মৌজা ম্যাপের ডিজিটালাইজেশন

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৪, ২১:১৭
বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা বহুদিন ধরিয়াই চলিতেছে। যদিও অর্থ সংকটে ইহা শেষ হইয়াও শেষ হইতেছে না। তথাপি ইহার কিছু সুফল ইতোমধ্যেই পাওয়া যাইতেছে। যেমন জমির দলিলপত্রে এখন আধুনিকতার ছাপ লাগিয়াছে। দুর্বোধ্য হাতের লেখার বদলে কম্পিউটার টাইপ জায়গা করিয়া নিয়াছে। সংযুক্ত হইয়াছে ছবিও। এইবার সুখবর হইল, সম্প্রতি ভূমিমন্ত্রী জমির মৌজা ম্যাপের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করিয়াছেন। ভূমির আধুনিকীকরণে নিঃসন্দেহে ইহা একটি বড় অগ্রগতি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়িবার ব্যাপারে এই সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হইয়াছে। তৃণমূল পর্যায়েও পড়িতেছে তাহার প্রভাব। অনুরূপভাবে উপরোক্ত কার্যক্রম শুরু হইবার কারণে জমির মৌজা ম্যাপের জন্য হয়রানি ও কালক্ষেপণ বন্ধ হইয়া যাইবে বলিয়া আশা করা যায়। এখন রাজধানীর তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড়ে অবস্থিত ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরে গিয়া যে কেহ স্বল্পতম সময়ে এই ম্যাপ সংগ্রহ করিতে পারেন। এইজন্য সেবা বাবদ দিতে হইবে মাত্র তিনশত টাকা। মৌজা ম্যাপের ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে জমি নিয়া জাল-জালিয়াতি বহুলাংশে বন্ধ হইয়া যাইবে বলিয়া আমরা আশা রাখি। জমি নিয়া বিরোধের কারণে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা এখনও পিছাইয়া আছে। শহর ও গ্রামে জমি-জমা নিয়া বিরোধ-বিতণ্ডায় ফি বত্সর মামলা-মোকদ্দমা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা কম হয় না। ইহাতে যেমন আর্থিক ক্ষতি হইতেছে, তেমনি সমাজে দেখা দিতেছে অস্থিরতা। এক সময় দেশের আদালতগুলির মোট মামলার শতকরা ৭৭ ভাগ ছিল ভূমিবিরোধ সংক্রান্ত। বর্তমানে ভূমি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের উদ্যোগে কোন কোন ক্ষেত্রে এই অবস্থার কিছুটা উন্নতি হইয়াছে। তবে এখনও এইক্ষেত্রে বহু পথ পাড়ি দিতে হইবে। মূলত জমি নিয়া বিরোধের মূল উত্স হইতেছে ১৭৯৩ সালে জারিকৃত লর্ড কর্ণওয়ালিশের ভূমি বন্দোবস্ত আইন। ইহার মাধ্যমে বাংলার সাধারণ কৃষক সমাজ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইহা ছিল তাহাদের জন্য মরণ ফাঁদ। ইহাতে জমির মালিকানা চলিয়া যায় জমিদারদের হস্তে। ইহার পর নানামুখী আন্দোলন ও কৃষক বিদ্রোহের ফলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ ভূমি জরিপের কারণে জমির মালিকানা ও স্বত্ব নিয়া দেখা যায় জটিলতা। এখন মৌজা ম্যাপের ডিজিটালাইজেশনের কারণে ক্রমান্বয়ে হইলেও এই জটিলতা ও সমস্যা কমিয়া যাইবে বলিয়া আমাদের বিশ্বাস। তবে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম আসলে আংশিক সম্পন্ন হইয়াছে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরসূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের দুই লক্ষ চার হাজার মৌজা ম্যাপের মধ্যে সিএস (ক্যাডেস্ট্রাল সার্ভে) ও এসএ (এস্টেট অ্যাকুইজিশন) জরিপের এক লক্ষ ১৫ হাজার ম্যাপ পরিপূর্ণভাবে স্কেল ঠিক রাখিয়া নিখুঁতভাবে কম্পিউটারাইজড করা হইয়াছে। তবে আরএস-এর (রিভিশনাল সেটেলমেন্ট) ৮৯ হাজার ম্যাপ ডিজিটালাইজড করা এখনও বাকি আছে। যতটা জানা যায়, ইহার মূল কারণ অর্থ সঙ্কট। তবে এই ধরনের একটি শুভ উদ্যোগকে আমাদের আগাইয়া নেওয়া উচিত। ইহা সম্পূর্ণ করিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রায় এক কোটি টাকা ইতোমধ্যেই বরাদ্দ চাওয়া হইয়াছে। ভূমি ব্যবস্থায় রেজিস্ট্রেশন হইতে শুরু করিয়া রেকর্ডিং পর্যন্ত সর্বত্র ও সব রকম সুরক্ষা নিশ্চিত করিতে হইবে। অতএব, আমরা চাই মৌজা ম্যাপ পরিপূর্ণভাবে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনয়ন করা হউক।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন