বঙ্গবন্ধুর আরেক বন্ধু চলে গেলেন

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৪, ২১:২০
গত শুক্রবার (১৪ মার্চ) ব্রিটিশ বাম গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ টনি বেন চলে গেলেন। পুরো নাম লর্ড ওয়েজউড এন্থনি বেন। ১৪ মার্চ আমার বাবার মৃত্যুদিবস। সকালে ঘুম থেকে উঠে লেখার টেবিলে বসে তাকে যখন স্মরণ করছি তখন খবর এলো, টনি বেন চলে গেছেন। খুবই পরিণত বয়সে তার মৃত্যু হলো। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বয়সাধিক্যে অবসর জীবনও যাপন করছিলেন। তথাপি তার মৃত্যু খবর পেয়ে শোকাহত হয়েছি। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় ছিলো। মনে হলো একজন পিতৃপ্রতীম মানুষকে হারালাম। ব্রিটিশ রাজনীতিতে আরেকজন দ্বিতীয় টনি বেনকে খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। টনি বেন বঙ্গবন্ধুর বন্ধু ছিলেন। আর মাত্র একদিন পর (১৭ মার্চ) যখন বঙ্গবন্ধুর ৯৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত হতে যাচ্ছে, তখন একই মাসে প্রায় একই বয়সের টনি বেন প্রয়াত হলেন। ব্রিটিশ রাজনীতিতে যারা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাঁদরেল বন্ধু- যেমন লর্ড পিটার শোর, লর্ড কেয়ার ব্রকওয়ে, সিডনি বিডওয়েল, লর্ড হ্যারল্ড উইলসন প্রমুখ একে একে চলে গেছেন। এখন টনি বেনও চলে গেলেন। বাকি আছেন আরেকজন বয়োবৃদ্ধ ব্রিটিশ রাজনীতিক মাইকেল বার্নস। বয়সের ভারে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। তবু লন্ডনের বাঙালিরা তাকে কোনো সভায় ডাকলে তিনি ছুটে আসেন। এখনো সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বহন করছেন। আগামীকাল সোমবার (১৭ মার্চ) লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভবনে বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস উপলক্ষে যে অনুষ্ঠান হবে তাতে বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা দেবেন মাইকেল বার্নস। টনি বেন ছিলেন অসাধারণ পন্ডিত, রাজনীতিক এবং বাম দার্শনিক। ব্রিটিশ লেবার পার্টিতে ছিলেন তিনি প্রকৃত বাম ধারার অংশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। জন্মগ্রহণ করেছেন অভিজাত লর্ড পরিবারে। কিন্তু বাম রাজনীতিতে অংশ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া লর্ড খেতাব স্বেচ্ছায় ত্যাগ করেন এবং নিজেকে শুধু টনি বেন এই নামে পরিচিত হতে দেন। এই নামেই তিনি সারা ইউরোপে পরিচিত ছিলেন। রাজনীতিতে শত্রুমিত্র সকলের কাছে ছিলেন প্রিয়ভাজন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একজন লেবার দলীয় মন্ত্রী বা এমপি হিসেবে পার্লামেন্টের বাইরে কোনো সভায় তিনি যখন বক্তৃতা দিতেন, তখন তার প্রতিপক্ষও শ্রদ্ধা ও মনোযোগের সঙ্গে তার বক্তব্য শুনতেন। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রেরও তিনি ঘোর বিরোধী ছিলেন, বর্ণবাদ, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ (বিশেষ করে ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ) ও ধনবাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ দার্শনিক এবং সক্রিয় রাজনীতিক এবং একজন প্রকৃত হিউম্যানিস্ট। একজন আপসহীন বামপন্থি না হলে তিনি সম্ভবত:বহু আগে ব্রিটেনে লেবার গভরমেন্টে প্রধানমন্ত্রী হতেন। তিনি নিজেকে কখনো পুরোপুরি মার্কসবাদী বলে পরিচয় দেননি। কিন্তু পুরোপুরি সোস্যালিস্ট যে ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। এমনকি সাবেক সোভিয়েট ইউনিয়নের পতনের পরও তিনি সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে নৈরাশ্য বোধ করেননি। তার রচিত কয়েকটি বই এসম্পর্কে দিক-নির্দেশনামূলক। আমি দু’বার তার লন্ডনের নটিংহিল গেটের বাসায় গেছি। একজন লর্ড পরিবারের সন্তান। যাপন করতেন একেবারেই অনাড়ম্বর জীবন। বাড়িতে কোনো পরিচারক নেই। নিজ হাতে চা বানিয়ে খাওয়ালেন। বাড়িটা বলতে গেলে মিউজিয়ামের মতো। বললেন, যে চেয়ারটায় বসেছো, ওটা মেরামত করে রেখেছি। একশো বছর আগে লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ওই চেয়ারে বসতেন। আর টেবিলের উপর ওই যে পুরনো দোয়াত কলম দেখছো, ওটা লন্ডনে বসে ইসক্রা পত্রিকা সম্পাদনার সময় লেনিন ব্যবহার করতেন। কার্ল মার্কসের ব্যবহূত একটি চায়ের কাপও তিনি সংগ্রহ করে রেখেছেন। হেসে বললেন, ওটাতে আমি মাঝে মাঝে চা খাই। খুব সাবধানে কাপটা রেখেছি। আমরা লন্ডনে বসবাসকারী বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা একবার ঠিক করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানে তার উপর স্মারক বক্তৃতা দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাবো টনি বেনকে। তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন না কিন্তু তার ব্রিটিশ বন্ধুদের একজন এবং রাজনৈতিক মতামতের ক্ষেত্রেও দু’জনে পরস্পরের খুব কাছাকাছি। আমরা জেনে আরো উত্সাহিত হলাম যে, তার আগের বছর তিনি আমন্ত্রিত হয়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ‘সুভাষ বোস মেমোরিয়াল লেকচার’ দেয়ার জন্য। সুভাষ বসু ব্রিটিশ এস্টাবলিসমেন্টের কাছে একজন ‘বড় শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত। তাকে নিয়ে লেবার পার্টিরও কেউ উচ্চবাচ্য করতে দীর্ঘকাল সাহস পাননি। টনি বেন তা থোড়াই কেয়ার করেন। তিনি সুভাষ বসুর সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু তার সম্পর্কে পড়াশোনা করে জেনেছেন। গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতেন তাকে। সুভাষ বসু সম্পর্কে কলকাতায় দেয়া বক্তৃতাটি ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় বহুলভাবে প্রচারিত হয়েছিল। সুতরাং লন্ডনে আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের সভায় তিনি স্মারক বক্তৃতা দিতে সম্মত হবেন এ আশা আমাদের মনে ছিল। সি.এ কবির লন্ডনে আমার এক বাঙালি বন্ধু। তিনি ছিলেন টনি বেনের খুবই ঘনিষ্ঠ। তাকে নিয়ে টনিবেনের নটিংহিল গেটের বাসায় এক সকালে গিয়ে হাজির হলাম। তিনি আমাদের অনুরোধটি শুনে বললেন, সুভাষ বসু সম্পর্কে স্মারক বক্তৃতা দিতে গিয়ে তার সম্পর্কে আমাকে ভালোভাবে জানতে হয়েছে। আমার মনে হয়েছে তিনি একজন অসাম্প্রদায়িক এবং বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন। সামাজিক সমতাতেও বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু পুরোপুরি সোস্যালিস্ট ছিলেন না। তাকে বলেছি, এ সম্পর্কে মতান্তর আছে। নেতাজীর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ফরোয়ার্ড ব্লক এখন ভারতে বামপন্থী দল হিসেবে পরিচিত এবং বামদলীয় মোর্চায় তাদের অবস্থান। তারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসের কথাও বলেন। সে সম্পর্কে নেতাজীর অনেক ভাষণ ও বক্তৃতা-বিবৃতি থেকে উদ্ধৃতি দেন। টনিবেন বললেন, লন্ডনে শেখ মুজিবের সঙ্গে আমার দেখাসাক্ষাত্ হয়েছে। রাজনৈতিক মতামতের ব্যাপারে আমরা খুব কাছাকাছি। কিন্তু তিনি মার্কসবাদী ছিলেন না। পুরোপুরি সোস্যালিস্ট ছিলেন কিনা আমি বলতে পারবো না। স্মারক বক্তৃতা দিতে হলে তার সম্পর্কে আমাকে জানতে হবে। আমার সঙ্গে ছিল লন্ডন থেকে প্রকাশিত আমারই সম্পাদিত “এ কমেমোরেটিভ এন্থোলজি অব শেখ মুজিব” নামের ইংরেজি বইটির একটি কপি। তাকে সেটি উপহার দিয়ে বললাম, “এই বইতে শেখ মুজিব সম্পর্কে সামান্য কিছু গাইড লাইন পাবেন। বিশেষ করে রেহমান সোবহান কর্তৃক লিখিত শেখ মুজিব সম্পর্কিত প্রবন্ধটির দিকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং বলেছি, শেখ মুজিব অবশ্যই মার্কসবাদী ছিলেন না। সোস্যালিজমে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী ছিলেন। তবে রাজনৈতিক চরিত্রে ছিলেন একজন সোস্যাল ডেমোক্রাট। টনিবেন বলেছেন, আমি শেখ মুজিবের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় তাকে বুঝতে চেষ্টা করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি ঘোরতর ভাবে সাম্রাজ্যবাদি-বিরোধী এবং সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী। কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে তিনি নেহেরুর মতো মধ্যপন্থা অনুসরণ করতে চান। তিনি মিক্সড ইকোনমির অনুসরণ করতে পছন্দ করেন। আমি তাকে বলেছি, আপনাকে শেখ মুজিব সম্পর্কে নতুন কিছু বলতে যাওয়া আমার পক্ষে ধৃষ্টতা। তবে তাকে খুব কাছে থেকে দেখেছি বলে বলছি। এই নেতাকে অনেকেই নেহেরুর পন্থানুসারী বলে থাকেন। আমার তা পুরোপুরি সঠিক মনে হয়নি। বিলাতে শিক্ষাজীবনে নেহেরু সোস্যালিস্ট হয়েছিলেন। ভারতের সোস্যালিস্টরা আশা করতো তিনি ভারতে ফিরে এসে সোস্যালিস্ট পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি তা করেননি। বরং যে মহাত্মা গান্ধীকে তিনি তার লেখায় ও বক্তব্যে আগে “লীডার অব হিন্দু রিভাইবালিজম” আখ্যা দিয়েছেন, ভারতে ফিরে এসে তার নেতৃত্ব বরণ করে পশ্চিমা রাজনীতি ও পুঁজিবাদী অর্থনীতির অনুসারী কংগ্রেস দলে যোগদান করেন। তিনি সমাজতন্ত্রের আদর্শের কথা বলেছেন কিন্তু মিশ্র অর্থনীতি অনুসরণ করে ইউরোপের সোস্যাল ডেমোক্র্যাটদের মতো ভারতের প্রাইভেট পুঁজির বিকাশেও সহায়তা জুগিয়েছেন। সমাজতন্ত্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে সংবিধানে গ্রহণ করেননি। এদিক থেকে বাংলাদেশে শেখ মুজিবের পন্থাটা ছিল একটু ভিন্ন। তিনি শুরুতেই সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং ব্যাংক, বীমা, বড় ব্যবসাগুলোকে রাষ্ট্রায়ত্ত করেছেন। দেশটির সম্পূর্ণ অনগ্রসর আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে মিশ্র অর্থনীতির ধাঁচ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পরে বাকশাল রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করে নব্য পুঁজির অবাধ মাথা তোলার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এদের এবং এদের বৈদেশিক প্রভুদের ষড়যন্ত্রেই বঙ্গবন্ধু নিহত হন এবং তার বাকশাল রাষ্ট্র ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। যদি বাকশাল ব্যবস্থা তিনি টিকিয়ে রাখতে পারতেন, তাহলে বাংলাদেশে নব্য পুঁজির বর্তমান ধ্বংসাত্মক অভ্যুত্থান ঘটতে পারতো না। সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও হিংস মৌলবাদের রাজত্ব দেখা দিতো না। টনি বেন বললেন, শেখ মুজিব বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু এই সমাজতন্ত্রী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য নিয়েছিলেন মার্কিন মুল্লুকের হার্ভার্ডে শিক্ষাপ্রাপ্ত সমাজতন্ত্রী অর্থনীতিবিদদের। তার প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের কোনো কোনো সদস্যের নাম শুনে আমি বলেছি, এরাতো হার্ভার্ড সোস্যালিস্ট। প্রকৃত সোস্যালিজম নয়, এরা যে হার্ভার্ড সোস্যালিজমের অনুসারী, তা আসলে পশ্চিমা ধনতন্ত্রের প্রতিচ্ছায়া। তবু তোমার বক্তব্য থেকে শেখ মুজিবকে আমার জানার পরিসর বেড়েছে। আমি তার উপর স্মারক বক্তৃতাটি দেব। আমাদের দুর্ভাগ্য, সে বছর নানা করণে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানটির আমরা আয়োজন করতে পারিনি এবং টনি বেনের এই উপলক্ষে স্মারক বক্তৃতাটিও দেয়া হয়নি। দীর্ঘকাল পর গত শুক্রবার তার মৃত্যু সংবাদ শুনে তার পুরনো কথাগুলোই আবার মনে ভেসে উঠেছে। বাংলাদেশে নব্য পুঁজির দৌরাত্ম্য, জঙ্গি মৌলবাদের উত্থান এবং হার্ভার্ড সোস্যালিস্টদের আসল চরিত্রের উন্মোচন ঘটার বহু আগেই তিনি এ সম্পর্কে যে কথা বলেছেন, তা যে কতো সঠিক তার প্রমাণ এখন পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের এই ‘হার্ভার্ড সোস্যালিস্টরা’ এখন মুখোস ত্যাগ করে আসল চরিত্র নিয়ে সুশীল সমাজ নামে আবির্ভূত হয়েছেন। এখন তারা প্রকাশ্যেই পশ্চিমা ধনবাদের অর্থে ও আনুকূল্যে নানা সংস্থা গঠন করে দেশের নব্যপুঁজি, সাম্প্রদায়িকতা, এমনকি ধর্মান্ধ জঙ্গিবাদকে গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার নামে সমর্থন জোগাতে পিছপা হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুর সমাজতন্ত্রী অর্থনীতির এককালের সহযোগী ড. নুরুল ইসলাম, রেহমান সোবহানদের সঙ্গে আজকের ড. নুরুল ইসলাম, রেহমান সোবহানদের চরিত্র ও ভূমিকায় কী বিশাল পার্থক্য! টনি বেন বলতেন, বিশ্বে সমাজতন্ত্র আবার ফিরে আসবেই। তোমাদের বঙ্গবন্ধুও ফিরে আসবেন। বঙ্গবন্ধুর ৯৪তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানগুলো দেখে মনে হচ্ছে, তার কথা সঠিক হতে চলেছে। বিশ্বে আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদের পতন ঘটবে এবং গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব নতুনভাবে জেগে উঠবে তার এই ভবিষ্যদ্বাণীও একদিন সঠিক প্রমাণিত হবে। লন্ডন ১৫ মার্চ শনিবার, ২০১৪

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন