বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের দুই দফা উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নানারকম তর্ক-বিতর্কে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। নির্বাচনকে গণতন্ত্রের চাবি-কাঠি বলে মনে করা হয়ে থাকে। দেশে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে হলে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। ২০১৪ সাল শুরু হবার পর মাত্র তিন মাসের মধ্যে সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, শিক্ষক সমিতি এবং বার সমিতি নির্বাচনসহ দেশে নানা রকমের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং হতে যাচ্ছে। নির্বাচনসমূহ যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাতে দ্বিমত প্রকাশ করবার তেমন কোন সুযোগ নেই। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাচন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও বার সমিতিসমূহের নির্বাচন দেশবাসীকে খানিকটা আশার আলো দেখিয়েছে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচনগুলো যে ক্রমেই প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
৫ জানুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত এক জোট হয়ে বর্জন করেছিল। শুধু বর্জন নয়, তারা নির্বাচনকে প্রতিহত করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছিল। হরতাল-অবরোধ দিয়ে তারা পেট্রোল বোমার সাহায্যে অসংখ্য বাস-ট্রাক পুড়িয়ে দিয়েছিল, যাত্রীদেরকে পুড়িয়ে মেরেছিল। ট্রেনের লাইন উপড়ে ফেলে অনেক মানুষের জীবন নষ্ট করেছিল, দেশের সম্পদ ধ্বংস করেছিল। এতসব ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও জামায়াত-বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করতে পারেনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল অত্যন্ত দৃঢ় এবং তাঁর বক্তব্য ছিল বজ্র কঠোর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন দেশের প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর কোন রকম ব্যতিক্রম ঘটবে না। তিনি কথা রেখেছেন। সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চমত্কার একটি মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনা করছেন। ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের হাত থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। দেশের সর্বস্তরে শান্তি বিরাজ করছে। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দেশে শান্তি বিরাজ করলেও শান্তি নেই জামায়াত-বিএনপির নেতাদের মনে। জামায়াত-বিএনপির দাবি ছিল সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে এবং শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে। তাদের দাবি গৃহীত হয়নি। এর ফলে জামায়াত-বিএনপি ঘোষণা দিয়েছিল তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। শেখ হাসিনা যতদিন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন তারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর মনে হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত তাদের অবস্থান খানিকটা পরিবর্তন করেছে। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের অংশগ্রহণে নির্বাচন বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।
উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের অংশগ্রহণ নিয়ে সমাজে নানা কথা উঠেছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে শেখ হাসিনা এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচন কমিশনে কোন পরিবর্তন আসেনি। এই পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের অংশগ্রহণ একটি নতুন বার্তা ছাড়া আর কিছু নয়। কথাগুলো শক্ত হলেও বিএনপি-জামায়াতকে তা নীরবে হজম করতে হচ্ছে।
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের আলোকে বিএনপি-জামায়াত নতুন কোন রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করতেই পারে। উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বিএনপি-জামায়াত জনসম্পৃক্ততা হারাবে, সে কথা বুঝতে পেরেই বিএনপি-জামায়াতকে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হয়েছে। এ পর্যন্ত যেসব উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, বিএনপি-জামায়াত তুলনামূলকভাবে ভাল ফল করেছে। নির্বাচনী ফলাফল দেখে তাদের উত্ফুল্ল হবার যথেষ্ট কারণ আছে। নির্বাচনী ফলাফল দেখে তাদের ধারণা হচ্ছে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত তাদের ভুল ছিল। সে ভুলের খেসারত তাদেরকে দিতে হবে।
উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তুলনামূলকভাবে ভাল ফল না করতে পারলেও তাদের রাজনৈতিক বিজয় ঘটেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। দিন যতো যাচ্ছে, দেশে-বিদেশে ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ততোই বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর বিএনপি-জামায়াত বর্তমান সরকারকে অবৈধ সরকার বলবার অধিকার হারিয়েছে। বর্তমান সরকারকে বৈধ সরকার বলে মেনে নিয়েই অবশিষ্ট উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতকে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বর্তমান সংবিধান মেনে নেয়া ছাড়া বিএনপি-জামায়াতের আর বিকল্প কোন পথ নেই। এক্ষেত্রে আমরা স্পষ্ট করেই বলতে পারি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে শেখ হাসিনা সরকারের নৈতিক বিজয় অর্জিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে আওয়ামী লীগ ভাল ফল করতে পারেনি। এই ফলাফলের জন্য আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ দায়ী করেছেন। নিজেদের দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট যোগ করলে দেখা যাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বেশি। অথচ নিজেদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগির কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেরে গেছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনী ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায় আওয়ামীপন্থি শিক্ষকগণ তুলনামূলকভাবে ভাল ফল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ দেশের বিবেক বলে পরিচিত। তাঁদের রায়কে হালকা করে দেখবার কোন সুযোগ নেই। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, আওয়ামীপন্থি শিক্ষকগণ বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচনী ফলাফল বর্তমান সরকারের জন্য শুভ বার্তা। ৫ জানুয়ারির সফল সংসদ নির্বাচন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে সরকারের শক্ত অবস্থান, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমাজের সর্বস্তরে অগ্রাধিকার প্রদান, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষতাকে লালন, সর্বোপরি দেশের দারিদ্র্য মোচনের জন্য সরকার যে বলিষ্ঠ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তাতে সরকারের ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে শুধু দেশে নয় বিদেশেও নানা আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম রাজ্যের জনসাধারণ কি ভাবছেন, সম্প্রতি আমি তা জানবার সুযোগ পেয়েছিলাম। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ৬ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেছিল। সেমিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল— ‘সংস্কৃতি, সমাজ ও পরিচিতি : নির্মাণ ও বাস্তব’। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বেলা দাস আন্তরিকভাবে চাইছিলেন আমি যেন তাঁদের আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত থাকি। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়টি ভারতের কেন্দ্রিয় সরকার পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আসামের শিলচরে। রাজশাহী থেকে শিলচরে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হবে বলে আমি একটু পাশ কাটানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কম্পিউটার ও মোবাইলের যুগে পাশ কাটানো কঠিন কাজই বটে। কম্পিউটার খুলেই দেখতে পেলাম আসাম থেকে ড. বেলা দাস আমার নামে কলকাতা-শিলচর বিমানের টিকিট পাঠিয়ে দিয়েছেন। ৫ মাস আগে কলকাতায় ‘বঙ্গবিদ্যা সম্মেলন’ করে এসেছি। গিয়েছিলাম বেনাপোল হয়ে। ভিসার মেয়াদ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল আছে। যেহেতু একবার বেনাপোল হয়ে আমি কলকাতায় গিয়েছিলাম সে কারণে বেনাপোল হয়েই আমাকে কলকাতায় যেতে হলো। ৪ মার্চ কলকাতা গিয়ে উঠেছিলাম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটে অবস্থিত মহাবোধি সোসাইটি গেস্ট হাউসে। পরদিন ৫ মার্চ কলকাতা দমদম বিমান বন্দর হয়ে শিলচর। শিলচর বিমান বন্দর থেকে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসে আমাদের থাকবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছিলেন ড. ওয়াকিল আহমদ, উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম. আজিজুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াসমিন আরা লেখা, পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটাস ড. বরুণ কুমার চক্রবর্তী, সিঁধু-কানু-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শমিতা মান্না প্রমুখ।
সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক সোমনাথ দাশগুপ্ত। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে মঞ্চে রাখা হয়েছিল আমাকে এবং ড. ওয়াকিল আহমদকে। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য, সাবেক উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ সকল আমন্ত্রিত অতিথি পরিশুদ্ধ বাংলা ভাষায় তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হূদয়ে বাংলা ভাষার প্রতি মমত্ব দেখে আমি মুগ্ধ হলাম। তিন দিনের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সবগুলো প্রবন্ধ বাংলা ভাষায় লিখিত। বাংলা ভাষার আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৬১ সালে শিলচরে ১১জন মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। আজও সেই শহীদদেরকে তাঁরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকেন।
৭ মার্চে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আমাকে সভাপতিত্ব করতে হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. রমাকান্ত দাস, ড. দুর্বা দেব, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. নির্মল দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন এবং অধ্যাপক মাসুদ উজ্জামান। কাবেরী গায়েনের প্রবন্ধটি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিষয়— ‘গণজাগরণের মঞ্চ, নতুন প্রজন্মের আত্মপরিচয় এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’। কাবেরী গায়েন প্রজেক্টরের মাধ্যমে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণের মঞ্চের উদ্ভব এবং বিকাশের ধারাবাহিক ইতিহাস তুলে ধরেন। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে শাহবাগে কতিপয় তরুণ ছাত্র-ছাত্রী সমাবেত হয়। কাদের মোল্লার বিচারের রায় তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের মাধ্যমে গণজাগরণ মঞ্চের সূত্রপাত। তারপর শাহবাগে শত শত, হাজার হাজার এবং শেষ পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি। শাহবাগের আন্দোলন দেশের তরুণ সম্প্রদায়কে কতটা জাগরিত করেছে, তাদের মধ্যে আত্মপরিচয়ের যে সঙ্কট দেখা দিয়েছিল, ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের মাধ্যমে কিভাবে সে সংকট থেকে তারা উত্তরণের পথ খুঁজে পেয়েছে, কাবিরী গায়েনের বক্তব্যে তা সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। অপরদিকে নতুন প্রজন্মের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম দেখে দেশের যুদ্ধাপরাধী মৌলবাদী সংগঠন জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং হেফাজতে ইসলাম দেশকে কিভাবে সন্ত্রাস, অরাজকতা, নৈরাজ্য এবং বিশৃঙ্খলতার দিকে ঠেলে দেয়, সেসব চিত্রও কাবেরী গায়েনের আলোচনায় উঠে আসে। কাবেরী গায়েনের বক্তব্য ছিল যুক্তিনিষ্ঠ এবং তথ্যনির্ভর। বাংলাদেশে জঙ্গি মৌলবাদী গোষ্ঠীর নৃশংস আক্রমণে কতিপয় সম্ভাবনাময় তরুণকে কিভাবে জীবন হারাতে হয়েছে, কাবেরী গায়েন সেসব কথা বলতেও ভুলে যাননি।
কাবেরী গায়েনের আলোচনাকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে শ্রোতা-দর্শকদের কাছ থেকে নানারকম প্রশ্ন আসতে থাকে। নির্বাচনের পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক চলতে থাকে। বিতর্কের মধ্য দিয়ে যে সত্যটি বেরিয়ে আসে তা হলো ৫ জানুয়ারিতে নির্বাচন করতে না পারলে দেশে ৭১ সালের পরাজিত শক্তি পুনরায় বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতো। দেশে জঙ্গি মৌলবাদী শক্তি প্রাধান্য বিস্তার করতো। দেশের প্রগতিশীল চিন্তার মানুষগুলো জঙ্গিদের হাতে জীবন হারাতো, বাংলাদেশ একটি তালেবানী রাষ্ট্রে পরিণত হতো। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ জঙ্গি মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট রায় প্রদান করেছে। দেশ এক মহাসংকটের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ বিজয় দেশের প্রগতিশীল মানুষের, এ বিজয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু সংবিধান রক্ষা নয় দেশকেও উগ্র, জঙ্গি, সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করা গেছে। এসব কারণে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন শুধু ভারতীয় সরকার নয় ভারতের জনগণের কাছেও যে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারের প্রতিটি বক্তার বক্তব্য থেকে আমরা তা স্পষ্ট অনুধাবন করতে পেরেছি।
লেখক: সাবেক উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
