সিরিয়ায় বন্দুকের নল উপেক্ষা করে খাদ্যের সন্ধানে রাস্তায় নেমেছে মানুষজন। কখনো কখনো মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে বা মরণকে বরণ করে নিতে হচ্ছে তাদের। যার ফলে দামেস্কর একটি শরণার্থী শিবিরেই নিহতের সংখ্যা অন্ততপক্ষে ১২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আর এ পরিস্থিতিকে সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা একটি কৌশল হিসেবে দেখছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলছে, সরকার যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে বেসামরিক জনগণকে অনাহারে রাখার কৌশল নিয়েছে।
ইয়ারমক শরণার্থী শিবিরের কথাই ধরা যাক। সেখানকার স্থানীয় লোকজন অ্যামনেস্টিকে জানিয়েছে, তারা আজ কয়েকমাস ধরে কোন ফল বা শাক-সবজি খেতে পায় না। এখানকার শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। গত কয়েক মাসে এ ক্যাম্পে ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধু অভুক্ত থাকার কারণে। বর্তমানে এই শিবিরে ১৭ থেকে ২০ হাজার ফিলিস্তিন ও সিরীয় শরণার্থী অবস্থান করছে। এছাড়া গত প্রায় একবছর ধরেই বিদ্যুত্হীন রয়েছে শিবিরটি। তার ওপর মৌলিক চিকিত্সা সামগ্রীর সরবরাহ না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ হাসপাতাল। সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশটির হাজার হাজার মানুষ একই ধরনের মানবিক সংকটের ফাঁদে পড়েছে। বেসামরিকদের ওপর এ ধরনের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে সিরীয় বাহিনী ভয়ানক অপরাধ করছে বলে মনে করেন অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক ফিলিপ লুথার।
ফিলিপ বলেন, এখানকার পরিবারগুলো এতটাই চরম দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে যে তাদের আজ কুকুর ও বিড়ালের মাংস খেয়ে জীবন ধারণ করতে হচ্ছে। খাবারের সন্ধানে বের হয়ে চোরাগোপ্তা হামলায় মৃত্যুর মুখে পতিত হতে হচ্ছে তাদেরকে। এগুলো এখন ইয়ারমক শিবিরের পরিচিত সব ভয়ঙ্কর গল্প। তিনি আরো বলেন, এ এক ‘সমষ্টিগত শাস্তি’। তবে শিবিরটির এ অবস্থায় অতিসত্বর মানবিক সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
