স্বাধীনতা এমন একটা বিষয়, যা উচ্চারিত হবার সাথে সাথে হূদয়ে সুখানুভুতি জেগে ওঠে। এ কারণেই স্বাধীনতা হীনতায় কেউ বাঁচতে চায় না। মানুষের তথা নাগরিকের কল্যাণে স্বাধীন রাষ্ট্রের একাধিক জাতীয় শর্ত থাকে। যার প্রয়োগে দেশের নাগরিক সুখলাভ করে, পরাধীনতার জোয়াল মুক্ত অবস্থায় নিজেকে দেখতে পায়। কিন্তু আমাদের দেশে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে, “আমরা চেতনাশ্রীত স্বাধীনতা পেয়েছি, না স্বাধীনতাশ্রীত চেতনা পেয়েছি” এর নিদৃষ্টতা নিরূপণে জাতিকে আমরা এক সুতোয় গাঁথতে না পারা। আর এ কারণেই স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আমরা অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হচ্ছি। ভয়হীন জীবন, নিরাপদ জীবন, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি সব কিছুই যেন, খুন, গুম, হত্যা নিখোঁজ হবার মাধ্যমে তলিয়ে যাচ্ছে। আইনের শাসনের দুর্বলতার স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি ও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে অতি রাজনীতিকিকরণের ফলে মানবতাকে দলে, দানবতা সমাজ ও রাষ্ট্রে জেঁকে বসেছে। আর এ কারণেই ভয়হীন নিরাপদ জীবনযাত্রা বড় আক্রা হয়ে পড়েছে। শহীদদের ত্যাগ তখনই সফল হয়, যখন পরবর্তী প্রজন্মরা তার সুফল ভোগ করে। বছরান্তে আমরা স্মৃতির বেদীতে দাঁড়িয়ে শহীদদের প্রতি কতো আবেগী বক্তব্য দিই, কিন্তু তাদের ত্যাগের প্রতি আমাদের সৃষ্টি কার্যকলাপ, আর আবেগী বক্তব্য এক করলে, রাজনীতির এক বাণিজ্যিক গন্ধ পাওয়া যায়। যার ফলে আমরা ভয়হীন জীবন চলার পথ থেকে বেশ কিছুটা দূরে রয়েছি।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর
প্রসঙ্গ:স্বাধীনতা নির্ভয় জীবন
ঐতিহাসিক কাল পরিক্রমায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শাসন কাজে জনগণের অংশগ্রহণ তথা গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ ও জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি আমাদের স্বাধীনতার মূল চেতনা। পদ্মা মেঘনা যমুনা বিধৌত ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলের সোনা ছোঁয়া মেঠো প্রান্তর আমাদের ভালবাসার ঠিকানা । কবির ভাষায়—
“পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী, কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখী,
গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে—
তারা ফুলের উপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে।
ভায়ের মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ......
...... এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রাণী সে যে- আমার জন্মভূমি”।(ডি, এল, রায়)
তাই স্বাধীনতা অর্থ পায়ের নিচের মাটি ও মাথার ওপরের আকাশকে আপন ও আলাদা অনুভবে নিজের ও নির্ভয় ঠিকানা মনে করা। আর পরাধীনতা অত্যন্ত গ্লানিকর এবং তা কখনো কাম্য নয়—
অধ্যাপক মোঃ আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ কাপাসিয়া, গাজীপুর -১৭৩০
স্বাধীনতা অর্জনের ৪২ বছর যাবত্ রাজনীতির নামে যে মাস্তানী, সহিংস আন্দোলন চলছে, আইন করে রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বন্ধ করার সময় এখনি। সমাজ, রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা প্রদানের সার্বিক দায়িত্ব সরকারের। উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। সকল দলের রাজনৈতিক নেতারা ও কর্মীরা এবং সর্বস্তরের নাগরিকগণ উদ্যোগের সাথে ওতপ্রোত ভাবে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে শপথ নিতে হবে যে, নিজে অন্যায়, অপরাধ করব না। অপরকেও অন্যায়, অপরাধ করতে দেব না। জনগণই সরকার। নির্বাচিত সরকার জনগণের প্রতিনিধি। রাজনৈতিক সহিংস আন্দোলন জনগণ বর্জন করলে নেতারা সহিংসতা চালাতে পারবে না। নেতারা জনগণের সমর্থন পায় বিধায় সহিংস আন্দোলন করতে পারে। জনগণকে বুঝতে হবে, দল ও নেতার চেয়ে দেশের স্বার্থ সবার উর্ধ্বে। দলীয় সমর্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের দেশের কথা, নিজেদের কথা, দেশবাসীর কথা ভাবতে হবে। সমাজ, রাষ্ট্র ও জনমানুষের কল্যাণে সকল প্রকার সাহায্য, সহযোগিতা করতে হবে। ভয়হীন নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা সরকার রাজনৈতিক দল, সকল স্তরের জনগণের ঐক্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। দলীয় বিভক্তি মুক্ত হতে হবে দেশের সকল নাগরিকের। ভালকে ভাল। মন্দকে মন্দ বলার সংস্কৃতি চালু করতে হবে। দৃঢ়ভাবে মনে রাখতে হবে, দেশ ও জনস্বার্থের জন্য রাজনীতি। কোন ব্যক্তি বা দলের স্বার্থের জন্য নয়। রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা। স্বাধীন ও নির্ভয় সমাজ গঠনে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে এক হয়ে কাজ করব, স্বাধীন ও নির্ভয় জীবন গড়ব।
ডা: এস, এম, মোশারফ হোসেন
সাহিত্যিক, আলমপুর, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ
ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা লাল সবুজের পতাকা, আমাদের মানচিত্র। স্বাধীনতার লক্ষ্যই ছিল স্বাধীন দেশের নাগরিকরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ, নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছরের পরেও স্বাধীনভাবে নির্ভয় চলাফেরা যেন আতঙ্কের মধ্যে বিরাজমান। স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু ভাগ্যে জোটেনি সামাজিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি, আজো আমরা স্বাধীন দেশের বৈষম্যের জাঁতাকলে আমরা নিমজ্জিত। ক্ষমতার দাপট, টাকার পাহাড় ও দুর্নীতি, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সহিংসতা যেন স্বাধীন দেশের প্রধান উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য লজ্জাকর। আমার মতে এজন্য দায়ী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তাদের স্বার্থকে চরিতার্থ করার প্রয়াসে আজকের রাজনৈতিক সহিংসতা। আজও রাজপথে গুলি খেয়ে মরতে হয় নারী শিশুসহ অসংখ্য পেশাজীবী মানুষকে। সবার অংশগ্রহণে স্বাধীন দেশের নাগরিকরা নির্ভয়ে মত প্রকাশ করবে, চলাফেরা করবে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তনে কখনো একদলীয় শাসন ব্যবস্থা, আবার কখনো বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থযুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের অঙ্গীকার হোক আর নয় রাজনৈতিক সহিংসতা রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ, স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে তার ব্যবস্থা করা।
মনজু খন্দকার, চুয়াডাঙ্গা
স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান শর্ত নির্ভয় জীবন। কিন্তু স্বাধীনতার ৪২ বছর পর অর্থাত্ ৪৩ বছরে কি আমরা নিরাপদ নির্ভয় ভাবে জীবনযাপন করতে পারছি? আমরা কতটুকু স্বস্তিতে শান্তিতে ও নিরাপদে বসবাসে আছি সেটাই আজ ভাবনার বিষয়। জীবনের নিশ্চয়তা কোথায়? ঘর থেকে বের হবার পর ঘরে ফিরে যেতে পারবো কিনা তারই কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই দেশে যে সরকারই অবস্থান করুক দেশের মানুষ চায় নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাজনক অবস্থান।
মাসুদ আলম বিল্লব
উর্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা
স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান শর্ত মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। তাহলেই আমরা নির্ভয় জীবনযাপন করতে পারবে। এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
মো. ইলিয়াস আলম
সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম
স্বাধীনতা মানেই হচ্ছে বিশৃঙ্খলামুক্ত একটি দেশ। একটি ভয়হীন নির্ভয়ে নিরাপদে জীবনের নিশ্চয়তা সেটাই হচ্ছে অন্যতম বিষয়।
নার্গিস
নতুন পল্টন লাইন, আজিমপুর, ঢাকা
স্বাধীনতার অন্যতম বিষয় মানুষের নানা সমস্যাগুলো নিরূপণ করা। নির্ভয় জীবনযাপন করাই হচ্ছে নাগরিকগণের অন্যতম বিষয়। দেশবাসীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায় এটাই হচ্ছে সবার প্রত্যাশা।
আইরিন সুলতানা (মনজু)
ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
সর্বত্র পৃথিবী পরিভ্রমণ করলেও একজন প্রকৃত সুখির ব্যক্তির সাক্ষাত্ পাওয়া যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন সত্যিকার স্বাধীনতার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই স্বাধীনতা আসবে বাস্তবিক অর্থে।
জাহাঙ্গীর হোসাইন, পীরেরবাগ, ঢাকা
স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে নির্ভয়ে চলাচল করতে পারছে না দেশের মানুষ। দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে সুন্দরভাবে চলাচল করার জন্য প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনা অনুযায়ী চলতে হবে। দল বল নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মো. আব্দুল আলিম
শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে নির্ভয় জীবনের নিরাপত্তার বিধান এবং ভয়হীন জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান। কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন হচ্ছে নিরাপত্তাহীন আর অনিশ্চয়তার ভবিষ্যত্ জীবন। দেশের শাসক গোষ্ঠী আর বিরোধি দলীয় গোষ্ঠীর বক্তব্য আর মন্তব্যে শুনে সাধারণ জনগণ জীবনের নিশ্চয়তা আর নিরাপত্তার আশ্বাসে বিশ্বাস পায় না। যে দেশের একজন জনপ্রতিনিধি বলতে পারেন ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে’। অথচ ঐ শিশুর হত্যাকারী খুনিকে নিরাপদে আশ্রয় দিয়ে তার নিরাপত্তার বিধান করা হয়েছে। কিন্তু নির্যাতিত পরিবার-এর জন্য এখন পর্যন্ত কোন নিরাপত্তার বিধান করা হয়নি। সুতরাং এ থেকেই বুঝা যায় জনগণের নির্ভয় জীবন আর কতদিন পরে নিশ্চয়তা পাবে। এর জবাব কি শাসকদল আর বিরোধী দল কি বলতে পারবে? তারা কি পারবে দেশ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করা হবে? তারা কি বলতে পারবে আর কোন মায়ের বুক খালি হবে না। রাজনৈতিক হত্যার মাধ্যমে এখনও সময় আছে হিসাব নিকাশ করার, তাই জনগণকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে জনগণের গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে দিয়ে জনজীবনকে নিশ্চয়তা প্রদান করার। এটা অবশ্যই জনগণের মৌলিক অধিকার।
শাহ মো. হেলালউদ্দিন হিরা
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রত্যেকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। স্বাধীনতার ৪ দশক পেরিয়ে গেলেও আমরা প্রকৃত স্বাধীনতা পাইনি। স্বাধীন দেশে বাস করে আমরা স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। এখন কথা হলো আমরা কি প্রকৃত স্বাধীনতা পেয়েছি? বাংলাদেশের সার্বিক জীবনে খুবই আতংকগ্রস্ত জীবন কাটাতে হয়। আমরা কি পারি না এ অবস্থার উন্নতি ঘটাতে। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে রাষ্ট্রের কাছে কি এই প্রত্যাশা রাখতে পারি?
আকাশ আহমেদ জারসা
কুমারখালী, কুষ্টিয়া
স্বাধীনতা ও নির্ভয় জীবন লাভের জন্যই এ দেশের মানুষ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। বাংলাদেশ পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাসনে আবদ্ধ ছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। অনেক রক্তের বিনিময়ে পশ্চিমা হানাদার পরাজিত হয়। একমাত্র বাঙালি জাতির নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য যুদ্ধে নেমেছিল মুক্তিযোদ্ধারা। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়লাভ করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশবাসী কতটুকু নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা পেয়েছে তা দাঁড়িপাল্লায় মাপা যাবে না। নিরাপত্তার অভাব প্রধানত হচ্ছে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে। কথায় আছে ঘরের শত্রু বিভীষণ। এখন কাকের মাংস কাকেই খাচ্ছে। তাই দেশ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। রাজনীতিক, অর্থনীতিক, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দেশের শাসন ব্যবস্থা ও আইনের নিশ্চয়তা আরও কঠোর করতে হবে।
আশা এলিজাবেথ গোমেজ
প্রধান শিক্ষিকা
সেন্টমার্টিনস কিন্ডারগার্টেন, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা- ১১০০
কথা ছিল স্বাধীন দেশের নাগরিকরা পাবে ভয়হীন নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা। কিন্তু ৪৩ বছর পরও সেই ভয় কাটেনি। নিরাপদ জীবন পায়নি এদেশের মানুষ। কিন্তু কেন? দেশের সামগ্রিক অবস্থা বিশ্লেষণ করলেই তার উত্তর পাওয়া যাবে।
ফকরউদ্দিন টিপু
পুরান থানা
কিশোরগঞ্জ।
স্বাধীনতা এবং নির্ভয় জীবন একসূত্রে চলার কথা। স্বাধীনতা যেমন পরাধীনতা নয়, ঠিক তেমনি নির্ভয় জীবন হলো ভয়মুক্ত হয়ে কথা বলার অধিকার। আমরা স্বাধীনতার পর ৪৩ বছর অতিক্রম করতে চলেছি কিন্তু স্বাধীনতা পেলেও অর্থনৈতিক মুক্তি পাইনি। সেই সাথে নির্ভয় জীবন-যাপনের গ্যারান্টিও পাইনি। মনে পড়ে শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক নির্মল সেনের কথা। “ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই”। আমরা সড়ক পথে নিরাপত্তাহীন, নৌ-পথে লঞ্চে নিরাপত্তাহীন, পাশাপাশি কখনো কখনো আইন-শৃংখলা রক্ষাকারীদের হাতেও নিরাপত্তাহীন। বিতর্কিত ক্রস-ফায়ার আমাদেরকে মানুষ নামের পরিচয় দিতে কুণ্ঠা জাগিয়ে তোলে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ অবস্থা থেকে সাধারণ বিবেকবান মানুষ সবসময় পরিত্রাণ চায়। আমরা লক্ষ্য করেছি, আইনের স্বাভাবিক ব্যবহার মাঝে-মধ্যে ব্যত্যয় ঘটে বলেই বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। আমরা এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখেই বিচার বিভাগের একশতভাগ স্বাধীনতার পক্ষে। কোন রাজনৈতিক চাপ কোন বিভাগ বা দফতরের চাপ না থাকলেই জীবন এবং স্বাধীনতা উভয়ে নির্ভয়ে চলতে পারে। একজন কবির যেমন বিবেক বুদ্ধি সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি দেশের বেলায়ও তার চিন্তা চেতনা স্বাধীন এবং উন্মুক্ত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
ওয়াহিদ মুরাদ
নেছারাবাদ, পিরোজপুর।
লাখো শহীদের রক্ত আর মা-বোনদের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি ঠিকই কিন্তু বড়ই আপসোস, অসত্ রাজনীতির কারণে দেশের জনগণ নির্ভয়ে জীবন-যাপনের যেমন নিশ্চয়তা পায়নি তেমনি বঞ্চিত হচ্ছে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটপ্রয়োগের অধিকার থেকে। আজ আমাদের জীবন নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তার বদলে রূপ নিয়েছে অসহায়ত্ব। গুম, খুন আর বন্দুক যুদ্ধের মাঝে আমরা আবদ্ধ হয়ে আছি। মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মাহাথীর মোহাম্মদের মতো একজন সত্ কর্মঠ ব্যক্তিত্ব যতদিন পর্যন্ত না আমরা খুঁজে পাবো ততদিন পর্যন্ত স্বাধীনতার প্রকৃত সাধ আর নিরাপদ উন্নত জীবন যাপনের সুফল ভোগ করা থেকে আমরা বঞ্চিত থাকবোই। আর অসত্ রাজনীতির কারণে আমাদের স্বাধীন ও নির্ভয় জীবন যাপন কোনদিন সম্ভব হবে না বলেই মনে হয়।
মো. লুত্ফুর রহমান
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
স্বাধীনতার প্রধান শর্ত নির্ভয় জীবন- কথাটি একেবারেই সত্য। কিন্তু স্বাধীন দেশের নাগরিকগণ যদি এই ভয়হীন নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা না পান তাহলে স্বাধীনতার সঠিক অর্থ বোঝা যায় না। তাই দেশবাসীর প্রত্যাশা স্বাধীনতার মূল্যায়ন।
স্বাধীনতার অর্থই হচ্ছে নির্ভয় জীবন, ভয়হীন নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কিছুটা নিরাপত্তা ছিল তা এখন উধাও । কিন্তু আমরা এমনটি আশা করি না।
মোঃ সেলিম
মাহাখালী, ঢাকা।
স্বাধীনতার মাসে মনে পড়ে অগণিত মা-বোনের ইজ্জতের কথা, ত্রিশ লাখ শহীদের কথা। যারা আমাদের নিরাপদ জীবন ফিরিয়ে দেয়ার জন্য নিজেদের জীবন উত্সর্গ করেছেন। কিন্তু সেই জীবন আমরা এখনও পাইনি কেন? আমরা চাই দেশে থাকবে না হানাহানি, মারামারি; সকলে একসঙ্গে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবো। কবে আমরা সেসময় ফিরে পাবো।
আলমগীর হোসেন
সেনবাড়ী, ময়মনসিংহ
স্বাধীনতা মানেই স্বাধীনভাবে চলাফেরা। সুখী সমৃদ্ধ জীবন-যাপন করা। স্বাধীনতা মানেই হচ্ছে নির্ভয় জীবন পরাধীনতা নয়। কিন্তু আমরা দেশবাসী আজ এই স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত এবং বড় অসহায়।
হারুন,
মিরপুর-১১, ঢাকা
স্বাধীনতার ৪৩ বছরের মধ্যে যতগুলো সরকার এসেছে তার বর্তমান ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ সরকার অন্যতম। যতবার এসেছে ততবারই দেশ সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে গেছে বলে মনে করি।
জাহাঙ্গীর খান বাবু
মুন্সীগঞ্জ
স্বাধীনতা মানেই হচ্ছে ইচ্ছেমত চলা। স্বাধীনতা মানেই মুক্তির দিন। পরাধীনতার শৃংখল থেকে বেরিয়ে আসা। স্বাধীনতা সবদেশে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ জীবনের নিশ্চয়তার জন্য স্বাধীনতা প্রধান শর্ত। তবে দেশবাসী পুরো স্বাধীনতা থেকে এখনও বঞ্চিত।
মোঃ ইব্রাহিম
উত্তরা, ঢাকা
দেশের নাগরিকগণ ভয়হীন, নিশ্চয়তাপূর্ণ জীবন চায়। চায় শান্তিপূর্ণ জীবন। সেই নিশ্চয়তার জন্য চাই পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা।
বাবুল,
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হবে প্রধান দায়িত্ব। তাহলেই স্বাধীনতার পূর্ণতা আসবে। হবে নির্ভার জীবন, সন্ধান মিলেব নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তার।
হোসনে আরা নীলা,
এনায়েতগঞ্জ লেন
স্বাধীনতার প্রধান বিষয় হচ্ছে নির্ভয়ে জীবনযাত্রা। জনগণ যখন পূর্ণাঙ্গভাবে তার সুবিধা ভোগ করে তখন স্বাধীনতা স্বার্থক হয়। সর্বত্র শান্তি হলেই স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গতা আসবে।।
সোহাগ, ভাগলপুর
নবাবগঞ্জ ঢাকা
শান্তিনগরে অশান্তি, অভয়নগরে মানুষরূপী ভয়ংকর শয়তানের অবাধ বিচরণ। এ দৃশ্য বাংলাদেশে শুধু ঢাকার শান্তিনগর আর যশোরের অভয়নগরে নয়, এটি রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাস্তব চিত্র। কোন খুনী, ধর্ষক, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, ঘুষখোর, সুদখোর, রাষ্ট্রীয় অশান্তি সৃষ্টিকারী, কোন আমলা, রাজনীতিবিদ, ছাত্র, যুবক বিভিন্ন এই জঘন্য কাজের সাথে জড়িত তাদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে বা নির্বাচিত করে পরিচালনা করলে স্বাধীন দেশের নাগরিকদের ভয়হীন নিরাপদ জীবন ভূলুণ্ঠিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
তাই সময়ের সাথে এদেরকে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এদের দিয়ে দেশ পরিচালনা করা সম্পূর্ণরূপে মাতৃভূমিকে অবমাননার সামিল। তেমন এ কাজটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী। বিগত কেয়ারটেকার সরকার দুর্নীতি বিরোধী রোড শোর মাধ্যমে যেমন দুর্নীতিমুক্ত মানুষ উপহার দিতে পারেনি তেমনি বক্তৃতা বিবৃতির মাধ্যমে দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি সম্ভব নয়।
সম্ভব নয় দেশের মানুষকে শান্তিতে রাখা। আজ দলে দলে বিত্তশালীরা পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশের নিরাপদ আশ্রয়ে। আর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা হত্যা, গুম, ধর্ষণসহ নানাবিধ আতংক নিয়ে দেশে অবস্থান করছেন। কোটি কোটি শান্তিপ্রিয় মানুষ আজ অশান্তির ছায়াতলে আর্তনাদ করছে। কার কাছে বিচার চাইবে মানুষ?
ইবনে মাসফি,
হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ
স্বাধীনতার মানেই হলো নির্ভয়ে জীবন-যাপন করা। যাতে দেশের জনগণ নির্ভয়ে সব দিক দিয়ে ন্যায়সঙ্গত ভাবে কথাবার্তা, চলাফেরা, আচার-আচরণ, ইত্যাদি নাগরিক সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগ করে যাওয়া। আজকের এই মতামতটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
তবে মূল বিষয় হচ্ছে আমরা জনগণ কতটুকু নিরাপদ ও নির্ভয়ে জীবন-যাপন করতে পারছি? সে বিষয়ে বলতে গেলে আমার মত একজন নগণ্য ব্যক্তির পক্ষে উত্তর দেয়া খুবই কঠিন। কারণ দেশের প্রচলিত আইনের সাথে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অমিল পরিলক্ষিত হচ্ছে যা মোটেও কাম্য নয়। তবে অতীতের তুলনায় বর্তমানে শিক্ষায়-দিক্ষায়, উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও বহির্বিশ্বের সাথে সু-সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে অগ্রগতির অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। কিন্তু জনগণের নিরাপত্তা বিধানের দিকটিতে এখনও তেমন সাফল্য অর্জিত হয়নি। কেননা সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে যখনই ব্যাঘাতের সৃষ্টি হয় তখনই জনগণের নিরাপত্তার অবনতি ঘটে। কাজেই এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে দলমত নির্বিশেষে সকলকে রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য তথা রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তবেই স্বাধীন, নির্ভয় জীবন-যাপন করা সম্ভব হবে ইনশাল্লাহ।
আলহাজ্ব মো:হাফিজুল ইসলাম (হিফজু) উপদেষ্টা, নজরুল একাডেমী হাউজিং স্টেট, রাজশাহী- ৬২০২।
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও চলাচল করাই স্বাধীনতার পূর্ণ প্রকাশ। স্বাধীনতার অনেক বছর পরও এদেশের নাগরিকগণ অনিশ্চয়তা ও নিরাপদহীনভাবে ছিল। ছিল নানারকম নির্ভয়হীন জীবন। অথচ বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকার বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সময়ে দেশের জনগণ নির্ভয়ে বসবাস করছে। যদিও বিরোধীরা নানাভাবে সহিংসতা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা জামায়াতকে নিয়ে নানাভাবে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন গোসমী দেশের সম্পদ নষ্ট করেছে দুর্বিষহ করেছে দেশের পরিস্থিতি। এ থেকে রক্ষা করেছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। তবে এটাই আমাদের দৃঢ়বিশ্বাস, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার এদেশে নির্বাচিত হওয়ার পর এ দেশের নাগরিকরা আশঙ্কামুক্ত ভাবে জীবন-যাপন করছে। তাই বর্তমান সরকারকে আরো সহযোগিতা করা নাগরিকদের একান্ত কর্তব্য।
এস, কে, মো: রমিজউদ্দিন
প্রশিকা
প্রধান কার্যালয়, মিরপুর
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রাণ উর্ত্গ করেছে ত্রিশ লক্ষ প্রাণ। এর মধ্যে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ ছিল। বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক তথা নারী-পুরুষসহ আরো অনেক শ্রেণী পেশার মানুষ। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজ স্বাধীনতা। স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর সৈনিক বাংলা মায়ের সন্তান। সব কিছু মিলে আমরা কতটুকু অর্জন করে রাখতে পেয়েছি? আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের নিরাপদের নিশ্চয়তাও নেই। কাজেই স্বাধীনতা ঠিক আছে কিন্তু নির্ভর জীবন এখনো হয়নি।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
কবিরহাট, নোয়াখালী।
স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও এখনো ভয়হীন নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা আসেনি। সবসময় একটা অনিশ্চয়তা রয়েছে, রয়েছে অশনিসংকেতের ইংগিত। কজেই আমি মনে করি দেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও সামাজিক জীবনে স্বাধীনতা আসেনি।
মো. ইফতেয়ার হোসাইন
৬নং চরভেরবী
হাইমচর, চাঁদপুর।
স্বাধীনতা ও নির্ভরজীবন দুটোই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু এই দুটোর প্রতি আমরা কতখানি শ্রদ্ধাশীল ও মর্যাদাশীল সেই বিষয়টি দেখার গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন দেশ, সমাজ, ব্যক্তি এই স্বাধীনতার প্রতি জড়িত। নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তার অন্যতম চাবি এই স্বাধীনতা। অথচ এই দেশে স্বাধীনতাকে নানাভাবে কলুষিত করা হচ্ছে। এ রকমটি আমাদের প্রত্যাশা নয়।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রথম উত্সর্গ করেছে ত্রিশ লক্ষ মানুষ নয় মাস যুদ্ধ হয়েছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার ৪২ বছর পূর্ণ শেষে ৪৩ বছরে পা রেখেছে। এ সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে নিয়ে নানা বিভ্রান্তি হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে আজ স্বাধীনতা। স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান শর্ত নির্ভয় জীবন’। কিন্তু আমরা কি পেয়েছি সত্যিকারের স্বাধীনতা? না পাইনি? রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহিংসতা লেগেই আছে। এর থেকে পরিত্রাণ পাইনি দেশবাসী।
নীলুফা আক্তার
টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা।
আমি মনে করি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র পেয়েছি। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। স্বাধীনচেতা নাগরিক হিসাবে অনেকটা নির্ভয়ে কাটাতে পারছি না। এ সমস্যা হচ্ছে রাত্রি বেলা চলাচল বা যাতায়াতের মধ্যে। সন্ত্রাসের আক্রমণ ভয়ের আশংকা থেকেই যায়। রাত্রির কালে যাতায়াতটা স্বাধীনতার পর থেকে এমনটি হয়েই আসছে। কোন সরকার আমলেই এই বিষয়টি নিরাপত্তা আশ্রয় দিতে পারেনি। গণহারে গ্রেফতার ও ক্রসফায়ারে লোক হত্যা করে এ সমস্যা দূর করা যাবে না।
সরকারি হাইওয়ে পুলিশের শাখা প্রশাখা বৃদ্ধি করে ও জন বল বৃদ্ধি করে উপজেলা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা করা যাবে। তখন দেশের মানুষ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত রাত্রে ভ্রমণ করতে পারবে। তবে দিনের বেলায় এ সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের জোরটা অনেক বেশি। চেতনা বোধও অনেক শক্তিশালী। সেই শক্তিতে বলিয়ান হয়ে ভয় ও উত্কণ্ঠার সময়ও আমরা নির্ভয়ে চলার সাহস পাচ্ছি। এই শক্তি আমাদের জন্য অনেক পাওয়া।
মিজানুর রহমান
ব্যাংক কর্মকর্তা, গ্রামীণ ব্যাংক
এরিয়া অফিস, শিবালয়, মানিকগঞ্জ।
হাজার বছরের বাঙালির গৌরবময় উজ্জ্বল অধ্যায় স্বাধীনতার ১৯৭১। স্বাধীনতার মাসের দেশের মানুষের কাছে মুখে হাসি এই স্বাধীনতা। লাল সবুজের পতাকা রং মিশে আছে আমাদের স্বাধীনতা। একাত্তরের অনেক স্মৃতির মাঝে এই স্বাধীনতা। কিন্তু সত্যি কি আমরা স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও স্বাধীন হতে পেরেছি? না পারিনি-আর কবে পারবো তাও জানি না।
কেয়া আক্তার
স্টাফ রিপোটার
টাইম’স ২৪ ডট নেট, ঢাকা
বহু কষ্টে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধে ও স্বাধীনতাযুদ্ধে বুকের রক্ত দিয়ে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে এদেশ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করেছিল। স্বাধীনতার পরে কয়েক বছর এদেশের মানুষ ভয়ও নিরাপদহীন জীবনযাপন করলেও বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে ভয়হীন ও নিশ্চয়তা সহকারে জীবন-যাপন করছে। বর্তমান এই গণতান্ত্রিক সরকারের সময়েই এদেশের জনগণ পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। তাই বলবো বর্তমান সরকারের সাথে কোন সরকারেরই তুলনা নেই।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
ভোলা ড্রাগ হাউজ
পূর্ব ইব্রাহিমপুর, শেওড়াপাড়া
বাংলাদেশ স্বাধীন স্বার্বভৌমত্বের দেশে নির্ভয়ে চলাফিরা করা যাবে। এটাই সবার কাম্য। কিন্তু একশ্রেণীর স্বার্থন্বেষী মহল জাতিকে বিভক্ত করায় লিপ্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মো. জহুরুল ইসলাম
মিরপুর মগরা, টাঙ্গাইল
সদর টাঙ্গাইল
বাঙালি বুকের তাজা রক্ত দিয়ে পাকিস্তানী হায়েনাদের এ দেশের মাটিতে পরাজিত করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। কিন্তু আজ আমরা একি হাল দেখছি? স্বাধীনতার পরেও এদেশের জনগণ ভয়ভীতিতে দিনযাপন করছিল। যদিও স্বাধীনতার অন্যতম শর্ত নির্ভয় জীবন। দেশ স্বাধীন হবার পরেও এই নিরীহ বাঙালি জাতির ওপর অমানসিক অত্যাচার নির্যাতন করে চলছিল। এই আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্ভয় জীবন যাপন করছে এদেশের নাগরিক। দেশ স্বাধীন হবার পরেও একইভাবে দেশ বিরোধীরা জনগণের ওপর অত্যাচার অব্যাহত রেখেছিল।
