বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশে বলেছেন যে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশকে অচল করে দেয়া হবে। এর আগে ছাত্রদলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন যে, একটা দুইটা গাড়ি ভাঙচুর করলেই হবে না, হাজারে হাজারে কর্মীকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। শনিবার অন্য এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় তিনি দাবি করেছেন যে, দেশ এখন ডুবতে বসেছে, উদ্ধার পেতে হলে সবাইকে সরকার পতনের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তার এসব বক্তব্যের মধ্য থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে, তা হলো বিএনপি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল ও জোটগতভাবে অংশগ্রহণ করবে না, নির্বাচনটিকে প্রতিহত করতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছে, একই সঙ্গে তাতে অংশ নিতে দেশবাসীকে তারা আহ্বান জানাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ আগে উল্লেখ করেছিলেন যে, সোমবার নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হতে পারে। অবশেষে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জাতিকে তিনি অবগত করেছেন। আমরা আশা করবো সকল প্রতিকূলতা জয় করে ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সক্ষম হবেন। জাতি তেমনি একটি নির্বাচন দেখতে চায়, সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সফল হওয়া ব্যতীত কোন পথ খোলা নেই। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোতে বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে, এক ধরনের শঙ্কা, আতঙ্ক এবং অস্থিতিশীলতার কথা বলা হচ্ছে। জনমনে সবকিছু নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে, তবে সর্বত্রই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার মতো নীরবতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গ্রামে বেশির ভাগ মানুষ বিভিন্ন পক্ষের কথা শুনছে। তবে বড় অংশই রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কে বেশ হতাশ এবং ক্ষুব্ধও। পাঁচ বছর পর-পর নির্বাচনের আগে এভাবে দেশে হরতাল, সহিংসতায় তারা ক্ষুব্ধ। এর অবসান তারা দেখতে চায়। তারা বিশ্বাস করে যে, অতীতে নির্বাচন নিয়ে যেসব আন্দোলন সংঘাত-সংঘর্ষ দেশে ঘটেছিল সেগুলোর সঙ্গে এবারের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ১৯৯৬’র পরিস্থিতি ২০১৩ সালে নেই, একইভাবে ২০০৬-৭-এর বাস্তবতাও ২০১৩ সালের এই মুহূর্তে নেই। সে কারণে বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোটের নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন জনগণের অংশগ্রহণে খুব একটা জোরদার হচ্ছে না, কিছু সহিংস হরতাল ডেকে ভীতি পরিস্থিতি সৃষ্টি করা ছাড়া, দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব সংঘটিত করা ছাড়া আন্দোলনে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ জোট ঘটাতে পারেনি। এই হরতাল ও সভা-সমাবেশ ও মিছিলে দল বা জোটের কর্মীরা ছাড়া সাধারণ মানুষ তাতে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকেই ঘোষিত কর্মসূচিতে গরহাজির থাকছে। তেমন উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ দেশবাসীর চোখে ধরা পড়ছে না। পত্র-পত্রিকাগুলোতে তেমন বক্তব্যের বেশ কিছু প্রতিবেদন ছাপাও হয়েছে। এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত. ১৮ দলীয় জোটের কর্মসূচিগুলোতে সহিংসতার ব্যাপক প্রবণতা স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে কর্মীদের পালানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, সাধারণ যাত্রীসাধারণের বাঁচা-মরার বিষয়টি কর্মীদের দেখার বিষয় নয়, নেতারাও এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনার কথা বলছেন না। ফলে সরকারকে শিক্ষা দেয়ার নামে প্রতিহিংসা ও জিঘাংসার মনোবৃত্তি থেকে জ্বালাও-পোড়াও করার বিষয়টি বেশ লক্ষণীয় হচ্ছে— যা কোনো গণতান্ত্রিক দলের নেতাকর্মীদের মনে বা আচরণে প্রকাশ পাওয়ার কথা নয়। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে মানুষের গাছ কেটে, গাড়ি ও যানবাহন ভাঙচুর করার নামে আন্দোলনের যে ধরন সৃষ্টি করা হয়েছে তা সেখানকার জনমনেও প্রচণ্ড ভীতি সৃষ্টি করেছে। ফলে শহর বা গ্রামাঞ্চলের কোথাও জনগণের অংশগ্রহণ এসব কর্মসূচিতে ঘটাতে পারেনি। দ্বিতীয়ত. নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে বিএনপি কোনো গ্রহণযোগ্য রূপরেখা উপস্থাপন করতে পারেনি। বিএনপি নেত্রী ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জীবিত সদস্যদের নিয়ে যে নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তা কোনোভাবেই বাস্তবায়নযোগ্য হয়নি। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ১৮ দলের আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্যই গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। বিএনপি শুধু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্যে নির্দলীয় সরকার চায়— এমন একটি ধারণা এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তা হলে পরবর্তী একাদশ বা দ্বাদশ নির্বাচনের অবস্থা কী হবে? বিএনপি একবারও বলেনি যে, ক্ষমতায় গিয়ে তারা সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান চালু করবে। তা হলে প্রশ্ন জাগে এখন তাদের যে দাবি তার লক্ষ্য কী? উত্তর হয়তো একটিই তা হচ্ছে শুধু নিজের সুবিধার জন্যেই চাওয়া বা পাওয়ার বিষয়, জাতীয় চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি এখানে মোটেও বিবেচ্য নয়। ফলে সচেতন মানুষ এই আন্দোলনের শুভঙ্করের ফাঁক-ফোকরটি কম-বেশি ধরে ফেলতে পেরেছে, বা বুঝে নিতে পেরেছে। তৃতীয়ত. ছবিযুক্ত ভোটার তালিকাসহ বেশ কিছু সংস্কারের ফলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় এখন যে ধরনের অবস্থা বিরাজ করছে তাতে আগের মতো জাল ভোট দেয়া, কারচুপি করা, মিডিয়া ক্যু করে ফলাফল পাল্টিয়ে ফেলার নির্বাচন দেশে করার বাস্তবতা নেই। বিষয়টি এখন সাধারণ যে কোনো মানুষ জানে এবং বোঝেও। সে ধরনের পরিস্থিতিতে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান কে থাকলেন, কী ধরনের সরকার ব্যবস্থা হলো বা হলো না তাতে তেমন কিছু যায় আসে না। বাংলাদেশে কারচুপির নির্বাচন করার দিন শেষ হয়ে গেছে। যদি তা করার সামান্যতম চেষ্টা করে তা হলে সেই পরিণতি সরকারের জন্যে মোটেও সুখকর হবে না, সুতরাং এমন বাস্তবতায় নির্দলীয় বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করার যৌক্তিকতা ও বাস্তবতা খুব একটা ধোপে টেকার নয়। এখন বলা হচ্ছে যে, শেখ হাসিনার অধীন কোনো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না— তা একেবারেই অনুমাননির্ভর। অবাধ নির্বাচন হবে কি হবে না তা বোঝা যাবে নির্বাচনের দিন। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকার ব্যর্থ হয় তা হলে বিরোধী দলের জন্যে রাজনৈতিকভাবে বেশ লাভজনক হবে, সরকার পতন আন্দোলনের বাস্তবতা তৈরি করতে বিরোধী দলের মোটেও বেগ পেতে হবে না। তাদের দিক থেকে সরকার পতনের একটি ডাকই যথেষ্ট হতে পারে। আন্দোলনের রাজনৈতিক তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কার্যকরণ সম্পর্কে যাদের পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে তারা এমনটি খুব ভালো করে জানেন। বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এটি বহুলভাবে আলোচিত ও পরীক্ষিত। পৃথিবীর ইতিহাসে এতো বড় অভিজ্ঞতা ও রাজনীতির পাঠ থাকার পরও আমাদের দেশে রাজনীতিবিদদের বড় অংশের মুখে যখন নানা কথা শুনি তখন তাদের ওপর আস্থা রাখতে কষ্ট হয়। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই বিষয়গুলো বুঝতে পারে। সে কারণে ১৮ দলীয় জোটের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের প্রতি তাদের আস্থা এবং অংশগ্রহণের বাস্তবতা দুর্বল হতে বাধ্য। সেটিই ঘটেছে। সে কারণে বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে রাজনৈতিক অবস্থানটি গ্রহণ করেছে তা নিয়ে বেশ হতাশা জনগণের মধ্যে রয়েছে, এর যৌক্তিকতা নিয়ে নানা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও প্রশ্ন রয়েছে। মনে হচ্ছে বিএনপি একটি ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। একেবারেই নিষ্প্রয়োজনীয় যুদ্ধ । বিএনপি তথা ১৮ দল এমন একটি নিষ্প্রয়োজনীয় যুদ্ধ ঘোষণা করলে তাতে বেশ কিছু প্রাণ যাবে, সম্পদ ধ্বংস হবে, দেশের অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু লাভ কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর তেমন কেউ কিছু বলতে পারছেন না। দেশে কী এক-এগারো তৈরি হবে— এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় যে, ২০০৬ সালের সঙ্গে ২০১৩ সালের বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সুতরাং এক-এগারো তৈরি হওয়ার ভিত্তিও সেভাবে নেই। ১৮ দল নির্বাচনে অংশ না নিয়ে হরতাল-অবরোধ ইত্যাদি ডেকে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে পারে, মানুষের মধ্যে ভয়-ভীতি আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বেশ কিছু মানুষকে ভোটদানের অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত করতে পারে, নিজের দলের নির্বাচন প্রত্যাশীদের হতাশ করতে পারে। এটি এক অর্থে নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার মনোবৃত্তি হতে পারে। সেটি কি খুব লাভজনক হবে বিএনপির জন্যে? বরং বিএনপি বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ সহজেই গ্রহণ করতে পারে। এতে সর্বদলীয় সরকারের যেসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রয়েছে সেগুলোতে মন্ত্রী হিসেবে অংশ নিতে পারে তারা তাতে নির্বাচনকালীন সরকারের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষিত হতে পারে। এই সরকারে কোনো ধরনের অনিয়ম ও হস্তক্ষেপ করার নজির সৃষ্টি হলে বিএনপির মন্ত্রীরা দেশবাসীকে তা অবহিত করতে পারে, নির্বাচনে তাতে তাদেরই সফল হওয়ার সুযোগ বেশি হতে পারে। সর্বদলীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যারাই যতো ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করুক না কেন, বিএনপি তাতে অংশ নিলে এর চেহারা এবং চরিত্রই অন্যরকম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি কেন সেই সুযোগ গ্রহণ না করে দেশ অচল করার ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেবে তার অর্থ খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না।
নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থায় অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির ভিন্নমত থাকলে তাতে অংশগ্রহণ না করেও শুধু নির্বাচনে অংশ নিতে পারে দলটি বা জোটটি। নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলে বিএনপির তিনশ’ প্রার্থী সকল শক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে পারে। নির্বাচনে কোথাও কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তাতে সুবিধা বেশি হবে বিএনপিরই। যদি তেমনটি না ঘটে তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে যে আসনে যিনি বিজয়ী হয়ে আসবেন— সেটিই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ফসল হিসেবে বের হয়ে আসবে। যে দল সরকার গঠনের মতো আসন পাবে সে দলই সরকার গঠন করবে। বিএনপি এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে না গিয়ে বাইরে থেকে ১৮ দলীয় জোটকে নিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার নামে যে কর্মসূচি দেবে তা কতোখানি সফল হবে সে সম্পর্কে আমাদের গভীর সন্দেহ রয়েছে। তাতে কী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো পরিস্থিতি দেশে সৃষ্টি হবে? মনে হয় না ইতিহাসের তেমন হুবহু পুনরাবৃত্তি ঘটবে। শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই বলেছেন যে, তার অধীনে কোনো কারচুপির নির্বাচন হবে না। যদি তাই হয় তা হলে অনুকূল পরিবেশে ভোটারদের উপস্থিতি আশানুরূপ হলে, ভোটের ফলাফল যথাযথ হলে সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার খুব কি কারণ থাকবে? সে রকম কারণ সৃষ্টি না হলে গঠিত সংসদ ও সরকারের বৈধতা নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রশ্ন তোলার ভিত্তি বোধহয় খুব একটা থাকবে না, কেউ তুললেও তা ধোপে টিকবে বলে মনে হয় না। প্রশ্ন হচ্ছে- আমরা আগামী নির্বাচনটিকে কেন এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যাবো? দেশটাকেই বা কেন আমরা এতো কষ্ট দেবো? আমাদেরকে তো আজ না হোক, কাল হলেও রাজনীতিবিদের অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনেই যেতে হবে? আমরা নির্দলীয় লোকদের খোঁজাখুঁজির চেষ্টা করে এর চাইতে বেশি কিছু অর্জন করার সম্ভাবনা দেখি না। সুতরাং, নির্বাচন প্রতিহত করা বা দেশ অচল করার পুরাতন অচল বিপ্লবী তত্ত্বের মোহ থেকে বের হয়ে এসে উদার গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ম-নীতির নির্বাচনী পদ্ধতিতে অংশ নেয়া, চ্যালেঞ্জ নেয়া, সরকার পরিবর্তনের ধারায় অংশ নেয়া অনেক বেশি উত্তম, সফল, সুখকর, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য বিষয়। বিএনপিতে সাবেক বিপ্লবীদের প্রভাব একটু বেশি, কিন্তু সাবেক এই বিপ্লবীরা এখন জাতীয়তাবাদী দলে গণতন্ত্রের চর্চায় অভ্যস্ত হলে দল হিসেবে বিএনপি, দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সহজেই গণতন্ত্রের ধারায় নির্বিঘ্নে অগ্রসর হতে পারে। সেভাবেই বিষয়গুলো দেখতে হবে।
লেখক :অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
