আলোকপাত

ধান চাষ ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৪, ২১:২১
দেশে মৌসুম ভিত্তিক ধান চাষাবাদের প্রচলিত পদ্ধতিতে গুণগত পরিবর্তন এনে এ খাতটিকে ঢেলে সাজানোর জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টি্টিউিট (ব্রি)। মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর দিক-নির্দেশনার আলোকে অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল বোরো আবাদের পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে স্বল্প জীবনকালের আউশ ও আমনের আবাদ বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখন প্রায় সকল বিশেষজ্ঞই একমত যে, মাটির নিচের পানি দিয়ে বোরো চাষের তুলনায় এ দুটি মৌসুমে ধান আবাদের খরচ তুলনামূলক কম। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আর্সেনিকের ঝুঁকি এড়ানো, টেকসই উত্পাদন কৌশল এবং পরিবেশ সংরক্ষণের তাগিদও এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়। এ নিরীখে মাননীয় মন্ত্রী লাগসই প্রযুক্তি ও পরামর্শ দিয়ে দেশের কৃষক ভাইদের সহযোগিতা করার জন্য ব্রি বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বেশ ক’বছর ধরে তিনি এ নিয়ে কথা বলছেন। গত মাসে গাজীপুরে ব্রি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির ভাষণ দানকালে তিনি তার এ অভিপ্রায়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে আরো আগে থেকেই ব্রির বিজ্ঞানীরা বোরো চাষাবাদের পরিপূরক অথচ খরচ কম—এমন বিকল্পের সন্ধানে গবেষণা চালিয়ে আসছেন। সার্বিক বিবেচনায় টেকসই, পরিবেশ বান্ধব, কৃষকের জন্য লাভজনক এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে যথাযথ ধান উত্পাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ব্রির গবেষণার মূল মিশনসমূহের অংশ। এ জন্য তারা সারাদেশে মৌসুম ভিত্তিক ধান চাষাবাদের বিরাজমান অবস্থা সম্পর্কে একটি খসড়া প্রতিবেদনও তৈরি করেছেন। তারা দেশের প্রায় সব জেলায় জরিপ চালিয়েছেন। প্রতিটি জেলার উঁচু, নিচু এবং মাঝারি স্তরের জমিতে কোন কোন উচ্চ ফলনশীল জাতের আউশ ও আমন ধানের আবাদ বাড়ানো যায় সে নিয়ে একটি দিক-নির্দেশনামূলক খসড়া প্রতিবেদনও ইতোমধ্যে তৈরি করেছেন। কোন শস্য বিন্যাসে, কোন জমিতে, কি জাত নির্বাচন করলে সবচেয়ে লাভজনক উপায়ে এবং স্বল্প সময়ে আগাম ফসল ঘরে তোলা যাবে সে বিষয়েও তারা সমীক্ষা চালিয়েছেন। তাদের গবেষণায় যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে সেগুলো পরিশীলিত রূপে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সুধী মহলের সামনে উপস্থাপনের জন্য ব্রিতে বুধবার (১৯ মার্চ ২০১৪) একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এতে মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ধান ও কৃষি গবেষণার কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমূহ ছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারক, বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষক সংগঠনসহ সরকারি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আউশ-আমনের আবাদ বাড়ানোর অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক হলো আমাদের কৃষক ভাইয়েরা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বোরো মৌসুমে ধান আবাদে বেশি অভ্যস্ত। তাদের এ অভ্যাসে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন উফশী আউশ ও আমন ধানের জাত। কৃষকরা যদি দেখেন, কোনো একটি ফসল আর্থিক দিক থেকে লাভজনক এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়িয়ে দ্রুততম সময়ে ঘরে তোলা যায় তাহলে তারা খুব স্বাভাবিকভাবেই এর চাষাবাদ বাড়াতে আগ্রহী হন। ব্রি এরই মধ্যে ১০০ দিন জীবনকাল সম্পন্ন আউশ ও আমন ধানের জাত উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছে। এই জীবনকাল আরো কমিয়ে ৯০ দিনে আনার কাজও অনেকদূর এগিয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রে সেটা ত্বরান্বিত হলে এক্ষেত্রে পরিবর্তনের পথ অনেকখানি প্রশস্ত হয়। তবে শুধু জাতসহ কোনো একটি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনই যথেষ্ট নয়, সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কৃষক ভাইদের সচেতন ও ব্যবহারে উত্সাহী করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে গণমাধ্যম। এজন্য সকল অনাবাদী জমি আবাদের আওতায় আনা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বোরোর জমি পুনর্বিন্যাস করে আউশ ও আমনের আবাদ বাড়ানোর জন্য অন্য সব প্রণোদনার পাশাপাশি গণমাধ্যমের সহযোগিতা নেয়ার কাজটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিক বিবেচনায় নেয়া একান্ত জরুরি। লেখক :প্রযুক্তি সম্পাদক ও প্রধান, প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগ, ব্রি ইমেইল: [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন