মর্যাদার লড়াইয়ে আবাহনীর জয়

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৯
আবাহনী তখন ২-০ গোলে এগিয়ে। খেলা শেষ হতে কয়েক সেকেন্ড বাকি। তার আগেই এক দল পুলিশ মাঠের চারপাশ ঘিরে ফেলল নিরাপত্তা বেষ্টনি দিয়ে। শত হলেও আবাহনী মোহামেডান ম্যাচ। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা যেন না ঘটে। শেষ পর্যন্ত সুন্দরভাবেই শেষ হলো দর্শকপ্রিয় দলদুটির খেলা। তাতে আবাহনী ব্রাজিলীয়ান স্ট্রাইকার লুইস রুমলো ক্যাষ্ট্রো, ও নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ওসে মরিসনের গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে হারিয়ে জয়ের মালা নিয়ে ঘরে ফিরে। মোহামেডান ও আবাহনী ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেই গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্রুপের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল। ফুটবল লড়াইটা যেন যুদ্ধের মতোই হয়েছে। যারা এদিন খেলা দেখতে গিয়েছিলেন তারা দেখলেন উপভোগ করলেন। একদলের অনুরাগীরা জয়ের আনন্দ নিয়ে ফিরেছেন অন্যরা ফিরেছেন হারের গ্লানি নিয়ে। তবে এখানেই যে শেষ নয় তা বুঝতে পারছেন দর্শকরা। কারণ চার নম্বর গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী কোয়ার্টার ফাইনালে এক নম্বর গ্রুপের রানার্সআপ ফেনীর সকার ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলবে বৃহস্পতিবার। অপরদিকে গ্রুপ রানার্সআপ মোহামেডান খেলবে এক নম্বর গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের বিরুদ্ধে শুক্রবার। মর্যাদার লড়াইয়ে আবাহনীকে ম্যাচ জিতিয়েছেন দুই অতিথি ফুটবলার। গোল করেছেন ব্রাজিলীয়ান স্ট্রাইকার লুইস রুমলো ক্যাষ্ট্রো, ১০ মিনিটে এবং নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ওসে মরিসন ৭৫ মিনিটে। দুই দলের মূল অস্ত্র ছিল আক্রমণ ভাগ। আবাহনীর স্ট্রাইকার ক্যাষ্ট্রো ও ওসে মরিসন এবং মোহামেডানের এমিলি ও জাহিদ ছিলেন ভরসা। কিন্তু কোচ অমলেস সেনের আবাহনীর কৌশলের কাছে দারুণভাবে মার খেয়েছে সহকারি কোচ জুয়েল রানার মোহামেডান। এমিলি এবং জাহিদ ছিলেন সুপার ফ্লপ। ম্যাচ জয়ের মতো খেলাটা দেখাতে পারেননি। দায়িত্বপূর্ণ খেলা খেলে দলকে বিপদ থেকে তুলে আনতে পারেননি। মোহামেডান সমর্থকরাও লড়াই দেখতে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ওয়ালী ফয়সাল, মিশু, সুজনদের আবাহনী খুব সহজেই জাহিদ, এমিলিদের থামিয়ে রাখলেন। আবাহনীর বিদেশি ফুটবলাররা যতটা তেড়ে ফুড়ে উঠে ছিলেন সেরকম কিছু দেখাতে পারেননি মোহামেডানের বিদেশিরা। তবে একথাও সত্য আবাহনীর অস্ট্রেলিয়ান কোচ নাথান হল চলে গেলেও দেড় মাসের প্রশিক্ষণে দলকে একটা ভালো অবস্থায় রেখে গেছেন। বড় ম্যাচে তারই ফল পেয়েছে আবাহনী। অবশ্য আবাহনীকে গোলের সুযোগটা মোহামেডানই করে দিয়েছে। ডিফেন্ডার আরিফের দোষে প্রথম গোল হজম করে মোহামেডান। আবাহনীর গোল মুখে বল পেয়ে মনগড়া শট করে বল নষ্ট করে প্রথম বার ভুল করলেন। দ্বিতীয় ভুল করলেন নিজের পজিশনে। অমনোযোগী ডিফেন্ডার আরিফ আবাহনীর ব্রাজিলীয়ান স্ট্রাইকার লুইস রুমলো ক্যাষ্ট্রোকে আটকাতে না পেরে ফাউল করলেন। ফ্রিকিক থেকে মোহামেডানের গোল মুখে বল ফেললেন তৌহিদুল আলম। ফাঁকায় দাঁড়ানো ব্রাজিলীয়ান স্ট্রাইকার ক্যাষ্ট্রো হেড করলেন, বল মোহামেডানের জালে। খেলার তখন মাত্র ১০ মিনিট এবং এতো সহজ গোল পেয়ে যাবে তা বোধহয় নিজেরাও কল্পনা করতে পারেনি আবাহনী সমর্থকরা। এক আক্রমণেই গোল পেয়ে এগিয়ে যায় নীল হলুদ দল ১-০। এর ছয় মিনিট পরই গোলটা শোধ করার সুযোগ পেয়েছিল মোহামেডান। এমিলি আবাহনীর গোলকিপার সোহেলকে বক্সের ভেতর একা পেয়ে গোল করতে পারলেন না। মোহামেডানের অধিনায়কের এমন দুর্বল পরিস্থিতি দেখে দলের সমর্থক অনেকেই গালমন্দ করতে লাগলেন। তারপরও আশায় বুক বেঁধেছিলেন সাদাকালো সমর্থকরা। কিন্তু লাভ হয়নি। এক গোলে আস্থা ছিল না আবাহনীর। চেষ্টা করল ব্যবধান বাড়ানোর। দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনীর মরিসন ব্যর্থ হওয়ায় বেঁচে যায় মোহামেডান। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের খেলায় ৭৫ মিনিটে মোহামেডানের উপর রেকে টুকে দেন মোহামেডান থেকে আবাহনীতে আসা স্ট্রাইকার মরিসন। তৌহিদের শট মোহামেডানের পোস্টের গোড়ায় লেগে ফেরত আসে। মোহামেডানের রক্ষণভাগ তখন এলোমেলো। পোস্টে নেই গোলকিপার মামুন খান। ফাঁকা পোস্টে বলটা টেলে দেন মরিসন ২-০। মোহামেডান ঃ মামুন খান, আরিফুল ইসলাম (মিন্টু শেখ), তপু বর্মন, নাহিদুল ইসলাম, বাইবেক, ইমন বাবু (সোহাগ), হেমন্ত বিশ্বাস, ইমন বাবু, চুকা চার্লস (ওয়াহেদ আহমেদ), জাহিদ, এমিলি। আবাহনী ঃ সোহেল, ওয়ালী ফয়সাল, মিশু, সুজন, সামাদ ইউসুফ, আরমান আজীজ (শাহেদ), কোমল, তৌহিদ (শরিফুল), ইউকো স্যামনিক, লুইস রুমলো ক্যাষ্ট্রো (সৈকত ভৌমিক), ওসে মরিসন। রেফারি ঃ মিজানুর রহমান। আজকের খেলা শেখ রাসেল ঃ মুক্তিযোদ্ধা ব্রাদার্স ঃ বিজেএমসি (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৩টা ৪৫ ও সন্ধ্যা ৬টা)