সমঝোতার রাজনীতি : প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২১:৩৬
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অতুল কেশপ চার দিনের সফরে ঢাকা এসেছিলেন। বাংলাদেশে অবস্থানের সময় তিনি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তা এবং নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন। গত কদিন আগে আমেরিকান সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সমঝোতার সেরা সুযোগটি এসেছে। ‘ছাড় দেয়া ও সমঝোতার’ মানসিকতা থেকে সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার বাংলাদেশের করা উচিত। অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অতুল কেশপ বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলকে একটি অবাধ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, সেখানে সব দল শান্তিপূর্ণভাবে ও অবাধে তাদের মতের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তার এসব বক্তব্য নতুন কিছু নয়। আমেরিকার পক্ষ থেকে এ ধরনের কথা অনেক বলা হয়েছে। তারপরও ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে সমঝোতার সেরা সুযোগটি এসেছে’ বলে তিনি যে মন্তব্য করেছেন সেটা একটু কানে বাজছে। কিসের ভিত্তিতে বা কেন তিনি এ কথাটি বলেছেন তা জানা গেলেও এটা তো ঠিক যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শান্তি ও সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। যদিও এই দুই দলের মধ্যে বৈরিতা এতো প্রবল যে, কোনো জাতীয় ইস্যুতেই তাদের একমত হতে দেখা যায় না। এই বৈরিতার পেছনে আদর্শিক মতবিরোধ যেমন আছে, তেমনি ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির দুর্নিবার আকর্ষণও আছে। দুইটি দলেরই রয়েছে ব্যাপক জনসমর্থন। সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকেও কেউ কারো থেকে খুব বেশি এগিয়ে-পিছিয়ে আছে বলেও অনেকেই মনে করেন না। এরশাদ স্বৈরাচারের পতনের পর থেকে এই দুইটি দল পালাক্রমে সরকার ও বিরোধী দলে অবস্থান করলেও এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় দশম সংসদে দলটির প্রতিনিধিত্ব নেই। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন-সমালোচনা-বিতর্ক আছে। তবে ওই নির্বাচন এবং তাকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে সেটা অস্বীকার করেও সামনে এগুনো যাবে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে যদি ‘ছাড় দেয়া ও সমঝোতার’ মানসিকতা থাকতো তাহলে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অন্যরকম হতো। দেশের রাজনীতির চিত্রটাও ভিন্নতর হতো। যা হয়েছে, সেটা নিয়ে বিতর্ক করে লাভ নেই। এখন তাকাতে হবে সামনের দিকে। বিতর্ক যদি করতেই হয় করতে হবে ভবিষ্যত্ নিয়ে। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকেই দেশের প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল যদি ভবিষ্যত্ করণীয় নির্ধারণ করে তাহলে হয়তো একটি সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে বিএনপিকে যেমন কৌশল পরিবর্তন করতে হবে, তেমনি আওয়ামী লীগকেও বিএনপির জন্য জায়গা তৈরি করে দিতে হবে। বিএনপি যদি আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে তাহলে সমঝোতার পথে হাঁটা দুরূহ হবে। তাছাড়া কয়েকটি বিষয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ও অবস্থান নিয়ে সবসময় বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, হত্যা তথা অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বদল ইত্যাদি প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট না হলে সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি হবে না। দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থের বাইরে রাখতে হবে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোকে। আন্দোলনের প্রশ্নেও বিএনপির অবস্থান বদলাতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিবর্তে হিংসাশ্রয়ী কর্মকাণ্ড মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। এটা আমরা দেখছি যে, আন্দোলন করে কিংবা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার হটানোর জন্য মানুষ আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের ক্ষেত্রে যেভাবে আন্দোলন করা সম্ভব, সেটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় করা যেতে পারে না। নির্বাচিত সরকারের কার্যকলাপ মানুষের অপছন্দ হলে পাঁচ বছর পর ভোটের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন করবে। এজন্য অকারণ ঘন ঘন হরতাল-অবরোধ না ডেকে বিরোধী দলের উচিত হবে তাদের সরকার বিরোধী বক্তব্যগুলো সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরা। সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেই দেশে আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে মনে করার কারণ নেই। গণ-আন্দোলন বা অভ্যুত্থানের প্রশ্নে স্বপ্নবিলাসী হলেই সমস্যা দেখা দেয়। বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার আন্দোলনে এই সমস্যায় পড়েছিল। জনমনস্তত্ত্ব একটি জটিল বিষয়। কখন, কোন ঘটনায় জনমনস্তত্ত্বে কি অভিঘাত সৃষ্টি হয় তা আগে থেকে অনুমান করা খুব সহজ কাজ নয়। রাজনীতিবিদ হলেই যে কেউ জনমনস্তত্ত্ব পুরো বুঝতে পারেন, তা নয়। এটা বুঝতে পারলে অনেকেই গান্ধী কিংবা শেখ মুজিব হতে পারতেন। আসলে রাজনৈতিক আন্দোলনের কোনো ছকবাঁধা পথ নেই। খাবার স্যালাইন তৈরির মতো কোনো সহজ ফর্মুলাও নেই। সরকার নির্যাতনের পথ বেছে নিলে, লাঠি-গুলি-টিয়ার গ্যাস চালালেই বিক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে গণ-অভ্যুত্থান ঘটায় তাও নয়। যদি সরকারি নির্যাতন কিংবা মানুষ হত্যার ঘটনা সফল আন্দোলন কিংবা গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টির বড় কিংবা একমাত্র উপাদান হতো তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশে একটি নয়, কয়েকটি গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হতো। সে সময় জোট সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছাড়াও কখনো কখনো সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধেও ভয়াবহ দমন-পীড়ন-নির্যাতন চালিয়েছে। অথচ তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগ অনেক চেষ্টা করেও বড় ধরনের গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। মেয়াদের আগে সরকারও পদত্যাগ করেনি। কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের একক কিংবা ঐক্যবদ্ধ আহ্বানেই দেশে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয় না। যখন বিভিন্ন সামাজিক শক্তি সংগঠিতভাবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করে, তখনই কেবল রাজনৈতিক আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে; কিন্তু আমাদের দেশ এখন রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত। বর্তমানে সামাজিক শক্তি বা শ্রেণী-পেশার সংগঠনগুলোর মধ্যেও বিভাজন ও বিভক্তি। ছাত্ররা এখন আর আগের মতো ঐক্যবদ্ধ নেই, সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনেরই শক্তি বা জমায়েত ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় বেশি। শ্রমিক সংগঠনগুলো প্রায় অস্তিত্বহীন। পেশাজীবী সংগঠনগুলো বিভক্ত এবং দুর্বল। অতীতের যে সব আন্দোলনের সাফল্যগাঁথা এখন আমরা প্রায়ই উল্লেখ করে থাকি সে সব আন্দোলনে রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি ছাত্র-শ্রমিক-পেশাজীবীসহ সবার অংশগ্রহণ ছিল। বর্তমানে এই শক্তিগুলো যে অবক্ষয়ের শিকার— এটা মনে রেখেই বিএনপিকে ভবিষ্যত্ রাজনৈতিক পরিকল্পনা করতে হবে। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে এরশাদ শাসনের অবসানের পর থেকে দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ধারা চালু হলেও নির্বাচিত সরকারকে মেয়াদকালের আগেই ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিরোধী দলের আন্দোলন করাটাও একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। যদিও হরতাল, লাগাতার হরতাল, অবরোধ, লংমার্চ, মানববন্ধনসহ আন্দোলনের নানা ধরনের কর্মসূচি পালন সত্ত্বেও নির্বাচিত কোনো সরকারকেই মেয়াদপূর্ণ হওয়ার আগে ক্ষমতা থেকে হটানো সম্ভব হয়নি। নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে মানুষের ব্যাপক সাড়া না পাওয়ার বড় কারণ সম্ভবত এটাই যে, ক্ষমতাসীনদের হটিয়ে যারা ক্ষমতায় আসতে চায় তারা কতটুকু ভালো শাসন উপহার দিতে পারবে, সে বিষয়ে মানুষের মনে সংশয় আছে। মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই এটা উপলব্ধি করছে, সরকার পরিবর্তন হলেই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, ক্ষমতায় গিয়ে তা ভুলে যাওয়ার নজির মানুষ দেখছে। সেজন্য গরম কড়াই থেকে জ্বলন্ত চুলায় পড়ার জন্য কেউ পরিবর্তন চায় না। এটা বুঝতে না পেরে কেবল আন্দোলন আন্দোলন বলে হুঙ্কার দিয়ে যে কোনো লাভ হয় না- এটা নিশ্চয়ই বিএনপি নেতৃত্ব এখন বুঝতে পারছেন। দেশের রাজনীতিতে যে এখন তীব্র তিক্ততা চলছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সরকারি দল ও বিরোধী দল পরস্পর মুখোমুখি অবস্থানে। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না, বিশ্বাস করে না। রাজনীতির নামে চলছে ব্লেম গেম বা পারস্পরিক দোষারোপ। রাজনীতির এই তিক্ত পরিবেশের জন্য কেউ কেউ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে সমানভাবে দায়ী করে থাকেন। এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য করলে অনেকেই খুশি হন। সংবাদপত্রে যারা কলাম লেখেন, বিভিন্ন বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যারা কিছুটা ভূমিকা পালন করেন, তাদের অনেককেও দেখা যায়, বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে তুলোধুনা করতে। কিছু মানুষ হয়তো এতে তাদের বাহবা দেন, তারিফ করেন; কিন্তু আসলে কি এটা ঠিক? নীতি-আদর্শের ক্ষেত্রে এই দুই দলের ব্যবধান কমে আসলেও একেবারে একবিন্দুতে গিয়ে মেশেনি। তাছাড়া দেশ শাসনে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির রেকর্ড কি সত্যি এক রকম? আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির রাজনীতির মধ্যে কি একেবারেই কোনো পার্থক্য নেই? দলকে এক পাল্লায় মেপে সমান দোষে দোষী সাব্যস্ত করলে বাস্তবে এক দেলের প্রতি পক্ষপাত করা হয়। যে অবস্থা চলছে তাতে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দ্রুত কোনো পরিবর্তন আশা করা যায় না। রাজনীতি থেকে সংঘাত বিদায় নিয়ে সমঝোতার ধারা কার্যকর হবে বলে যে আশা দেশের মানুষ করছে, বাস্তবে তা হচ্ছে না। জাতীয় সংসদ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে আমরা যে আশা করেছিলাম তাও পূর্ণ হচ্ছে না। জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারি দলের আগ্রহে যেমন ঘাটতি থাকে, তেমনি বিরোধী দলও সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে গিয়ে সংসদকেই কার্যত অকেজো করে ফেলছে। এটা একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। কি দাওয়াই ব্যবহার করলে এই ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করা যাবে তা কোনো রাজনৈতিক পণ্ডিত বলতে পারছেন না। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি সংসদে যায় না। আবার বিএনপি সরকারে থাকলে আওয়ামী লীগ সংসদে উপস্থিত থাকতে স্বস্তিবোধ করে না। একানব্বই থেকেই এই ধারা চলছে। অথচ দেশের প্রধান দুইটি বড় দলের মধ্যে যে বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করছে তা কাম্য নয়, বাঞ্ছিত নয়। অবশ্য এটাও ঠিক যে, এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। তাই একদিনে এর অবসানও হবে না। তবে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হতে হবে সংবিধান অনুসারেই। বর্তমান সংবিধানের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাবার আর কোন সুযোগ নেই। তবে নির্বাচন যাতে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করাসহ আর কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সে সব বিষয়ে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে শর্তহীন সংলাপ হতে হবে। এক্ষেত্রে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সংবিধানের ছোটখাট কিছু পরিবর্তনের কথাও ভাবা যেতে পারে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিরোধী দলকে নির্বাচনকালীন সরকারের অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে প্রস্তাবের সূত্র ধরেই নতুন করে আলোচনার সূচনা হতে পারে। আলোচনার জন্য পরিবেশ তৈরিতে সরকারকে যেমন নমনীয়তা দেখাতে হবে। বিএনপিকেও তেমনি আন্তরিকতা দেখাতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বৈধ। কাজেই এই সরকারকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করার জন্য আন্দোলনের হুমকি দিলে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হবে না। আবার সরকারি দলের নেতাদের পক্ষ থেকেও আন্দোলনকারীদের হাত পা কেটে দেয়ার হুমকি দিলে সেটাও সমঝোতার পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের রাজনীতিতে এক নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। বিএনপির মতো একটি বড় দল সংসদে নেই। সংসদে যারা বিরোধী দল, তারা আবার সরকারেরও অংশ। এ অবস্থায় সংসদ কতটা কার্যকর হবে- সে প্রশ্ন আছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মুখে দেশে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে উভয়পক্ষের ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকলে। এই ছাড় দেয়ার মনোভাব দেখানোর মতো ঔদার্য কেউ দেখাবে কি-না সেটাই দেখার বিষয়। বিভুরঞ্জন সরকার : সাংবাদিক ও কলামিস্ট [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন