প্রাণ ফিরে
পেল দেশের
অর্থনীতি
বিপুল সম্ভাবনাময় দেশ বাংলাদেশ। এদেশে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার পূর্ণ ব্যবহার করলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হতে পারে একটি মধ্যআয়ের দেশ। এদেশে যে পরিমাণ শিল্পগুলো আছে তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করতে পারলে অচিরেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। তারপরও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাত্রা একেবারে খারাপ নয়। বিগত দশকের তুলনায় বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন খাতে উন্নতির ধারা চোখে পড়ার মত। গবেষকদের মতে- ২০৫০ সালের মধ্যেই আমরা মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হব। যদি এদেশের অর্থনীতির আকাশে আর কোন কালো মেঘ নেমে না আসে তাহলে এ ধারণা হয়ত ভুল নাও হতে পারে।
সৌরভ দেবনাথ
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
ঘুরে দাঁড়ানো অর্থনীতি
সচল রাখতে চাই
নিঃস্বার্থ স্বদেশ প্রেম
বিগত ২০১৩ সালের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাব যে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কি চরম অবস্থায় পৌঁছেছিল। যা হোক অবশেষে আমরা অর্থনৈতিক অবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশে একটি শান্তির আভাস পাচ্ছি। আর যার ফলে আমাদের অর্থনৈতিক চাকা অনেকটা সচল হতে শুরু করেছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে দলবল নির্বিশেষে এই ঘুরে দাঁড়ানো অর্থনীতিকে সচল রাখতে আমাদেরকে সকলেই মিলে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই আমাদের এই বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিণত হবে এবং আমাদের অচল অর্থনীতির চাকা সচল হবে এবং ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতি।
মো. দুলাল হোসেন
বাংলা বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
রাজনৈতিক অস্থিরতা
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের
প্রধান অন্তরায়
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের অর্থনীতির উপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত থাকলে অচিরেই জিএসপি সুবিধা ফিরে পাবে বাংলাদেশ। বর্তমানে হরতাল, অবরোধ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা না থাকায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হতে শুরু করেছে। দেশে কৃষিক্ষেত্রে উত্পাদন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি, ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে। দেশের এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থা। তাহলে দেশে টেকসই অর্থনীতির অবকাঠামো গড়া সম্ভব।
এম.ই. হোসেন
বি.এ (অনার্স), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ঠিকই তবে
হোঁচট খাওয়ারও
সম্ভাবনা আছে
বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। কৃষির উপরই নির্ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল গতি-প্রকৃতি। একাত্তরে আমরা যখন স্বাধীনতা লাভ করি তখন আমরা পেয়েছিলাম একেবারে যুদ্ধবিধ্বস্ত চুরমার হয়ে যাওয়া একটি দেশ। সেখান থেকে আমাদের অর্থনীতির আজকের এই অবস্থানে আসার একমাত্র রহস্য আমাদের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার হচ্ছে, সহজ হয়ে যাচ্ছে সবকিছু। কৃষির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিক দিয়েও বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে অনেকখানি। সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন অনেক উপরে থাকার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আমাদের অর্থনীতি হোঁচট খাচ্ছে বারবার। গেল বছরটি বাংলাদেশ চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যদিয়ে পার করেছে। আমাদের অর্থনীতিতে এর প্রভাব ছিল সুস্পষ্ট। চলতি বছরে এসব হানাহানি সংঘাত অনেক কম থাকায় আমাদের অর্থনীতি মোটামুটি ঘুরে দাঁড়ানোর দিকেই বলা যায়। তবে হোঁচট খাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে অনেক। ইদানিং দেখা যাচ্ছে, অন্য সবকিছুর থেকে আমাদের অর্থনীতি হয়ে পড়ছে অনেক বেশি রাজনীতিনির্ভর। যতক্ষণ রাজনৈতিক স্থিরতা থাকে অর্থনীতির অবস্থাও ততক্ষণ ভালো থাকে। আর একটু রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হলেই ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে আমাদের অর্থনীতি। যতদিন না এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে ততদিন উত্থান-পতনের ভেতর দিয়েই আমাদের অর্থনীতিকে চলতে হবে।
সৌরভ দাস
লেভেল-১, সেমিস্টার-১, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
অর্থনীতিতে স্বাভাবিক জীবন ফিরে
এসেছে
বাংলাদেশের আপামর জনগণ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। এখন হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর ইত্যাদি কার্যক্রম নেই। দেশের এই টার্নিং পয়েন্টে অর্থনীতির চাকা আসল গতিতে ফিরেছে। দেশের আপামর জনগণ যদি সুখ, শান্তিতে থাকে তাহলেই মনে করতে হবে অর্থনীতির চাকা এগিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রকামী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দেশের প্রতি মমতাবোধ থাকা আবশ্যক। হতে পারে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বা বিরোধী দল। আমরা চাই যে কোন রাজনৈতিক দল দেশের প্রতি দায়িত্ববান হয় এবং দুর্দিনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আকাশ আহমেদ জারসা
সমাজবিজ্ঞান, অনার্স-৩২১০
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুষ্টিয়া।
