ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীর বিপরীতে ১৯দলীয় জোট থেকে ৩ প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রার্থীরা হচ্ছেন-জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী এম.তৌহিদুল আলম বাবু (আনারস) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব সরোয়ার আলমগীর (মোটর সাইকেল) জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিব আহমদ (দোয়াত-কলম)ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিষৃ্কত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ছালাহ্ উদ্দিন (কাপ-পিরিচ)। উক্ত চার প্রার্থীই বর্তমানে জয়ের আশায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে প্রচারণার দিক থেকে আওয়ামী লীগ যতটা গোছালো ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ততোটাই অগোছালো। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ারসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সকল নেতাকর্মী সংঘবদ্ধভাবে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মির্জা আকবর একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে জামায়াতের উত্তর জেলা নেতৃবৃন্দসহ মাঠ পর্যায়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা রাত দিন সমানে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ছালাহ্ উদ্দিন গত উপজেলা নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাত্র ৫৫৫ ভোটে হেরে যান। এ ফলাফল তিনি প্রত্যাখ্যান করে ষড়যন্ত্র করে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন। এবারও তিনি যথারীতি মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং তার নামে প্রতীকও বরাদ্দ হয়। কিন্তু দল থেকে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে আলহাজ্ব সরোয়ার আলমগীরকে মনোনয়ন দিলে আলহাজ্ব ছালাহ্ উদ্দিন পত্রিকায় ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। কিন্তু বহিষ্কার আদেশ পাওয়ার পর তিনি অনেকটা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২০মার্চ থেকে পূর্ণ উদ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। সেই সাথে তাঁর ভক্ত-অনুরক্ত সম্মানিত সর্বস্তরের ফটিকছড়িবাসীকে তার কাপ-পিরিচ মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানান। সব মিলিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম.তৌহিদুল আলম বাবু অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে সচেতনমহলের অভিমত। তবে নির্বাচনে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে অনেকের ধারণা।
