হরতাল-অবরোধ সর্বদা বিরূপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অর্থনীতির দিকে
একাত্তরের স্বাধীনতা আন্দোলনের পেছনে প্রকট একটি কারণ ছিল অর্থনৈতিক মুক্তিলাভ ও উন্নতি সাধন। অপ্রিয় সত্য হচ্ছে একাত্তর পরবর্তী প্রায় সকল বড় আন্দোলনের টার্গেটই ছিল অর্থনীতির চাকাকে অচল করা। সোজা কথায় অর্থনীতিকে ধ্বংস করা। যা আজ অবধি বর্তমান। অথচ অর্থনৈতিক উন্নতি ব্যতিত জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব। তাই হরতাল, অবরোধ-এর নতুন ইস্যু উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়াটা জরুরি, কেননা অর্থনৈতিক অবরোধ এবং অর্থনৈতিক উন্নতি দুটি দুই মেরুর শব্দ। অব্যাহত থাকুক অর্থনীতির উন্নয়নের ধারা। অন্তত পৃথিবীর বুকে একটু মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য হলেও।
আব্দুল্লাহ আল মামুন
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, (তৃতীয় বর্ষ)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
অর্থনীতির চাকায় গতি ফিরে আসুক এই আমাদের প্রত্যাশা
“মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয় আড়ালে তার সূর্য হাসে”। আমাদের অর্থনীতির টার্ন পয়েন্ট দেখে এই বিখ্যাত উক্তিটির কথা স্মরণ হয়ে গেল। ইউরোপ এবং আমেরিকা আমাদের গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে যত কথাই বলুক না কেন আমাদের কাজের যে মূল্যায়ন সেটা তার সুর পাল্টে দিবে। যে অল্প শ্রমে তারা পণ্যটি পাচ্ছে তা পৃথিবীর আর কোন স্থানে আছে বলে আমার মনে হয় না। যে পণ্যটি চীনে তৈরি করতে একশ টাকার প্রয়োজন তা যদি ত্রিশ টাকায় করানো যায় সেটার ফসল তো পুঁজিবাদিরাই গ্রহণ করছে। তো আমাদের অর্থনীতির চাকা ঘুরবে না কাদের চাকা ঘুরবে। সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়তে হলে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। তাই সবার নিরঙ্কুশ সহোযোগিতায় অর্থনীতির চাকায় গতি ফিরে আসুক এবং চেহারা বদলে যাক পুরো দেশের।
মো. জসিমউদ্দিন
একাউন্টিং ইনফরমেশান সিস্টেম বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
অর্থনীতির চাকা
সচল রাখতে
হবেই
বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অবস্থানের উপর একটি রাষ্ট্রের সম্মান নির্ভর করে। তাই আর কেউ পেছনে পড়ে থাকতে চায় না। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর দৃষ্টি যেমন শীর্ষস্থানের দিকে তেমনি আমাদের দেশও হরতাল অবরোধ অতিবাহিত করে ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে চলছে। প্রায় দেড় মাস উত্কণ্ঠা আর লাগাতার হরতাল অবরোধ অতিবাহিত করে অর্থনীতি আজ কিছুটা হলেও তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ফিরে পাচ্ছে তার গতি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আমদানি-রপ্তানিসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছে আমাদের অর্থনীতি; কিন্তু বর্তমান জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে প্রচুর পণ্য রপ্তানি হয়েছে বিদেশের বাজারে। এছাড়া প্রচুর আলু উত্পাদন ও তা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করার প্রক্রিয়াও চলছে। এক্ষেত্রে দেশের সরকার, নীতি নির্ধারক, অর্থনীতি বিশেষজ্ঞসহ সকলেরই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী তত্পরতার প্রয়োজন। আর বিদেশি বিনিয়োগ হতে পারে বাংলাদেশের উন্নয়নের সোপান। তাই এক্ষেত্রে কোন অবহেলা নয়, মতানৈক্য কিংবা বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।
আবদুস সালাম
অনার্স ৩য় বর্ষ, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
জনগণের প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী
বিষয় যখন অর্থনীতি, তখন অবশ্যই রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠে আসবে। আর বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশেষভাবে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে উন্নতি সাধিত হয়েছে তা অনস্বীকার্য; কিন্তু একই সময় স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশগুলোর দিকে তাকালে তা অসন্তোষজনক। হয়ত বাংলাদেশও সে সকল দেশের অন্তর্ভুক্ত হতে পারত যারা স্বল্প সময়ে অনেক এগিয়ে আছে; কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সঠিক নেতৃত্বের অভাবে এখনো অর্থনীতিতে দেশ অনেকটা পিছিয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন পূর্ববর্তী হরতাল, অবরোধ দেশের অর্থনীতিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে ব্যবসায়ী মহল নেমে এসেছিলেন রাজপথে। পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। দেশ জনগণের, এই সাধারণ জনগণই একসময় দেশের অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ ও শক্তিশারী করে তুলবে। হয়ত রাজনৈতিক অস্থিরতা বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াবে; কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে ঠিকই বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। দেশের জনগণ সফল হবে।
আকিব ইমন
বিজ্ঞান বিভাগ, আইডিয়াল কলেজ,
৬৫, সেন্ট্রাল রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা ১২০৫
আমাদের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতেই
হবে
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো দেশের আর্থিক খাত একেবারে বিপর্যস্ত না হলেও যথেষ্ট মাত্রায় ঝুঁকির মধ্যে আছে। সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ পরিশোধের নীতিমালা শিথিল করেছে। ফলে ব্যাংকের আয়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর ব্যাংকের সঙ্গে শেয়ারবাজারের সম্পর্ক রয়েছে। বছর শেষে মুনাফা কমলে শেয়ার মূল্যে এর প্রভাব পড়বে। বর্তমানে বেশির ভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের কাছাকাছি। তবে এ অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। তবুও ঘুরে দাঁড়াতেই হবে আমাদের অর্থনীতি।
মো. রাকিব হোসেন
হিজলা ডিগ্রি কলেজ, বরিশাল
