ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৪, ২১:৩২
অর্থনীতিকে রাজনৈতিক সহিংসতার আওতামুক্ত রাখতে হবে যে কোন দেশের অগ্রগতি নির্ভর করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির উপর। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা লেগেই আছে। কিন্তু এরপরও বিগত কয়েক দশকে আমাদের অর্থনীতি অনেক এগিয়ে গেছে। হরতাল, সহিংসতার মধ্যেও আমাদের অর্থনীতির চাকা থেমে থাকে নাই। ফলে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে এশিয়ার ইমাজিং টাইগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু বিগত বছরের রাজনৈতিক সহিংসতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিরামহীন সহিংসতার কারণে আমাদের অর্থনীতি প্রায় স্থবির হয়ে গিয়েছিল। ফলে গত বছরে আমাদের প্রত্যাশিত জিডিপি অর্জিত হয়নি। কিন্তু জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে অর্থনীতি অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও আগের অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। আর এই অবস্থা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অর্থনীতিকে রাজনৈতিক সহিংসতামুক্ত রাখার ব্যাপারে সমঝোতা। তাহলেই আমাদের অর্থনীতি আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আয়াজ বিল্লাহ পশুপালন অনুষদ, প্রথম বর্ষ,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতি দমন ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, সাধারণত দুটি কারণে দেশে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়। একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর অপরটি অন্তঃকলহ। আমাদের অর্থনীতি রাজনৈতিক অন্তঃকলহের মাধ্যমেই বিপর্যস্ত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। জনগণ আয় করতে পারে, সঞ্চয় করতে পারে, বিনিয়োগ করতেও পূর্বের ন্যায় ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় না। এ দেশের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ধ্বংসলীলা লাঘব হওয়ায় ফের অর্থনীতি তার গন্তব্যে পৌঁছতে শুরু করেছে। দুর্নীতি কিংবা সহিংসতা একটি দেশকে সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যে দেশ যত দুর্নীতি মুক্ত ও দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান সে দেশ তত বেশি উন্নত। রাশিয়ায় ১৯১৭ -১৯১৯ সালে গৃহযুদ্ধের সময় মূলধন, কৃষি পণ্য ও শিল্প পণ্য মারাত্মক ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সে মন্দা উপশমিত হয়েছিল দক্ষ প্রশাসন ও দুর্নীতি মুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র কায়েমের মাধ্যমে। তাই দুর্নীতি দমন ও দক্ষ প্রশাসন গড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি তার নির্দিষ্ট কক্ষ পথে অবস্থান করবে বলে আমার দৃঢ় প্রত্যাশা। মো. মোহাইমিনুল ইসলাম অর্থনীতি বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্থিতিশীল রাজনীতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি একটি দেশের স্থিতিশীল রাজনীতি পাবে দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে। কিন্তু দেশে যদি অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজমান থাকে তাহলে কি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব? আদৌ সম্ভব নয়। কারণ বিগত ২০১৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হরতাল ও অবরোধের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যে অবস্থায় এসে পৌঁছে ছিল তা আদর্শ উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। যাহোক, কিছু দিন হরতাল ও অবরোধ না থাকায় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা একটু হলেও সচল হবার পথে বলা যায়। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনের পর যদি আবারও হরতাল ও অবরোধ দেয়া হয় তাহলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কি হবে একটু ভেবে দেখেছেন কি? তাই সচেতন মহলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল রেখে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতাকে অব্যাহত রাখতে। ইউসুফ আলী ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ (২য় বর্ষ) মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টাংগাইল। ব্যক্তিগত স্বার্থচিন্তা বাদ দিয়ে দেশ ও দশের কথা ভাবলে অর্থনীতি এগিয়ে যাবে দেশের সকল “জনগণ” যখন “মানুষ” হয়ে উঠবে, তখন দেশের সকল ক্ষেত্র আপনা হতেই উন্নত হবে। আর তার জন্য ছাত্রসমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থচিন্তা বাদ দিয়ে দেশ ও দশের স্বার্থচিন্তা করে সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আমাদের দেশে প্রায় একশত বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আর, তাতে আছে প্রায় ১০ লাখ এর মতো ছাত্র। এদের মধ্যে অন্ততঃ ১০ ভাগও যদি হরতাল, অবরোধ সর্বোপরি নৃশংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না, এমন কোনো অপশক্তি আছে, যারা আমার দেশের ও জনগণের ক্ষতি করতে পারবে বা চিন্তাও করবে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যখন আমাদের ন্যায্য অধিকার দেয়নি, তখন আমাদের পূর্বপুরুষেরা টিক এইভাবেই তার প্রতিবাদ করেছিল। আমাদের শরীরে যে এইসব পূর্বপুরুষের রক্ত, সেই সম্পর্কে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়। একটা নির্দিষ্ট সময় পর, আমাদের এই ছাত্রসমাজই তো কেউ না কেউ রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ হবে। তার জন্য না হয়, চর্চাটা এখন থেকেই শুরু হোক, দেশ ও দশের কথা চিন্তা ও কাজের মাধ্যমে? শেষে বলতে চাই, হে ছাত্রসমাজ, জীবনের অমূল্য সময়ের যথার্থ মূল্য দিয়ে নিজেকে উন্নত করো এবং সেই উন্নতিকে ছড়িয়ে দাও দেশের স্বার্থে। সুজয় মল্লিক এল.এল.বি (সম্মান) ১ম বর্ষ- ১ম সেমিস্টার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া পেসিফিক, ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন