গণতন্ত্রের আছে নানা মাত্রিকতা। অর্থনৈতিক-সামাজিক-ভাবাদর্শগত-রাজনৈতিক এরকম নানা উপাদানের সম্মিলনেই একটি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত হয়। এসবের মধ্যে গণতন্ত্রের রাজনৈতিক মাত্রিকতা নিয়েই আলোচনা হয় বেশি। এটিকে আমরা রাজনৈতিক-গণতন্ত্র বলে আখ্যায়িত করতে পারি। যা কিনা গণতন্ত্রের সমগ্র ক্যানভাসের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। তবে মনে রাখতে হবে যে, এতদসত্ত্বেও রাজনৈতিক-গণতন্ত্র হলো ‘গণতন্ত্রের’ একটি অংশ মাত্র। আবার এ কথাও মনে রাখা প্রয়োজন যে, সেই রাজনৈতিক-গণতন্ত্রের বিষয়টিও আবার একমাত্রিক নয়। একটি দেশে রাজনৈতিক-গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হলে বাক-স্বাধীনতা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা, অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা ইত্যাদির নিশ্চয়তা অত্যাবশ্যক।
গণতন্ত্রের মূল কথা হলো-জনগণের ক্ষমতায়ন। এই ক্ষমতায়নের সাথে অন্যান্য অনেক বিষয়ের পাশাপাশি যে বিষয়টি সরাসরিভাবে জড়িত, তা হলো- অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা দেশের শাসন কাজ পরিচালনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সেক্ষেত্রে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অবশ্য একথাও মনে রাখা দরকার, রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনার বিষয়টি যে এককেন্দ্রিকই হতে হবে তার কোনো মানে নেই। বরঞ্চ গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে শাসন কাজ পরিচালনা করাটাই জনগণের ক্ষমতায়নের উত্কৃষ্ট পথ। কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার উভয় ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিপূর্ণ কর্তৃত্বের নিশ্চয়তাই হলো গণতন্ত্রের একটি প্রধান উপাদান। উপযুক্ত ও সুষ্ঠু পদ্ধতিতে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি গণতন্ত্রের জন্য তাই এতো গুরুত্বপূর্ণ।
জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচন তখনই নিশ্চিত হতে পারে যখন তা একটি অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে যে প্রবণতা চলছে তা অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারার বিপরীতমুখী। এসব নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশীশক্তির দাপট, প্রশাসনিক কারসাজি ইত্যাদি আতঙ্কজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে যে সব ঘটনা ঘটছে, তা গণতন্ত্রের সঙ্গে এবং অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম শর্তগুলোর সাথে ক্রমাগত আরো অসঙ্গতিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাটিই প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবার একটি ‘প্রহসনে’ পরিণত হওয়ার বিপদ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের আরো হরেক রকম অনেক বিপদের সাথে এটি এখন আরো একটি বড় রকমের রাজনৈতিক বিপদ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।
গত ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল একতরফা এবং প্রধানত সে কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। সেখানে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররাই শুধু অংশ নিয়েছে। বড় দুটি দলের একটি বিএনপি ও তার জোট সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এ সংসদে ১৫৩ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। বাকি আসনগুলোতেও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত ব্যাপক সন্ত্রাস চালিয়েছে। মানুষ একটি ভীতিপূর্ণ অবস্থার মধ্যদিয়ে সেই সময়টি অতিক্রম করেছে। নির্বাচনে সাধারণ মানুষ বিএনপি-জামায়াতের ভয়ভীতির কারণে ভোট দিতে যায়নি। তাছাড়া, ভোটের ফলাফল কী হবে এটা সবাই আগে থেকেই জানতো। এমনকি ৫ জানুয়ারির ভোটের দিনের আগেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই সরকার গঠন হবে। ভোটের দিনের আগেই ১৫৩ জন বিনা ভোটে জিতে আসায় এবং অন্যান্য আসনে বাস্তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায়, ভোটের প্রতি মানুষের কোনো আগ্রহ ছিল না। এমনকি আওয়ামী শিবিরের ভোটাররাও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে যায়নি। ভোট প্রদানের জন্য কোনো স্বতঃস্ফূর্ত উত্সাহ ছিল না। ফলে, নানাবিধ কারণে সে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক মহলেও সে বিষয়ে অভিযোগ ও প্রশ্ন আছে।
‘নিয়ম রক্ষার’ এই নির্বাচনের মাধ্যমে শপথ নিয়ে সংসদ গঠিত হলেও এবং মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন শুরু করলেও এ সরকারের পেছনে জনসমর্থন আছে কী নেই তা নিয়ে দেশে-বিদেশে সঙ্গতভাবেই প্রশ্ন থেকে গেছে। জনসমর্থনহীন সরকারের পক্ষে শাসন চালানোর নৈতিক ভিত্তি থাকে না। এসব প্রশ্নের মুখে বর্তমান সরকারের সামনে তাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো একথা প্রমাণ করা যে, তার পেছনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন রয়েছে।
এমন একটি প্রেক্ষাপটেই জাতীয় নির্বাচনের দুই মাসের মাথায় সারাদেশে উপজেলা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তিন দফা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচন ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় নির্বাচনের মতো একতরফা হচ্ছে না। এখানে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে আছে বিএনপি-জামায়াত। সিপিবিসহ কিছু দলও কয়েকটি উপজেলায় তাদের প্রার্থী দিয়েছে।
আইনতভাবে উপজেলা নির্বাচন একটি নির্দলীয় নির্বাচন হলেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে এবারের এই নির্বাচনের দলীয় রাজনীতির চরিত্র আগের যে কোনো উপজেলা নির্বাচনের তুলনায় বেশি। এমনকি, এমন কথাও বলা যায় যে তা বিগত জাতীয় সংসদের নির্বাচনের মতোই দলীয় তাত্পর্যপূর্ণ ও দলীয় প্রভাবযুক্ত। সেই অর্থে এ নির্বাচন হয়ে উঠেছে প্রায় সর্বাংশে একটি দলীয় ও রাজনৈতিক নির্বাচন। রাজনৈতিক কারণেই, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন যে তার পেছনে আছে সেকথা প্রমাণ করতে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা একথা প্রমাণ করতে চায় যে, বেশির ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগের পক্ষে আছে। অন্যদিকে বিএনপিও মরিয়া একথা প্রমাণ করতে যে, আওয়ামী লীগের পেছনে অধিকাংশ মানুষের সমর্থন নেই। দু’পক্ষের জন্যই রাজনৈতিক বিবেচনায় ‘মরণ-বাঁচন পরিস্থিতি’ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত তীব্র। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব উপজেলা নির্বাচনে ষোলআনা আছর ফেলেছে।
জামায়াতে ইসলামী দলটিও তাদের এজেন্ডা নিয়ে নির্বাচনে নেমেছে। এটি কেবল একটি সন্ত্রাসী দলই নয়, তারা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেও সিদ্ধহস্ত। বহু জায়গায় তারা বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করছে। একই সাথে অনেকগুলো জায়গায় তারা আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতা ও পদ ভাগাভাগি করে বিজয়ী হওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। আদর্শচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতারা অনেক স্থানে জামায়াতের ছকে বাঁধা পড়ে তাদের সঙ্গে বিজয় ভাগাভাগি করে নেয়ার ‘কৌশল’ গ্রহণ করছে। বিএনপির মদদ পেয়ে এবং আওয়ামী লীগের নীতিহীন সুবিধাবাদের সুযোগ নিয়ে জামায়াত বেশ কিছু উপজেলায় জিতে আসতে সক্ষম হয়েছে। এভাবে এবারের উপজেলা নির্বাচনের সাথে একদিকে সামপ্রদায়িক জঙ্গিবাদের বিপদের ইস্যু এবং অন্যদিকে বুর্জোয়া শক্তির ক্ষমতাকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব যুক্ত হয়ে গেছে।
একই সাথে, জাতীয় নির্বাচনের মতোই এবং এমনকি কোনো কোনো স্থানে তার চেয়েও বেশি পরিমাণে উপজেলা নির্বাচন হয়ে উঠেছে একটি লাভজনক বিনিয়োগের খেলা। নির্বাচন বাণিজ্যের ধারায় চলছে কোটি কোটি টাকার ছড়াছড়ি। টাকার পিছে পিছে এসেছে দুর্বৃত্তায়নও। আইন-কানুন, বিধি-বিধান, আচরণবিধি সব কিছু পেশীশক্তি ও অর্থশক্তি— তথা বাণিজ্যিক রাজনীতির সামনে ভেসে যাচ্ছে। হানাহানি-খুনাখুনি, বুথ দখল, ছাপ্পাভোট, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ব্যালট বাক্স ভাংচুর, টাকা দিয়ে প্রশাসনকে হাত করাসহ কারচুপির হেন কোনো পন্থা নেই যা অবলম্বনে পিছপা হচ্ছেন না অসত্ প্রার্থীরা। রাজনীতির মরিয়া পরিস্থিতির পাশাপাশি স্থানীয় দুর্বৃত্ত প্রার্থীদের এই ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব নির্বাচনকে অধিকতর সহিংস করে তুলেছে।
