুণ দুটি ইনিংসে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০১ রানের বিশাল স্কোর গড়ে অস্ট্রেলিয়া। আর ব্যক্তিগত এই পারফরম্যান্স গুলোই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে জানিয়ে ক্লার্ক ম্যাচ শেষে বলেন, ‘চমত্কার সুচনা এবং মিশেল জনসনের মত কয়েকজন খেলোয়াড়ের চমত্কার ব্যক্তিগত পারফর্মেন্সের ফসল হচ্ছে এই জয়। তবে মাত্র টেস্ট শেষ হয়েছে। আমি নিশ্চিত আরো শক্তি সঞ্চয় করে ইংল্যান্ড ঘুরে দাঁড়াবে। সুতরাং এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে আমাদের পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে।’
স্কো র
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস ২৯৫ : (ব্রাড হাডিন ৯৪, মিশেল জনসন ৬৪, স্ট্রুয়ার্ট ব্র্যাড ৬/৮১)।
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৩৬ (এম কারবেরি ৪০, মিশেল জনসন ৪/৬১)
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস:
ক্রিস রজার্স ক কারবেরি ব ব্রড ১৬
ডেভিড ওয়ার্নার ক প্রিয়র ব ব্রড ১২৪
সেন ওয়াটসন ক ব্রড ব ট্রেমলেট ৬
মাইকেল ক্লার্ক বোল্ড সোয়ান ১১৩
স্টিভ স্মিথ ক প্রিয়র ব ট্রেমলেট ০
জর্জ বেইলি বোল্ড সোয়ান ৩৪
ব্র্যাড হাডিন ক এন্ডারসন ব ট্রেমলেট ৫৩
মিশেল জনসন অপরাজিত ৩৯
পিটার সিডেল অপরাজিত ৪
অতিরিক্ত (বাই-৪, লেবা-৮) ১২
মোট (৭ উইকেটে ইনিংস ঘোষণা) ৪০১
উইকেট পতন : ১/৬৭ (রজার্স), ২/৭৫ (ওয়াটসন), ৩/২৩৩ (ওয়ার্নার), ৪/২৪২ (স্মিথ), ৫/২৯৪ (ক্লার্ক), ৬/৩০৫ (বেইলি), ৭/৩৯৫ (হাডিন)।
বোলিং: এন্ডারসন ১৯-২-৭৩-০, ব্রড ১৬-৪-৫৫-২, ট্রেমলেট ১৭-২-৬৯-৩, সোয়ান ২৭-২-১৩৫-২, রুট ১৫-২-৫৭-০।
ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস:
এলিস্টার কুক ক হাডিন ব লিয়ন ৬৫
মাইকেল কারবেরি বোল্ড হ্যারিস ০
জোনাথন ট্রট ক লিয়ঁ ব জনসন ৯
কেভিন পিটোরসেন ক সাব (সাবার্গ) ব জনসন ২৬
ইয়ান বেল ক হাডিন ব সিডল ৩২
জো রুট অপরাজিত ২৬
ম্যাট প্রিয়র ক ওয়ার্নার ব লিয়ঁ ৪
স্টুয়ার্ট ব্রড ক হাডিন ব জনসন ৪
গ্রায়েম সোয়ান ক স্মিথ ব জনসন ০
ক্রিস ট্রেমলেট ক বেইলি ব হ্যারিস ৭
জেমস এন্ডারসন ক এন্ড ব জনসন ২
অতিরিক্ত (লেবা-২, ও-১, নোব ১) ৪
মোট (অল আউট, ৮১.১ ওভার) ১৭৯
উইকেট পতন: ১/১ (কারবেরি), ২/১০ (ট্রট), ৩/৭২ (পিটারসেন), ৪/১৩০ (বেল), ৫/১৪২ (কুক), ৬/১৪৬ (প্রিয়র), ৭/১৫১ (ব্রড), ৮/১৫১ (সোয়ান), ৯/১৭২ (ট্রেমলেট), ১০/১৭৯ (এন্ডারসন)।
বোলিং: হ্যারিস ১৯-৪-৪৯-২, জনসন ২১.১-৭-৪২-৫ (ও-১), সিডল ১৫-৩-২৫-১ (নোব-১), লিয়ন ২০-৬-৪৬-২, স্মিথ ৪-১-১৫-০, ওয়াটসন ২-২-০-০।
