একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এগ্রিবিজনেস-এর গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, কৃষকের উত্পাদিত কৃষি পণ্য পারিবারিক চাহিদা পূরণ করে বাজারজাতকরণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশে বেশ উল্লেখযোগ্য সময় পূর্বেই। এখানে একথা বলে রাখা প্রয়োজন যে, কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণের যত প্রসার ঘটবে; কৃষক হবে ততো সচ্ছল। কৃষক যত হবে সচ্ছল শিল্পজাত পণ্যের বাজার ততো হবে প্রসারিত। যার সমষ্টিগত ফল হবে জাতীয় অর্থনীতির অগ্রগতি। মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে বলা যায় যে, এগ্রিবিজনেস খাত যত হবে শক্তিশালী জাতীয় অর্থনীতি ততো হবে সমৃদ্ধ।
এগ্রিবিজনেস শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জন এইচ ডেভিস ১৯৫৫ সালে। পৃথিবীতে বিরাজমান খাদ্য সংকটের কারণে এগ্রিবিজনেস সময়ের ব্যবধানে দিনে দিনে সম্প্রসারণসহ বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ অবস্থানে চলে এসেছে। এই খাতটি সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মধ্যম ও বড় ধরনের প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কয়ার, এ সি আই, মিল্ক ভিটা, আফতাব গ্রুপ, আড়ং গ্রুপ উল্লেখযোগ্য।
এই জাতীয় ব্যবসার মধ্যে উত্পাদনের উপকরণ সেক্টর, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উত্পাদন প্রতিষ্ঠান, গুদামজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাইকারী বিক্রেতা শ্রেণী, খুচরা বিক্রেতা শ্রেণী ও রপ্তানিকারক। উল্লেখিত রপ্তানি খাতগুলোতে যার যার অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। তবে বাস্তবিক অর্থে পর্যবেক্ষণ একথা বলছে যে, এগ্রিবিজনেস খাতের মধ্যে উপ-খাতসমূহের মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব। যথোপযুক্ত সমন্বয় সাধন করতে পারলে উপ-খাতগুলো অধিকতর কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্য এজন্যে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বাস্তবধর্মী গবেষণা। যাইহোক, এই খাতটি বিজনেস সার্ভিস, শস্যখাত, পশুপালন, পোলট্রি, মত্স্য খাত, এ্যাগ্রোপ্রোসেসিং, এ্যাগ্রোইনপুটস ও কৃষিভিত্তিক খাতগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত করছে।
বাস্তবিক অর্থেই আমাদের দেশে ভারসাম্যমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিচর্যা একান্ত প্রয়োজন। কারণ, আমাদের জল, জমি, জনগণ, এই থি ‘জ’ এর যথাযথ ব্যবহার না করে রপ্তানিমুখী গা নামক শিল্প নির্ভর ব্যবস্থা যুক্তিতে টিকে না। এখানে আর একটি বিষয় বলার দাবি রাখে- খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বলতে আমরা কি শুধু ধান উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বুঝবো। আমরা যেখানে তেল, ডাল, পিঁয়াজ, রসুুন, আদাসহ ফল, মাছ, গরুসহ বিভিন্ন রকমের মসলা আমদানি করছি সেখানে কি করে বলছি যে, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই, বাস্তবতার খাতিরেই আমাদের এ্যাগ্রোবিজনেস খাতের উন্নয়নের জন্যে জাতীয় পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই খাতের উন্নয়নের সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগসহ নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়টি জড়িত।
লেখক :কলামিষ্ট ও অর্থনীতিবিদ
