সেতুতে চলন্ত সিঁড়ি প্রসঙ্গে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৪, ২১:৪১
রাজধানীর অভিজাত এলাকার একটি ফুটওভার ব্রিজ বা পদচারী সেতুতে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হইতেছে। পদচারী সেতু ব্যবহারে অনাগ্রহী পথচারীদেরকে আকৃষ্ট করিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হইয়াছে বলিয়া কর্তৃপক্ষীয় সূত্রের বরাত দিয়া একটি স্থানীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হইয়াছে। প্রতিবেদনটিতে এই সেতুর ভাল-মন্দ উভয়দিক লইয়াই আলোকপাত করা হইয়াছে। কোন কোন বিশেষজ্ঞ দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় এই ধরনের সেতুর প্রয়োজনীয়তা লইয়া প্রশ্নও তুলিয়াছেন। তবে এই কথাও সত্যি যে, যেকোন নূতন বিষয়কে প্রথম প্রথম মানিয়া লইতে স্বভাবত:ই মানুষের এক প্রকার অনীহা থাকে। তবে যখন নূতন প্রবর্তিত কোন জিনিস গা সওয়া হইয়া যায় তখন উহাই মানুষের নিকট একান্ত প্রয়োজন হইয়া দেখা দেয়। তখন মনে হয় যে, ইহা ছাড়া বুঝি আর চলাই যাইবে না। এই একই সূত্র মোতাবেক বনানীর ফুটওভার ব্রিজে স্বয়ংক্রিয় সিঁড়ি সংযোজনকে সমালোচনার মুখে পড়িতে হইতেছে বটে তবে একবার চালু হইয়া গেলে এই ধরনের সমালোচনাও থামিয়া যাইবে। তবে এই ক্ষেত্রে ঐ পদচারী সেতুর স্বয়ংক্রিয় বা চলন্ত সিঁড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং উহা ব্যবহারে সচেতনতা অপরিহার্য। শুধু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বসাইয়া জনসাধারণকে চমক দেখানোই যদি মূল উদ্দেশ্য হয় তাহা হইলে উহা এক প্রকার ফাঁকিবাজি বা ধোঁকাবাজিরই নামান্তর হইয়া পড়ে। কিন্তু যদি সত্ উদ্দেশ্যে এবং সত্যিকার অর্থেই জনসাধারণকে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে উন্নত প্রযুক্তির দ্বারস্থ হইয়া উহা বাস্তবায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের আন্তরিক প্রচেষ্টা সার্বক্ষণিকভাবে অব্যাহত রাখা যায় তাহা হইলে সকলেই এমন উদ্যোগের ব্যাপারে যে সাধুবাদই দিবে উহাতো বলাই বাহুল্য। এমন দৃষ্টিভঙ্গি হইতেই আমরা এই জাতীয় অত্যাধুনিক চলন্ত সিঁড়ি স্থাপনের ঘটনায় আপত্তিকর কিছু দেখিতে পাইতেছি না। বরং ইহাকে যুগোপযোগী এবং প্রয়োজনীয় বলিয়া মানিয়া লইতেও কুণ্ঠিত বোধ করিতেছি না। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ইহা ব্যয়বহুল এমনকি বিলাসিতা বলিয়া সাধারণভাবে মনে হইতেই পারে; তথাপি প্রযুক্তি মানুষের জীবনধারাকে সহজতর করিয়া তুলিতে নিত্যদিনই যে সকল নূতন নূতন উপাদান ও উপকরণের ডালি আমাদের সামনে মেলিয়া ধরিতেছে তাহাতে উহাকে উপেক্ষা করাও এক প্রকার অর্বাচিনতা নয় কি? প্রযুক্তির বা আধুনিক জীবনবোধের সহিত মানুষের সচেতনতাকে যদি ছড়াইয়া দেওয়া যায় তাহা হইলে উহা কল্যাণই বহিয়া আনে আর ইহা বহুবার বহুভাবেই এই জগতে প্রমাণিত সত্যরূপে প্রতিভাত হইয়াছে। আমরা যেকোন প্রকারের অপচয়ের বিরুদ্ধে, আবার কিছু লোকের পকেট ভারি করিবার বা কোন মতলবি স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টারও বিরুদ্ধে আমরা। তবে কোন আধুনিক উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয় তাহা হইলে উহাকে জনমানুষের বা জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ হইতে বিবেচনা করিয়া উহার প্রতি সমর্থন বা বিরুদ্ধাচরণে পক্ষপাতী। বনানীতে প্রস্তাবিত চলন্ত সিঁড়ি যদি জনস্বার্থে উপকারী বলিয়া প্রতিষ্ঠিত করিতে কর্তৃপক্ষ সক্ষম হন তাহা হইলে রাজধানীর অন্যান্য অঞ্চলেও অনুরূপ সিঁড়ি স্থাপন করা যুক্তিসিদ্ধ বলিয়াই বিবেচিত হইবে নিশ্চয়ই। এই ব্যাপারে আগাম বিরোধিতা বা আপত্তি যুক্তিসঙ্গত নহে। যদি এই সিঁড়ি বিলাসিতা ও অপচয় বলিয়া প্রমাণিত হয় তাহা হইলে আগামীতে কর্তৃপক্ষ অন্য কোথাও ইহা স্থাপনের মতো বোকামি আর করিবেন না নিশ্চয়ই। সুতরাং দেখা যাক বনানীর চলন্ত সিঁড়ি এই ক্ষেত্রে কি বার্তা আমাদের জন্য বহিয়া আনে!

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন