ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২১:৩০
অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অবস্থানের উপর একটি রাষ্ট্রের সম্মান নির্ভর করে। তাই আর কেউ পেছনে পড়ে থাকতে চায় না। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর দৃষ্টি যেমন শীর্ষস্থানের দিকে তেমনি আমাদের দেশও হরতাল অবরোধ অতিবাহিত করে ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে চলছে। প্রায় দেড়মাস উত্কণ্ঠা আর লাগাতার হরতাল অবরোধ অতিবাহিত করে অর্থনীতি আজ কিছুটা হলেও তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য ফিরে পাচ্ছে তার গতি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আমদানি-রপ্তানিসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু বর্তমান জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে প্রচুর পণ্য রপ্তানি হয়েছে বিদেশের বাজারে। এছাড়া প্রচুর আলু উত্পাদন ও তা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করার প্রক্রিয়াও চলছে। এক্ষেত্রে দেশের সরকার, নীতি নির্ধারক, অর্থনীতি বিশেষজ্ঞসহ সকলেরই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী তত্পরতার প্রয়োজন। মো. আলী মাস্উদ বিবিএ, ১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। ০০০০০০০০০০ বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ও পরে রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক হয়েছিল। সর্বত্র হরতাল,অবরোধের মত কঠোর কর্মসূচির কারণে পণ্য উত্পাদন ও পরিবহনের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছে এদেশের অর্থনীতিতে। বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতিতে এক ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়েছে। এখন সময় এসেছে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চাঙ্গা করার। সর্বোপরি আমাদেরকে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে একযোগে কাজ করতে হবে। কারণ যে জাতি অর্থনীতিতে যত স্বাবলম্বী সে জাতি তত উন্নত। এম. আকরাম হোসেন শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ (মাস্টার্স) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০০০০ অর্থনীতির উন্নতির প্রধান শর্ত হল স্থিতিশীল রাজনীতি বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। যে দেশের নারীরা সকালে উঠে গার্মেন্টসে যাচ্ছে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে, যে দেশ সমুদ্রবক্ষে আর একটি সম-আয়তনের দেশ আবিষ্কার করছে, দেশের ব্যাংকের রিজার্ভ ১৮ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু তারপরও দেশের অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর ইস্যুবিহীন ঘন ঘন হরতালের কারণে। তারপরও যে দেশ সামনের দিকে এগুচ্ছে এটা আমাদের শ্রমজীবী সাধারণ মানুষগুলোর জন্য। তাই বাংলাদেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন— আপনারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দেশের মানুষকে জিম্মি না করে দেশকে স্থিতিশীল রাখুন। মো. কামরুল হাসান (লায়ন) এম এস ইন কৃষি অর্থসংস্থান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ ০০০০০০০০০০ বলতে হবে আমাদের অর্থনীতি অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল নির্বাচনের পরে তার অনেকটা অবসান হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আজকে দেশ হরতাল অবরোধ না থাকার কারণে অর্থনীতিকভাবে অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আজকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঠিকভাবে ছাত্রদেরকে শিক্ষা দান করেছে, কল-কারখানার শ্রমিকরা তারা তাদের সঠিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু আবার যদি আগের মতো হরতাল অবরোধ শুরু হয়ে যায় তাহলে দেশে আবার বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যাবে এবং অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমাদের রাজনীতিবিদদের কাছে আবেদন আপনারা হরতাল অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি বাদ দিয়ে সংলাপের মাধ্যমে তা সমাধান করুন। আমরা আশাকরি আমাদের রাজনীতিবিদরা দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের অর্থনীতির কোন ক্ষতি হয় এমন কোন কঠোর কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবেন এবং দেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করে সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে থাকবেন এটাই সবার কাম্য। মো. ইলিয়াছ আলম সুমন শিক্ষার্থী, বিএ, সাউথ সন্দ্বীপ কলেজ, সন্দ্বীপ। ০০০০০০ ক্রমাগত উন্নতির পথে থাকুক দেশের অর্থনীতি বিশাল জনশক্তি, সীমিত সম্পদ—এই নিয়ে আমাদের মধ্যবিত্ত অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। এই সীমিত সম্পদ নিয়ে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিল দেশের অর্থনীতি। কিন্তু বিগত কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতাই অর্জিত অর্থনৈতিক উন্নতির সবটুকু ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ঠেকে। ২০১৩ সালে এফবিসিআই এর হিসাব মতে, হরতাল ও অবরোধে দেশের প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পোশাক শিল্প এবং পরিবহন শিল্প। সামপ্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জনমনে এখনও আতঙ্ক রয়েই গেছে। দীর্ঘদিন পর দেশের অর্থনীতি আবার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। তাই সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের প্রতি উদাত্ত আহবান সহিংসতার পথ পরিহার করে একত্রে কাজ করে দেশকে নিয়ে যান উন্নতির স্বর্ণশিখরে। মো. মোস্তাফিজুর রহমান ১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার ব্যবসা প্রশাসন বিভাগ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন