ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
অর্থনীতি, তবে তা কি
অব্যাহত থাকবে?
একটা দেশের উন্নতি এবং অবনতি দুটোই নির্ভর করে সে দেশের অর্থনীতির উপর। আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকা আবারো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। তবে আশংকা হয় আবারো কি ফিরে যাবে ২০১৩ সালের দিকে? কারণ বিএনপি যেভাবে হুমকি দিচ্ছে যে উপজেলা নির্বাচনের পর আবারো আন্দোলন শুরু করবে। তাতে তো তাই মনে হয়। আন্দোলন মানেই অর্থনীতির বারোটা বাজানো, গরীবের পেটে লাথি মারা। বিএনপি আন্দোলন শুরু করার আগে সরকারের কি ভূমিকা থাকবে সেটাই দেখার বিষয়। আমার মনে হয় বিএনপিকে দমন করার নীতি পরিহার করে সমঝোতার নীতি গ্রহণ করে অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করবে এই সরকার।
বাকীবিল্লাহ
অনার্স ১ম বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
গতি ফিরছে আমাদের
অর্থনীতি, এগিয়ে
যাচ্ছে বাংলাদেশ
২০১৩ সালের শেষদিকে বাংলাদেশের রাজনীতির করাল থাবায় অর্থনীতির যে মারাত্মক ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছিল ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পরে তা ধীরে ধীরে সেরে উঠেছে। দেশে বর্তমান অর্থনীতির কর্মকাণ্ড অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছে। এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আবার যদি আগের মত সহিংস রাজনীতি শুরু হয়ে যায় তাহলে অর্থনীতিকভাবে দেশ আবার পিছিয়ে পড়বে। এখন হরতাল অবরোধ নেই বললে চলে, হরতাল অবরোধ সহিংসতা দেশের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে না তাই এসব কর্মসূচি থেকে আমাদের রাজনীতিবিদদের বিরত থাকতে হবে। অর্থনীতি যেমনি ব্যবসা উন্নয়নের সাথে জড়িত তেমনি বেকারত্বের হার কমানোর সাথে জড়িত। অর্থনীতির স্বার্থে সবাইকে এক হতে হবে, কারণ আমরা স্বপ্ন দেখি ডিজিটাল বাংলাদেশের। থাকবে না ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বাংলাদেশ হবে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্র, যেখানে থাকবে না কোন সহিংসতা তবে গতি ফিরবে আমাদের অর্থনীতির, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এটাই সবার প্রত্যাশা।
মো. ইলিয়াছ আলম সুমন
শিক্ষার্থী, বিএ, সাউথ সন্দ্বীপ কলেজ, সন্দ্বীপ।
আগে দেশের
স্বার্থ, দলের
স্বার্থ পরে
হরতাল নেই, অবরোধও নেই এ সময়। স্বাভাবিক কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, আরও দাঁড়াবে। কিন্তু বাংলাদেশের মত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে হরতাল একটা অভিশাপ। আর এর শিকার হয় সবচেয়ে বেশি সমাজের নিচু শ্রেণীর খেটে-খাওয়া মানুষ, যারা দিন আনে দিন খায়। তাছাড়া এটা দেশের অর্থনীতিতে এতটাই প্রভাব ফেলে যে গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। তাই এটা আমাদের কারও কাম্য হতে পারে না। আমাদের বিরোধীদল এবং ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদদের মনে রাখা উচিত যে, আগে দেশের স্বার্থ, দলের স্বার্থ পরে।
সি এম আবু রায়হান
ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
সত্যিকার অর্থে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের
অর্থনীতি
প্রায় এক দেড় বছর পর রাজনৈতিক নাশকতা থেকে মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির নানান খাতসমূহ। রাজনীতির ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে দেশের অর্থনীতিতে। জাতীয় বাজেটে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল। তা যাত্রার শুরুতে পরে হরতাল, অবরোধ নামে রাজনৈতিক দলে ব্যক্তিস্বার্থ নানা কর্মসূচির সম্মুখে। অথনৈতিক চাকা একেবারে রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে রাজনৈতিক মাঠে কর্মসূচির রূপ পরিবর্তন হওয়ায় দেশের অর্থনীতির চাকা আস্তে আস্তে ঘুরতে শুরু করেছে। পণ্য আমদানি হচ্ছে, রপ্তানি হচ্ছে বলা যায় অর্থনীতি প্রাণ পাচ্ছে। তবে এই সচল চাকা আবার কখন রাজনৈতিক কারণে রুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় তা বলা যায় না। তাই রাজনৈতিক কর্মসূচির নেতিবাচক প্রভাব যেন অর্থনৈতিক খাতসমূহে না পড়ে।
মোহাম্মদ মাসুদ
বি এ (অনার্স) বাংলা সিটি ক্যাম্পাস, মিরপুর,
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়।
অর্থনীতি ধ্বংস
করে রাজনীতি করা
উচিত নয়
আমরা বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন আন্দোলনের কথা জানি কিন্তু নব্বই এর পরের আন্দোলনগুলো যেন দিন দিন সহিংস হয়ে উঠছে। এতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির। অপরাজনীতির কারণেই আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে।
এমন অবস্থায় আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের বুঝতে হবে কোন দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত না হলে সে দেশ চলতে পারে না। তাই এখনিই নিজেদের ভুল বুঝতে হবে। বুঝতে হবে রাজনীতিবিদরা যে ভাবে এগোচ্ছেন (বিশেষ করে বড় দু’টি দল) সেটি সঠিক পথ নয়। তাদের আন্দোলনের পথ বদলাতে হবে অর্থনীতিকে রাজনীতির আন্দোলনের বাইরে রাখতে হবে। তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতির পাশাপাশি বেঁচে যাবে এদেশের নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।
মো. সারোয়ার সরদার
সাংবাদিকতা বিভাগ,
স্টেট ইউনিভার্সিটি, কলাবাগান, ঢাকা।
