উধাও বিমান রহস্যের শেষ কোথায়

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২১:৪০
মালয়েশিয়ার বোয়িং বিমানটি ২৩৯ জন যাত্রী লইয়া ‘নিরুদ্দেশ’ হইয়াছে গত ৭ মার্চ মধ্যরাতের কিছু পরে। এই ১২ দিনে সেই ‘উধাও বা নিরুদ্দেশ’ রহস্য পূর্বের সকল বিমান-রহস্যের রেকর্ড ভঙ্গ করিয়া দিয়াছে। এই ঘটনা যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়া বুঝাইয়া দিতে চাহে—একবিংশ শতকের মহাপরাক্রমশীল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এখনও অনেক কিছুর নাগাল পায় নাই। তাহাকেও ফাঁকি দেওয়া সম্ভব! ইহাকে আবার অন্যভাবেও ব্যাখ্যা করা যাইতে পারে। হয়তো ‘কাঁটা দিয়াই কাঁটা তোলা হইয়াছে’—অর্থাত্ ‘বিজ্ঞান’ দিয়াই এই ঘটনাকে হয়তো ‘রহস্যময়’ করিয়া রাখা হইয়াছে। নেপথ্যে হয়তো খেলিতেছে অন্য কোনো রহস্য। সব হিসাব-নিকাশ শেষে এক ডজন দিন পার হইবার পর বড় বড় বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তে আসিয়াছেন যে, বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে নাই। বিধ্বস্তও হয় নাই। যাহা হইয়াছে তাহা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’। তাহার মানে কী? ছিনতাই? বিশ্বের অতি জটিল ও সূক্ষ্ম নজরদারির ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়া ‘ছিনতাই’ করা হইয়াছে বিমানটি? কুয়ালালামপুর হইতে বেইজিং যাইবার পথে মুখ ঘুরাইয়া আন্দামান ও মালদ্বীপের পাশ দিয়া উড়িয়া গিয়াছে অত্যন্ত নিচু দিয়া, যাহাতে রাডারে ধরা না পড়ে? মালদ্বীপের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপের বাসিন্দারাও সমপ্রতি জানাইয়াছেন যে, ৮ মার্চ ভোরবেলায় একটি বিমানকে অত্যন্ত নিচু দিয়া উড়িয়া যাইতে দেখিয়াছে তাহারা, যাহার অবয়ব মালয়েশিয়ার উধাও বিমানের সহিত মিলিয়া যায়। বিমান বিশেষজ্ঞদের কেহ কেহ মনে করেন, বিমানটির শেষ বার্তাতেও গোলমাল রহিয়াছে। ৮ মার্চ, রাত ১টা ১৯ মিনিটে শেষবারের মতো বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআরের কো-পাইলট ফারিক এটিসি-কে বার্তা দিয়াছিলেন—‘অলরাইট, গুড নাইট।’ অথচ এইসব ক্ষেত্রে ‘রজার অ্যান্ড আউট’ কথাটি বলা প্রচলিত ও নিয়মসিদ্ধ। তাহা হইলে, ভিন্নভাবে ‘অলরাইট’ বলিলেন কেন কো-পাইলট? তিনি কি প্রথা ভাঙিবার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এই সংকেত দিতে চাহিয়াছেন—বিমানটি অযান্ত্রিক (মনুষ্যসৃষ্ট) বিপদে পড়িয়াছে? বিশেষজ্ঞদের সহিত একাত্ম হইয়া অনুমান করা যাক, ছিনতাই-ই হইয়াছে বিমানটি। তাহা হইলে, তাহা কোথাও অবতরণ করিয়াছে নিশ্চয়ই। এবং যাহারা ছিনতাই করিয়াছে, তাহাদেরও নিশ্চয়ই দাবি-দাওয়া থাকিবে। কিন্তু এই ১২ দিনেও তাহা উচ্চারিত হইল না কেন? মালয়েশিয়ান এই বিমানের ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক সংস্থাটির নাম রোলস রয়েস। প্রযুক্তির অতি সূক্ষ্ম সুরক্ষার রাশ রহিয়াছে প্রস্তুতকারক সংস্থাটির হাতেও। যেকোনো অবস্থায় ওই বিমানের ইঞ্জিনটি চালু-বন্ধের সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য রেকর্ড হইয়া থাকে, যাহা রোলস রয়েসের ডেটাবেজে আছে। নিখোঁজ বিমানটির ইঞ্জিন ঠিক কখন বন্ধ হইয়াছিল, তাহা স্পষ্টতই জানার কথা ওই সংস্থার। অথচ তাহারা এই সংক্রান্ত তথ্য দিতেছে না কেন? বিমানটির সন্ধানে প্রায় সাড়ে বাইশ লক্ষ বর্গ নটিক্যাল মাইল বিস্তৃত এলাকায় জল-স্থল-আকাশ পথে বিশ্বের ২৬টি দেশ চিরুনি তল্লাশি চালাইতেছে। এবং তাহার পরও দিন দিন এই ‘রহস্য’ আরও ঘনীভূত হওয়াটাই যেন ‘বড় রহস্য’ হইয়া উঠিতেছে। শেক্সপিয়র লিখিয়াছিলেন—‘দেয়ার আর মোর থিংস ইন হেভেন অ্যান্ড আর্থ হোরেশিও, দ্যান আর ড্রেম্ট অফ ইন ইওর ফিলোজফি।’ স্বর্গ-মর্ত্যে ‘অনেক কিছু’ ঘটে যাহার ব্যাখ্যা মেলে না। শেষ অবধি সেই ‘অনেক কিছু’র ভিতরে কি এই ‘বিমান রহস্য’ অর্ন্তভুক্ত হইবে? ইহার উত্তর পাইতে আমাদের আরও অপেক্ষা করিতে হইবে বৈকি!

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন