উপজেলা নির্বাচন : স্বস্তি-অস্বস্তির আমলনামা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৪, ২১:১৭
দেশে প্রথমবারের মতো ধাপে-ধাপে পদ্ধতিতে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৩ মার্চ পর্যন্ত এর মোট ৪টি ধাপ অতিক্রম হয়ে গেছে। সম্মুখে আরো দুটো ধাপ বাকি আছে। তারপর এর আমলনামার পুরো চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে। এ পর্যন্ত প্রায় চারশ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো, সরকার, মিডিয়া, পর্যবেক্ষক মহল এবং সাধারণ মানুষ যার যার মতো করে মতামত দিচ্ছেন, স্বস্তি-অস্বস্তির নানা দিক, রাজনৈতিক অর্জন-বিসর্জনের নানা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠাও তুলে ধরছেন। নির্বাচন ব্যবস্থায় আমরা আসলে এগিয়ে গেলাম, নাকি পিছিয়ে গেলাম এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে। কেউ কেউ হতাশার দিকটিই বড়ো করে দেখছেন, বেশি দেখছেন, তবে আশার দিক কিন্তু মোটেও ছোট নয়, বরং অনেক বড় বলেই আমার মনে হচ্ছে। এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের শুরুর পর্বটি মোটামুটি বেশ স্বস্তির ছিল। কোনো সহিংসতা, সংঘাত-সংঘর্ষের প্রবণতা তাতে পরিলক্ষিত হয়নি। হতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলগুলো প্রাথমিকভাবে তখন অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছিল। দ্বিতীয় পর্বে কেউ কেউ অর্থাত্ কোনো কোনো উপজেলায় প্রার্থী ও সমর্থকদের একটি অংশ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বাভাবিক মেজাজ ধরে রাখতে পারেনি, দেয়ওনি। কোথাও কোথাও সংঘাত সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটেছে, জোর জবর-দস্তির চেষ্টা হয়েছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়েছেও, বাধা দান, শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা ইত্যাদি হয়েছে। তবে এটি পুরো নির্বাচনের স্বাভাবিক চিত্র নয় মোটেও। বরং কিছু কিছু উপজেলার কিছু কিছু কেন্দ্রের চিত্র। তৃতীয় এবং চতুর্থ পর্বেও এই প্রবণতাটি লক্ষ্য করা গেছে। দ্বিতীয় পর্বে সম্ভবত তাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে, তৃতীয়তে হয়েছে দুই জনের এবং চতুর্থ পর্বে ৪ জনের। কোথাও কোথাও ভোটের বাক্স ছিনতাই হয়েছে, জাল ভোট দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রার্থীদের কারো কারো সমর্থকগণ বেশ বেপরোয়া হয়ে ওঠা সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া, ভোট দানে বাধাও দেয়া, সংখালঘুদের বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ সবই ঘটেছে সর্বসাকুল্যে ১২০টির মতো নির্বাচনী কেন্দ্রে। কিন্তু নির্বাচন হয়েছে প্রায় ২৫ হাজারের মতো কেন্দ্রে। এতো বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রের মধ্য থেকে শতাধিক কেন্দ্রে নানা মাত্রিক সংঘাত, অনিয়ম, নির্বাচন স্থগিত রাখা এবং পুনঃনির্বাচন করতে হয়েছে-এমন প্রবণতা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কারো কাছে কাম্য ছিল না। সে কারণেই বলতে হচ্ছে নির্বাচনের অস্বস্তির দিক হচ্ছে এসবই, কিন্তু বাকি যে বিশালসংখ্যক কেন্দ্রে ভোটারগণ তাদের ইচ্ছেমতো ভোট দিয়েছেন, পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন-সেটি হচ্ছে বড় ধরনের অর্জন, সাফল্য এবং স্বস্তির জায়গা। আমরা প্রচার-প্রচারণার প্রভাবে পড়ে প্রায়শই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ এমন বড়ো অর্জনের দিকগুলোর উল্লেখ করছি না। এর ফলে গোটা নির্বাচন নিয়ে অস্বস্তির বিষয়গুলো প্রধান হয়ে ওঠে, তাতে স্বস্তির বিশাল জায়গাগুলো ছোট হয়ে যায়। এতো বড়ো নির্বাচনের মতো ঘটনা নিয়ে তাতে আমাদের ভাবনা-চিন্তা ও করণীয় নির্ধারণে বড়ো ধরনের দুর্বলতা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, আমলনামায় স্বস্তি-অস্বস্তির অবস্থান নির্ধারণে অবাস্তবতার প্রভাব কার্যকর থেকে যায়। এমনটি যাতে না ঘটে সেদিকেও রাজনীতি সচেতন মহলকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেন অস্বস্তির দিকগুলো উপজেলা নির্বাচনের প্রথমটি বাদে বাকি তিনটি পর্বে ঘটে গেছে, কারা সেগুলো ঘটিয়েছে—এসব প্রশ্নে উত্তর খোঁজার উদ্যোগ নেয়া খুবই জরুরি। যেখানে আমরা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম যে, আমাদের নির্বাচনে জোর-জবরদস্তি এক সময় ছিল, কিংবা সংঘাত ঘটানো হয়েছিল। সেটি একটি অতীতের বিষয়। গত ছয়-সাত বছর অন্তত দেশের নির্বাচনী চিত্র থেকে এমন মতামত শোনা যেত। আমরা তাতে এক ধরনের সন্তুষ্টি লক্ষ্য করেছি। মনে রাখতে হবে, স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে দীর্ঘদিনের মারাত্মক ব্যাধি এতো সহজে নির্মূল হওয়ার বিষয় নয়। হয়তো নানা উদ্যোগ ও চাপে সেসব অপপ্রবণতা এই সময়ে মাথা লুকিয়ে ছিল, কিছুটা দুর্বল হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর মতো অপসংস্কৃতির বিলুপ্তি, দুর্বৃত্তায়িত মানসিকতার পরিবর্তন অতো সহজে ঘটে যাওয়ার নয়। নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তারা জনসেবার কথা যতোটা প্রচার করেন, বাস্তবে তার নজির কতোটা পাওয়া যায় সেই প্রশ্ন তোলা হলেই যে উত্তর পাওয়া যাবে তা খুব একটা সুখকর হবে না। বাংলাদেশে ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো এবং প্রশাসন এখন কতোটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাও আমাদের কাছে অজানা নয়। বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষত যারা ক্ষমতায় যাওয়ার অবস্থানে চলে গেছেন- সেগুলোতে সমাজের এমনসব ব্যক্তির সমাবেশ বেশি ঘটেছে যারা তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে ক্ষমতা, বিত্ত ও শক্তি অর্জনের লক্ষ্যেই বেশি বেশি দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। ফলে একবার যেকোনো পর্যায়ের ক্ষমতায় যাওয়া তাদের পক্ষে সক্ষম হলে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে তাদের আর ভাবতে হয় না। সে রকম নজির তাদের হাতে এতোটাই বেশি যে, দেশ ও জনগণের জন্যে কাজ করতে গিয়ে নিজেকে উত্সর্গ করার নজির রাজনীতি, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ইত্যাদি পর্যায়ে খুব বেশি চোখে পড়ে না। এ ধরনের বাস্তবতায় অর্থ, বিত্ত ও ক্ষমতার সিঁড়ি বাইতে হলে নির্বাচনে জয়লাভ করা হচ্ছে তাদের জন্যে একমাত্র বৈধ উপায়- যারা তা পেতে চান, করতে চান। সে কারণেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই দেশের রাজনৈতিক দলগুলো চলে, ফুলে-ফেঁপে ওঠে বা শুকিয়ে যায়। নির্বাচন নিয়ে দলগুলোতে নানা দ্বন্দ্ব-সংঘাত, সংঘর্ষ, প্রতিযোগিতা চলছে। মনোনয়ন না পেলে বড় দলগুলোতে অভ্যন্তরে কেমন অসন্তোষ চলে- তাতো সকলেরই অভিজ্ঞতার বিষয়। দলের সকল স্তরেই নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা গ্রুপিং, সমীকরণ চলে এসব নির্বাচনকে উপলক্ষ্য করেই। তৃণমূলকে বাগে রাখার প্রচেষ্টা স্থানীয় নেতাদের মধ্যে কেমন তাও জানা বিষয়। দলের মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘটনাও এখন কম নয়। এ ধরনের বাস্তবতায় নির্বাচনে একটি বড় ধরনের প্রার্থী সংখ্যা থাকেন যারা জয়ের জন্যে মরিয়া হয়ে ওঠেন, নির্বাচনে জয়লাভ করতে তারা কর্মী-সমর্থকদের যেকোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগে উত্সাহিত করেন, সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটাতে দ্বিধা করেন না। এদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব সহজ কাজ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও লক্ষ্য করা গেছে, যেসব এলাকায় জোর-জবরদস্তির ঘটনা ঘটেছে, সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে- সেখানে কোনো কোনো প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকগণ নির্বাচনী আচরণবিধির ধার ধারে না, পুলিশ-সেনা কিছুই মানে না, শক্তি প্রয়োগ করে হলেও নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করেছে। সে ক্ষেত্রেই সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছে, ভোটের বাক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রার্থী এবং তার সমর্থকদের সহিংস মানসিকতা, আচরণ- উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্যে কতোটা দায়ী তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশে যে কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে এখন এটি একটি বড় সমস্যা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর ব্যাপকতা তুলনামূলকভাবে বেশি। কেননা, এতে স্থানীয় নানা গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারের নানা হিসাব-নিকাশ জড়িত থাকে। সে কারণে দেখা যায়, এসব সংঘর্ষে স্থানীয় প্রভাব এবং মহলবিশেষের অংশগ্রহণ অনেক বেশি জড়িত। উপজেলা নির্বাচনের প্রথম পর্বের চালচিত্র দেখার পর কোনো কোনো প্রার্থী এবং সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে নানা ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বেড়ে গেছে। তা থেকে জয়ের জন্যে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ ধারা ক্রমশ তীব্রতর হয়েছে। সেই তীব্রতা থেকেই মারামারি ও খুনাখুনির মতো ঘটনার সৃষ্টি। যদিও উপজেলা নির্বাচনটি নির্দলীয় নামে হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তিন-চারটি প্রথম সারির দলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন এবং অংশগ্রহণ এতে সুবিদিত হয়ে ওঠে। প্রথম পর্বের নির্বাচনে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীদের জয় দলগতভাবে বিএনপি এবং ১৯ দলকে অনেক বেশি আশাবাদী করে তুলেছে। মাত্র ক’দিন আগেই তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন এবং প্রতিহত করার আত্মঘাতী এবং দেশ ও জাতিঘাতী কর্মসূচি দিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার পর দল এবং সকল মহলের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাদের কর্মকাণ্ড, আন্দোলন এবং কৌশলকে কোনো মহলই যথাযথ মনে করছে না, তা থেকে ব্যাপক রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ার পর উপজেলা নির্বাচনের প্রথম পর্বে বিএনপি-জামায়াতের এমন ফলাফল তাদেরকে আশাতীত আশাবাদী করেছে। তা থেকে তারা উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলকে বড় করে দেখার সুযোগ পেয়েছে। একে অবলম্বন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নিতে চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগ প্রথম পর্বের নির্বাচনে একেবারেই নির্বিকার ছিল, দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে ক্ষমতা পাওয়া বা যাওয়ার সুযোগ হিসেবে অবাস্তবোচিতভাবে প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা তাতে লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে প্রথম দু’দুটো পর্বে ক্ষমতাসীন দল জয়ের চাইতে পরাজয়ের গ্লানি বেশি নিয়েই বাড়ি ফিরেছে। দলে নিয়ন্ত্রণহীনতা বেশি ছিল। একই পদে দলের একাধিক প্রার্থীর আধিক্য ঘটেছে। সেই সুযোগ নিতে পেরেছে বিএনপি এবং জামায়াত। বোঝাই যাচ্ছিল, শুরু হওয়া উপজেলা নির্বাচনের দুই পর্বের ফলাফলে জামায়াত-বিএনপি এগিয়ে যাওয়ার বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে, একইভাবে দলগুলোর বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বেড়ে যায়। একদিকে বিএনপি-জামায়াত ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তবতা, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নিজেদের মর্যাদার অবস্থান ধরে রাখা— এমন অবস্থায় তৃতীয় পর্ব থেকে নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন, সমর্থন ইত্যাদির সমীকরণগুলো নতুনভাবে ঘটতে থাকে। ফলে তৃতীয় ও চতুর্থ পর্বে নির্বাচনের চিত্রই পাল্টে যেতে থাকে। আওয়ামী লীগ অনেকাংশে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। বিএনপির অবস্থাও অনেকটা তাই। তবে জামায়াত এক্ষেত্রে স্বতন্ত্র একটি অবস্থান নিয়ে চলছে যা বিএনপির জন্যে খুব বেশি স্বস্তি আনেনি। জামায়াত বেশ কৌশলে তাদের দলীয় অবস্থানকে সংহত করতে পেরেছে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি এক্ষেত্রে রাজনৈতিক তেমন কোনো দায়িত্ব বোধের পরিচয় দেখাতে পারেনি। যদি উপজেলা নির্বাচনে সবচাইতে বেশি দলীয়ভাবে কোন দল লাভবান হয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে যে কেউ জামায়াতের নামই বলবেন। কেননা, যদ্ধাপরাধীদের ইস্যুতে দেশে যখন তীব্র জামায়াত বিরোধী প্রচারণা চলছে তখন বড় দুই দল নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে এমন কোনো অবস্থান নেয়নি যেখানে জামায়াত কোণঠাসা অবস্থায় পড়বে। অধিকন্তু বিএনপি জামায়াতকে ছাড় দিতে গিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব অনেক জায়গায় বিপন্ন করে তুলেছে, আওয়ামী লীগ সেসব জায়গায় কোনো আদর্শিক অবস্থানও দাঁড় করাতে পারেনি। ফলে বর্তমান উপজেলা নির্বাচন রাজনীতি সচেতন মহলের জন্য এমন একটি বড় ধরনের বেদনাদায়ক দিকের উন্মোচন করেছে, তা হচ্ছে দেশে জামায়াতকে কেন্দ্র করে জঙ্গি মতাদর্শের শক্তির অবস্থান সমাজের তলদেশে ব্যাপকভাবে স্থান করে নিয়েছে, সেখানে অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শের রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, গোটা বাংলাদেশ ক্রমশ যেন ধাবিত হচ্ছে এমন দিকেই—যেদিকে দেশের গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন আখেরে মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়তে বাধ্য। সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার সমাজের তলদেশ থেকে উঠে আসার লক্ষণ কোনোভাবেই দেশের ভবিষ্যত্ গণতন্ত্রকে নিরাপদ বলে মনে করার কোনো যুক্তি দেখায় না। যে কোনো রাজনৈতিক বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এবং গোষ্ঠীর জন্য একটি বড় অস্বস্তির জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন গোষ্ঠীসমূহ কীভাবে রাজনৈতিক এই প্রবণতাকে দেখছেন, বিবেচনায় নিচ্ছেন তা দেখার বিষয়। তবে চলতি উপজেলা নির্বাচনের আমলনামায় এটিও যুক্ত হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখনই যদি গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহ কর্মপন্থা নির্ধারণ না করে, সমাজের তলদেশের মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা না করে, তা হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভাগ্যাকাশে মনে হয় বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় সৃস্টি হতে পারে। আমি সেই পূর্বাভাসই এই উপজেলা নির্বাচনে দেখছি। লেখক :অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন