প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গলফ বিশ্বকাপে সিদ্দিকুর রহমানের প্রথম অভিযাত্রাটা মোটেই সুখকর হলো না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাউন্ডের তুলনায় ভালো খেললেও গতকাল রবিবার চতুর্থ এবং শেষ রাউন্ডেও পারের চেয়ে বেশি শট খেলতে হয়েছে সিদ্দিকুরকে। ফলে ষাটজনের মধ্যে যৌথভাবে ৫৫ তম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট করতে হয়েছে তাকে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পৃথিবীর অন্যতম সেরা মাঠ বলে বিবেচিত রয়াল মেলবোর্ন গলফ কোর্সে বিশ্বকাপের শেষ দিনে পারের চেয়ে দুটি শট বেশি খেলেন সিদ্দিকুর। দুটি হোলে পারের চেয়ে এক শট কম খেললেও (বার্ডি) অন্য দুটি হোলে পারের চাইতে দুই শট বেশি (বোগি) খেলতে হয় দেশ সেরা এই গলফারকে। পাশাপাশি ছিল একটি ডাবল বোগিও। ফলে দিন শেষে প্রথম রাউন্ডের মতোই অবস্থা দাঁড়ায় তার।
এর আগে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় রাউন্ডের বাজে পারফরম্যান্সই মূলত লড়াই থেকে ছিটকে দেয় সিদ্দিকুরকে। এই দুই রাউন্ডে যথাক্রমে পারের চেয়ে চার ও ছয় শট বেশি খেলেছিলেন তিনি।
প্রথম দিন শেষে ৩২তম অবস্থানে থাকা সিদ্দিকুর দ্বিতীয় দিন শেষে চলে যান ৪৯ তম স্থানে। এরপর আরো পিছিয়ে তৃতীয় দিন শেষে তার অবস্থান দাঁড়ায় ৫৮। আর সবমিলিয়ে পারের চেয়ে ১৪ শট বেশি খেলে ৫৫তম হয়ে বিশ্বকাপ শেষ করলেন বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার গলফার।
বিশ্বকাপের দুই সপ্তাহ আগে হিরো ইন্ডিয়ান ওপেন জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গেই ছিলেন সিদ্দিকুর। আর তাই বিশ্বকাপে সেরা ২০ জনের মধ্যে থাকার লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি অবশ্য একথাও বলেছিলেন, বিশ্বকাপে মূল চ্যালেঞ্জটা হবে গ্রিনে (ঘাসে ঢাকা যে স্থানে বলটাকে গড়িয়ে হোলে ফেলা হয়) ভালো করা। কারণ এই গলফ কোর্সের ‘গ্রিন’ তার জন্য একেবারেই নতুন। প্রথম তিন রাউন্ডের মতোই শেষটাতেও এই গ্রিন অংশ থেকে বল গড়িয়ে পকেট করতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে এ সপ্তাহেই ২৯ এ পা দেয়া এই গলফারকে।
এদিকে পারের চেয়ে মোট ১০ শট কম খেলে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার জেসন ডে। ডেনমার্কের টমাস বিয়ার্ন মোট আট শট কম খেলে দ্বিতীয় হয়েছেন। আর বিশ্বের দুই নম্বর গলফার স্বাগতিকদের অ্যাডাম স্কট প্রথম রাউন্ডের ব্যর্থতা ঝেড়ে দারুণভাবে ফিরে এসে হয়েছেন তৃতীয় (-৭)।
দলগত প্রতিযোগিতায় পারের চেয়ে মোট ১৭ শট কম খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিকরা। ৭ শট কম খেলে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় ও ৫ শট কম খেলে ডেনমার্ক তৃতীয় হয়েছে।