এবারের উপজেলা নির্বাচন পাঁচ ধাপে হচ্ছে। এটাকে বলে স্ট্যাগার্ড (staggered) নির্বাচন। অন্যান্য দেশেও এভাবে নির্বাচন হয়ে থাকে। কিন্তু সে সব দেশে ফলাফল ধাপে ধাপে প্রকাশ না করে সবশেষে একবারে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। আমাদের এখানে প্রতিটি ধাপে নির্বাচনের পর পরই ফলাফল ঘোষণা হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা দল আরো এগিয়ে যাওয়ার জন্য এবং পিছিয়ে থাকা দল প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলার জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগ পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় ধাপের সময় তার মরিয়া প্রচেষ্টা আরো বেড়েছে। ফলে দ্বিতীয় ধাপে সহিংসতাও বেড়েছে। তৃতীয় ধাপকে সামনে রেখে তা আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন তার একটি নমুনা মাত্র। এখানে ভোটকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে সংঘাতে জড়িয়েছে, এতে মানুষ মারা গেছে। চোখের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নির্বাচন বাতিল করতে দুইদিন সময় পার করে দিয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচনে বুথ দখল, সিল-মারা ভোট, ভোটার আগমন প্রতিরোধ, ব্যালট ছিনতাই, ব্যালট বক্স ভাঙচুর, ভুয়া ভোট প্রদান ইত্যাদি ঘটনা পর্যায়ক্রমে বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়েছে। সবচেয়ে বিপদের কথা, প্রকাশ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন একটি রেওয়াজ হয়ে উঠেছে। শুনলাম যে এক জায়গায় লিফলেট হাতে দেয়ার পর প্রচারককে শুনতে হয়েছে ‘এটাতো দিলেন, কিন্তু সঙ্গের টাকা কই?’ নির্বাচনী আচরণবিধি অহরহ অগ্রাহ্য করে প্রচারণা ও অন্যান্য কায়কারবার করা হচ্ছে। অপরদিকে সরকারি প্রার্থীরা এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার জন্য এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত হুমকি দেয়া হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসাররা নিশ্চুপ। আইনের প্রয়োগ নেই। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য তেমন কোনো নড়াচড়া বা চাপ আছে বলে দেখা যায় না। ভাবটা এমন যে, কোনো রকমে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করতে পারলেই হলো। নির্বাচন কতোটা অবাধ ও নিরপেক্ষ হলো সেটা যেন তাদের কোনো মাথা ব্যথার বিষয় নয়।
নির্বাচন কমিশন সহিংস পরিস্থিতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। ভোটের এই সহিংস ও নিয়মভঙ্গের অরাজক পরিস্থিতির মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এক মাসের জন্য বিদেশে গিয়ে বসে আছেন। সঙ্গে নিয়ে গেছেন ভারপ্রাপ্ত সচিবকেও। কতোটা দায়িত্বহীন হলে এমনটি হতে পারে।
সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, নির্বাচন নিয়ে যে সব কাণ্ডকারখানা ঘটছে তা কেবল এবারের উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলকেই প্রভাবিত করবে না। তার ছাপ লাগবে দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতেও। জিয়াউর রহমান ও এরশাদের সামরিক শাসনামলে নির্বাচনকে ‘প্রহসনে’ পরিণত করা হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশের মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেকে বুকের রক্ত দিয়েছে। সেই আশির দশকেই কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে দেশবাসী আওয়াজ তুলেছিল, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। তারপর শহীদ নূর হোসেন, তাজুল ইসলাম, ডা. মিলন, ময়েজউদ্দিনের মতো অগণিত মানুষের রক্তে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে অগ্রসর হওয়ার ধারা সূচিত হয়েছিল। আজ কি তা আবার বিলীন হতে বসেছে? নির্বাচন কি আবার একটি ‘প্রহসনের’ রূপ ফিরে পেতে চলেছে?
নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘প্রহসনে’ পরিণত হতে দিলে দেশে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। গণতন্ত্র রক্ষা ও বিকশিত করার প্রয়োজনে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘প্রহসনে’ পরিণত করার এই প্রয়াসকে রুখতে হবে। সেজন্য এখন প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিকে সামনে আনাটা খুবই জরুরি। সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু ও নির্বাচনকে টাকা, পেশীশক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি, সমপ্রদায়িক প্রচারণা ইত্যাদির হাত থেকে মুক্ত করাসহ প্রভৃতি দাবিকে বর্তমানে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে এসব দাবিতে দেশব্যাপী অর্থপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনকে ‘প্রহসনে’ পরিণত হতে দেয়া যেতে পারে না। তাতে দেশের সর্বনাশ ঘটবে।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
E-mail : [email protected]