এই স্বাধীন বাংলার মাটিতে পেট্রোল বোমা মেরে দেড় শতাধিক মানুষ হত্যা করলো কারা? অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু করে তারা সহিংস পথ পরিহার করে নির্বাচনে যেতে পারছে না। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীন দেশের ক্ষমতার দায়িত্ব ভার পাবার পর এদেশের নাগরিকরা ভয়হীন নিরাপত্তা জীবন-যাপন করার ঠিকানা পেয়েছে। যতখানি নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে এই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আওয়ামী লীগ সরকারের এই আমলে স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পাচ্ছে এই নাগরিকরা। নিরাপদ জীবনের জন্য এই গণতান্ত্রিক সরকারই এদেশের জনগণের জীবনের নিশ্চয়তা দেয়। তাই এ সরকারের বিকল্প নেই বলে মনে করি।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
“একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার, সারাবিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার”— শিল্পীর কণ্ঠে গানটি সত্যি চমকপ্রদ। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হলো এই স্বাধীনতার মর্যাদা আমরা কতটুকু রাখতে সক্ষম হয়েছি। এখনো আমরা নিরাপদ জীবনের স্বাদ পাইনি সম্পূর্ণরূপে । তাই নিশ্চয়তা সহকারে জীবন চাই। চাই স্বাধীনতার পূর্ণ মর্যাদা।
মাসুম আহম্মেদ
সাপ্তাহিক
শিকড়ের সন্ধানে
যাত্রাবাড়ি, ঢাকা
স্বাধীনতা আমাদের দেশে অহংকার। সারা বিশ্বের বিস্ময়। কোন জাতিই স্বাধীনতা ব্যতীত চলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন স্বাধীনতা। কিন্তু আমাদের দেশের স্বাধীনতাকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে।
তাই বলবো নিরাপদ জীবনের জন্য নিশ্চয়তা স্বরূপ হিসাবে এই স্বাধীনতা অতীব জরুরী।
পারভীন সুলতানা
আরোপপুর, ঝিনাইদহ
বহুকষ্টে আমাদের অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা। নয় মাস যুদ্ধ সংগ্রাম শেষে ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। কিন্তু এই স্বাধীনতার সত্যিকার নির্ভয় জীবন বা ভয়হীন নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা এখনো পাইনি আমরা। তাহলে স্বাধীনতার সুফল আমরা কতটুকু পেলাম সেটাই আজ বিবেচ্য বিষয়।
মোঃ মনির হোসেন
মনির বুক এন্ড সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র
মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
স্বাধীনতা একটি দেশের জন্য বিশাল অর্জন। আর সেই স্বাধীনতা যখন যে দেশ পায় তখন সে দেশ একটি সত্যিকার ভয়হীন জীবনের নিশ্চয়তার সন্ধান মেলে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেও সেটাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি বা ধরে রাখতে পারছি না। সব মিলে আমাদের নিশ্চয়তা আসেনি, ভয়হীন, ভাবনাহীন বিষয়গুলো এখনো ঠিকানাহীন রয়ে গেছে।
মোঃ খায়রুল বাশার (চয়ন)
কুতুবখালি, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা
স্বাধীনতার প্রধান শর্ত নির্ভয় জীবন। কিন্তু আমরা যারা এদেশের নাগরিক তারা কতটুকু স্বাধীন, কতটুকু ভয়হীন নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা কোথায়? নেই একথাই সত্য। তাহলে আমরা ৪৩ বছর পরেও কি পেলাম? মনে হয় না কিছু পেয়েছি। আর পাবো বলে মনে হয় না। তাই যতদিন বেঁচে থাকবো- ততদিন শুধু ভাসবো আর ডুববো, ডুববো আর ভাসবো যন্ত্রণার সে াতে।
মোঃ খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান শর্ত নির্ভয় জীবন। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও বলতে ইচ্ছে হয় কোথায় আমাদের নির্ভয় জীবন। পুরো নয় মাস যুদ্ধ হয়েছিল এদেশে। বহুমানুষ ঘরবাড়ী ছেড়ে শরণার্থী হয়েছিল ভারতে। ত্রিশ লক্ষ বাঙালি স্বাধীনতার শত্রুদের ভোলা যায় না। কোথায় নিরাপদ জীবন তাহলে?
মোঃ রাশিদুল ইসলাম (রয়েল)
নিশিন্দারা
মধ্যপাড়া, বগুড়া
স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান শর্ত নির্ভয় জীবন। আর এই স্বাধীনতার জন্য আমরা পেতে পারি নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা। স্বাধীনতা পেয়েছি ৪৩ বছর আগে কিন্তু সেই স্বাধীনতাকে আমরা কতটুকু মূল্যায়ন বা ধরে রাখতে পারছি? তাই একথাটাই এখন মোক্ষম হয়ে উঠেছে- “স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করাই কঠিন”।
এম, কে, আকন্দ
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
টাইমস ২৪ ডট নেট, ঢাকা
