শুধু উপজেলা নির্বাচন নয়। যে কোনো নির্বাচনের সুষ্ঠুতা শুধুই নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রশাসনের ওপর; সর্বোপরি নির্বাচন মণ্ডলীর সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সরকারকে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে।
মো. হানিফ মিয়া
রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি, ঢাকা
চতুর্থ ধাপের উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন শেষ হয়েছে। এবারের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বেশি উপজেলায় বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত সহিংসতা নিয়ে ব্যস্ত। ফলে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়ায়। এটা তারা ঠিক করেনি। গণতন্ত্রের মূল বিষয়টিকে দেখা দরকার তাদের।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
পূর্ব ইব্রাহিমপুর, শেওড়াপাড়া, ঢাকা
বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চতুর্থ ধাপ উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ৯১টি উপজেলার পাঁচ হাজার আট শ’ বিরাশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সহিংসতার কারণে ৩২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।
এমকে আকন্দ
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি,
টাইমস্ ২৪ ডট নেট, মতিঝিল, ঢাকা
নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন অভিযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফেনীর সোনাগাজী, খুলনার তেরখাদা, মনপুরা, মঠবাড়িয়া, ঝালকাঠির সদর, পিরোজপুর ও নলছিটিসহ বেশ কয়েকটি স্থান। আমরা এমনটি কখনো আশা করি না। জাতীয় স্বার্থেই যে কোনো নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।
কেয়া আক্তার
স্টাফ রিপোর্টার
টাইমস ২৪ ডট নেট,
দক্ষিণখান, মোল্লারটেক, ঢাকা
ইতিমধ্যে চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচন শেষ হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন হয়নি এটা সত্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের যাত্রা শুরু হবার পর এবারই সবচেয়ে বেশি অনিয়মের মধ্যে ভোট গ্রহণ হয়েছে। যদি তাই হয় তাহলে সাধারণ মানুষের শান্তি আসবে কীভাবে?
মো. ইফতেখার হোসাইন,
হাইমচর, ৬নং চর ভৈরবী ইউনিয়ন
আমাদের দেশে অনেকগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি নির্বাচনই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নির্বাচনকালীন অনেক রকম ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও নানা রকম সহিংসতা লক্ষণীয়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা পরিহার করা দরকার।
জাহাঙ্গীর হোসাইন
পীরেরবাগ, ঢাকা
যাঁরা গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই জাতীয় ও স্থানীয় নির্বিশেষে সব নির্বাচনকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত বলে মনে করেন; আমিও তাঁদের সাথে একমত হয়ে যোগ করবো যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁদের জন্য এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব বটে। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ রাজনীতিবিদের লোভ লালসা আর যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রবণতা রাজনৈতিক অঙ্গনকে দিনকে দিন অপবিত্র করে চলেছে। উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপ মোটামুটি কিছুটা হলেও শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। তৃতীয় দফা থেকেই শুরু হয়ে গেলো অসত্ রাজনীতির ভেলকিবাজি। হিন্দিতে একটি কথা আছে, প্রাণ যায় এ, র বচন না যায়ে— অর্থাত্ প্রাণ গেলেও ওয়াদা যেন ভঙ্গ না হয়। কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদদের লোভ-লালসা আর প্রতিহিংসার হিংস্রতা দেখে বলতে হয়— প্রাণ যায়, পুরসিমা যায় এ অর্থাত্ জনগণের জান যায় যাক কিন্তু ক্ষমতার চেয়ারখানা আমারই থাক।
মো. লুত্ফুর রহমান
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
চলমান উপজেলা নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্থার নির্লজ্জ রূপের স্বরূপ উন্মোচন করেছে। সকল নির্বাচন বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার জনদাবি হলেও ক্ষমতার দম্ভে সরকারি দল অন্ধের মতো আচরণ করছে। যেমন কর্ম তেমন ফল প্রবাদটি সত্য হলে অবশ্যই কৃতকর্মের জন্য বর্তমান সরকারি জোটকেই এর মাশুল গুনতে হবে।
মো. ফখরুল ইসলাম পিটু
সেনবাগ, নোয়াখালী
উপজেলা নির্বাচন প্রথম দিক দিয়ে ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু যখন সরকারি দল বুঝতে পেরেছে জনগণ আমাদেরকে ভোট দিচ্ছে না, অবৈধভাবে সরকারি দলের লোক ভোট দেয়ার চেষ্টা করলে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর জন্য দায়ী সরকার। জনগণ থেকে এখন বর্তমান সরকার অনেক দূরে সরে গেছে। ঢাকা সিটি নির্বাচন দিলে তা আরেকটু প্রকাশ পাবে। বর্তমান সরকারের উচিত জনগণের সমস্যা সমাধান করা এবং জনগণের কাছে যাওয়া। শক্তি নিয়ে কেউ বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। তাই সাধু সাবধান।
সৈয়দ হায়দার আলী
সভাপতি, মহাখালী, যুবকল্যাণ
সমিতি, মহাখালী
নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ করার সমস্ত দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আর সেজন্য চাই একটি দক্ষ, জ্ঞানী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় এই যে, আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশন বেশিরভাগই থাকে অনিরপেক্ষ এবং ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহ। ক্ষমতাসীন দল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে, ফলে নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাশক্তির অভাবে হোক কিংবা সরকারের প্রতি আনুগত্যের কারণেই হোক তারা নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়। পিছনের কোনো কথা নাই বা বললাম, চলমান উপজেলা নির্বাচনের কথা-ই যদি বলি, প্রথম দিকে নির্বাচনে বেশিরভাগ আসনে বিজয়ী হয়েছে বিরোধী দলীয় প্রার্থী এবং সহিংস ঘটনা কম ঘটেছে কিন্তু পরবর্তী ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো সরকারি দল মরিয়া হয়ে বেশিরভাগ বিজয়-ই ছিনিয়ে নিয়েছে। কেন্দ্র দখল, জালভোট এগুলো দেশবাসী প্রত্যক্ষভাবে টিভির পর্দায় দেখেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনসহ সরকারি দলের লোকরা সাক্ষাত্কারে অবলীলাক্রমে বলে যাচ্ছে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। অথচ আমরা সাধারণ জনগণ টিভির পর্দায় দেখি একদৃশ্য, নির্বাচন কমিশন থেকে শুনি ভিন্ন দৃশ্যর কথা। কোনো দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্বাচন একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও আমাদের দেশে নির্বাচনগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয় না, ফলে অনেক আসনেই যোগ্য প্রার্থী বিজয়ী না হয়ে জোর যার মুল্লুক তার-এর মত ঘটনা ঘটে। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এটা একটি ক্ষতিকর দিক। তাই যে কোনো মূল্যে নির্বাচনকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।
ডা. মর্জিনা আক্তার
বারিধারা পাইলস কিউর সেন্টার
গুলশান, ঢাকা
গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই জাতীয় ও স্থানীয় নির্বিশেষে সব নির্বাচনকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার সাথে দেশপ্রেমিক ব্যক্তি বা দলের দ্বিমত থাকার কথা নয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গোপন মতামতের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন বা নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়। রাষ্ট্র ক্ষমতার পট পরিবর্তনের উত্কৃষ্ট পন্থাগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার হলো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। বিশ্বব্যাপী এই পদ্ধতিই সর্বজন স্বীকৃত। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সে ধরনের নির্বাচন আমাদের দেশে সোনার হরিণের সাথে তুলনীয়। শাসক দলের ক্ষমতার জন্য নির্লজ্জ লালসার কারণেই আমাদের দেশে মাঝে মাঝে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলে অভিজ্ঞ মহল ধারণা পোষণ করেন। মূলত একটি দেশের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রথম ও অন্যতম প্রধান শর্তই হলো সেই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচার বিভাগের স্বাভাবিক গতির নিশ্চয়তা বিধান করা। দেশি-বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগকারীদের অবাধ চারণ ভূমিই হলো একমাত্র সুষুম নির্বাচনের মাধ্যমে স্থিতিশীল রাষ্ট্র কাঠামো। এমনকি বৈদেশিক সাহায্য এবং সহযোগিতাও অস্থিতিশীল কিংবা সামরিক কিংবা অনির্বাচিত রাষ্ট্র কাঠামোতে সুদূরপরাহত। সভ্য দেশগুলোতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিক দেশের মূলভিত্তি। ফলে ঐ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনগুলোকে আমাদের সংবিধানে নির্দলীয়রূপ দিয়ে সার্বজনীন করা হয়েছে। তাই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠানকালীন সময়ে দেশব্যাপী সাজ সাজ রব পড়ে যায় এবং সর্বস্তরের গণমানুষের অংশগ্রহণ থাকায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সাফল্যের নব নব পালক যুক্ত হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী এবং সংবিধিবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ক্ষীণ ও ম্রিয়মাণ গণসম্পৃক্ততা, ক্ষেত্রবিশেষে জনবিচ্ছিন্নতা এবং দেউলিয়াত্ব ঢাকার জন্য উক্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনগুলোর দিকে ওতপেতে বসে থাকে এবং দলীয় প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে তত্পর হয়ে পড়ে। অপরদিকে সেই ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হয়; তাহলে তারা সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের যে কোনো প্রকার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের ঐ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনগুলোতে সুবিধাজনক পদে দাঁড় করিয়ে ফলাফল নিজেদের করায়ত্তে আনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। তাতে সফল না হলে বিভিন্ন ফন্দি-ফিকির (মিডিয়া ক্যু, সূক্ষ্মকারচুপি, স্থূলকারচুপি) করে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে এনে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় মসনদ কণ্টকমুক্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত থাকে। পৃথিবীর অপরাপর দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবিধান ও বিধিবদ্ধ আইনের সাথে এধরনের হঠকারিতা ও শঠতার অনুশীলন কস্মিনকালেও করা হয় না বলে ভারতসহ অন্যান্য দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে আইনসিদ্ধ উপায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বাস্তবতার নিরিখে আমাদের দেশেও তাই হওয়া উচিত বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন। কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র যদি সংবিধান ও বিধিবদ্ধ আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার করে তাহলে জাতীয় জীবনে ঘন অন্ধকার নেমে আসতে বাধ্য।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
৫ বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা ১২০৩
একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন একটি উত্সব। তাই ‘নির্বাচনকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে’ এটাই সবার সব সময়ের প্রত্যাশা। কিন্তু কেন যেন সব গোলমাল বেধে যাচ্ছে এবং কিছুই আর বিতর্কের বাইরে থাকছে না। ভাবলে খুবই অবাক লাগে।
তামান্না রিফাত্ আরা
মগবাজার, ঢাকা
গণতন্ত্রকে প্রত্যেক নাগরিকের জীবনে বাস্তবায়ন করে এবং অপরাজনৈতিক সংস্কৃতির বলয় থেকে বের হয়ে এসে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ , রাষ্ট্র, গণমানুষের সকল প্রকার কাজ বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা সম্ভব। বাংলাদেশের রাজনীতি এখন দু’টি ভাগে বিভক্ত। এ বিভক্তির কারণে জনগণ দু’ভাগে বিভক্ত। এরা অনেকেই দলের স্বার্থকে বড় করে ভাবে। তখন তারা দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা ভাবে না। দলের স্বার্থ রক্ষার প্রতিযোগিতার সময় ভুলে যায় গণতন্ত্র, জননিরাপত্তার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা। কাজ করে শুধু দলের স্বার্থে। দেশের সাধারণ মানুুুুষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে না। এরা শান্তি চায়, নির্ভয় জীবন চায়। ১০ম জতীয় নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল বর্জন করেছে।
যে সরকারকে তারা অবৈধ বলছে উপজেলা নির্বাচন সেই সরকারের অধীনেই করছে। রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি থেকে সরে এসে প্রচলিত আইনের অধীনে দেশের সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে— এটাই জাতির প্রত্যাশা। নির্বাচনে ভোটার তালিকা নয়, ভোটার আইডির মাধ্যমে ভোটাররা ভোট দেবে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীরা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করবে। অন্যান্য নির্বাচনী বিধি বিধান যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সকল প্রকার নির্বাচনকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।
ডা. এস এম মোশারফ হোসেন
আলমপুর, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ ১৫৪৪
‘নির্বাচনকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে’ কথাটা যতো সহজ দিনে দিনে মনে হয় তা ততোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বোকাকে ধোঁকা দেওয়া যায় একবার কিন্তু সচেতন মানুষ রাজনীতির ধোঁকায় ধরা খায় বারবার... আলাভোলা জনগণ স্মৃতিকাতর নয় বরং তারা ক্ষমাশীল। আগে সবাই বলতো দেশের অবস্থা ভালো নয় এখন নিজেই বুঝি আমি ভালো নেই সঙ্গে আমার অভাগা দেশটাও কষ্টে আছে। চলমান রাজনীতি, স্থানীয় নির্বাচন সবই যেন এখন আর সহজ-সরল হিসেবে মিলছে না। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সূচিত আস্থার সংকট নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ক্রমশ জটিল করে তুলছে। একটি অশুভ শক্তি এর পেছনে কলকাঠি নাড়াচ্ছে জেনেও কেন যেন বুঝদারগণ নির্বিকার। কী আর করা, সবই সহ্য করা এবং ভাগ্যকে দোষারোপ ও মেনে নেওয়া।
অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া গাজীপুর ১৭৩০
জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থানীয় নির্বিশেষে সকল নির্বাচনী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। চতুর্থ দফা নির্বাচন সহিংসতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ দেশে প্রতিটি নির্বাচনে সহিংসতার কারণে নির্যাতিত জনসাধারণ নিপীড়িত হয়ে থাকে। যা কখনো হওয়াটা উচিত নয়। হিংসাত্মক মনোভাব থেকেই বির্তকের সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের একের প্রতি অন্যের বিদ্বেষ মনোভাব থেকেই এই বির্তকের সৃষ্টি হচ্ছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব। তাই নির্বাচন নিয়ে এতো বিতর্ক। নির্বাচন হচ্ছে জনগণের গণতন্ত্রের অধিকার। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা— এটাই সংবিধানে উল্লেখ আছে।
সুতরাং নির্বাচনকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে পরিচালনার ভার নির্বাচন কমিশনের ওপর বহাল থাকে। বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনারকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। তাহলে গণতন্ত্রের মূল বিষয়টি আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে।
আশা এলিজাবেত গোমেজ
প্রধানশিক্ষিকা
সেন্টমার্টিন কিন্ডারগার্টেন
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০
স্থানীয় এবং জাতীয় নির্বাচন এক নয়। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রভাবে হয়ে থাকে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রভাব বেশি থাকায় স্থানীয় নির্বাচনেও একই প্রভাব বিস্তার লাভ করে। আমাদের দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়ে আসছে। সুতরাং রাজনৈতিক দলগুলোকেই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে রাজনীতিবিদগণকে স্বকীয় ভূমিকা পালন করতে হবে। নইলে কোনো নির্বাচনই বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা যাবে না। সেক্ষেত্রে সরকারকেও উদার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (হিরো)
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচন শেষ হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা দিন দিন বিতর্কের দিকে যাচ্ছে। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হলে সকল রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে।
নার্গিস
নতুন পল্টন লাইন
আজিমপুর, ঢাকা
চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন থেকে প্রমাণিত হয় বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে।
মো. ইলিয়াস আলম সুমন
হারানিয়া, সন্দ্বীপ
চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচন সুসম্পন্ন হয়েছে। অথচ বিগত বিএনপি-জামায়াত-এর সময় সহিংসতা ও সন্ত্রাস অনেক বেশি ছিল। তবে সব নির্বাচনেই এই সহিংসতাকে রুখতে হবে, না হলে দেশে অপরাধ বেড়ে যাবে।
আবদুল মালেক মিয়া
মিরপুর-২, ঢাকা
আমাদের দেশে সব ধরনের নির্বাচনেই সহিংস ঘটনা ঘটে থাকেই। এটা নতুন কিছু নয়। তবে এবার চতুর্থ দফা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে এটাকে মেনে নেয়া যায় না। গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা দরকার। নতুবা সব নির্বাচনই বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে যাবে।
মো. মনির হোসেন
মনির বুক এন্ড সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র
মিরপুর ১, ঢাকা
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চতুর্থ দফা নির্বাচনে কিছু জটিলতা বিদ্যমান ছিল। ইসির নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আশা করে, যে কোনো নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ। দেশের স্বার্থে ও জনগণের স্বার্থে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে।
আকাশ আহমেদ
জারসা
কুমারখালী, কুষ্টিয়া
আমাদের দেশে সাধারণ নির্বাচন বা স্থানীয় সরকারের যে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে।
মাসুম আহম্মেদ
যাত্রাবাড়ী
বাংলাদেশে সব প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক লেজুড়ভিত্তি করার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। লেজুড়ভিত্তি করা সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন। সরকার যদি সত্যিকার অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বা কারচুপিবিহীন নির্বাচন চায় তাহলেই কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। এ ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে—
১. নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, মেধা, নিরপেক্ষতা, পেশাগত দক্ষতা ও দৃঢ় বৈশিষ্ট্য হবে।
২. জাতীয় নির্বাচনকালীন সময় জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে।
৩. নির্বাচন কমিশন চাওয়ামাত্র সেনাবাহিনী বিজেবি নিয়োগ করতে বাধ্য থাকবে। সেনাবাহিনীকে নির্বাচনকালীন সময়ে গ্রেফতার ও বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে।
৪. নির্বাচনকালীন সময়ে সব উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ডে মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী জড়িত থাকতে পারবেন না।
৫. নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা যাবে না।
৬. জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের সময় ইউএনও, ওসি, এসটি, এবং ডিসিদের অবশ্যই বদলি করতে হবে।
৭. জাতীয় নির্বাচনের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে হবে।
গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশ ও জনগণের স্বার্থে পদক্ষেপগুলো নিলে অবাধ, সুষ্ঠু ও বির্তকহীন অবশ্যই সম্ভব।
শাহ আলম খান
সরল, বাঁশখালী
চট্টগ্রাম
দেশের মানুষ সবসময় আশা করে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূলভিত্তি হলো সুষ্ঠু, অবাধ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন। আমরা আশা করবো এখনই নির্বাচন কমিশন সজাগ হবেন এবং আগামী সব নির্বাচন হবে সহিংসতামুক্ত।
বজলুল করিম
আজিমপুর, ঢাকা
ইতিমধ্যে চতুর্থ দফা নির্বাচন শেষ হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে সহিংসতা আর অনিয়মের কারণে ২৫টি উপজেলার নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা। যার কারণে গত সোমবার ঐ সমস্ত উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল হয়েছে। তবে আমরা আর সহিংসতা চাই না। বিরোধী দল অবশ্যই নমনীয় হবে। সরকার দল নির্বাচনকে আরও গুরুত্ব দেবে এটাই প্রত্যাশা।
স্বপন
কবির হাট
নোয়াখালী
গত রবিবার ৪০ জেলায় ৯১ উপজেলার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সহিংসতা, ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিনব চিত্র দেখা গেছে নির্বাচনে। যে কোনো নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ। সাধারণ মানুষ তার পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দেবে এটাই প্রত্যাশা। কিন্তু বর্তমানে যা হচ্ছে তাকে নির্বাচন বলবো কীভাবে?
মো. সেলিম
মহাখালী, ঢাকা
প্রথম ধাপের নির্বাচনে উত্সাহ-উদ্দীপনা আর উত্সবের আমেজ থাকলেও শেষদিকে এ নির্বাচন মারমুখী এবং সহিংসতার রূপ নেয়। অথচ এটা কারোরই প্রত্যাশা ছিল না। দেশে নির্বাচন চাই আমরা নিরপেক্ষ ও বিতর্কের বাইরে।
শাহীন
ডিওএইচএস
মহাখালী, ঢাকা
একে একে চার দফায় উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হলো। উপজেলা নির্বাচন দলীয় ব্যানারে অনুুষ্ঠিত হয় না। এরপরেও দলের অলিখিত অদৃশ্য একটি বড় প্রভাব কাজ করে। নির্বাচন হচ্ছে আমজনতার একটা সর্বশেষ ভোট-অস্ত্র। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়ে তার এলাকায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে সেবা পেতে চায়। তাই আমরা আমজনতা নির্বাচন সেটি স্থানীয় পর্যায় হোক কিংবা জাতীয় পর্যায়ের হোক, যেটাই হোক না কেন সে নির্বাচন সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত দেখতে চাই। কোনো রকম বল প্রয়োগ অথবা ভোট কারচুপি কিংবা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মত কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা দেখতে চাই না। একটা সরকারকে তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হলে অবশ্যই নির্বাচনকে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত রেখে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। প্রথম উপজেলা নির্বাচনের পর তৃতীয়-চতুর্থ ধাপে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো তাতে সহিংসতা এবং ভোট কারচুপি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পত্রিকা ও টিভিতে জনগণ দেখেছে। এ অবস্থা থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে। তা না হলে গণতন্ত্র এক সময়ে মুখ থুবড়ে পড়বে। যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
ওয়াহিদ মুরাদ
নেসারাবাদ, পিরোজপুর
চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে দেশের মানুষ যে ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করেছিল সে আশঙ্কাকে ছাড়িয়ে গেছে। কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, ভয় দেখিয়ে মানুষকে ভোটদানে বাধ্য করা, পোলিং এজেন্টদের মারধরসহ, এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো অনেক ধরনের কাজ হয়েছে। এটা নিশ্চয়ই গণতন্ত্রের স্বার্থে নয়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই সহনশীল হতে হবে ও সরকারের এ ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া দরকার।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ
ফেনী
চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ভোট গ্রহণে সহিংসতার জন্য এপর্যন্ত ৩২টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। তাহলে কোথায় হলো সঠিক নির্বাচন ও স্থিতিশীলতা।
মাহমুদ
রামপুরা, ঢাকা
নির্বাচনকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে এটা একেবারেই সত্য। তা না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়। সকল ক্ষেত্রেই সকল নির্বাচনই হতে হবে কলুষমুক্ত ও সহিংসতামুক্ত। তা হলেই দেশ উন্নতির পথে যাবে।
আনোয়ার পাশা
উত্তরা, ঢাকা
উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সরকার ও রাজনৈতিক দলসমূহকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে মনোনীত প্রার্থীকে মেনে নেয়নি তৃণমূলের নেতারা। অনেক উপজেলায় তৃণমূল নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ দাঁড় করানোর ঝুঁকি না নিয়ে নেপথ্যে সমর্থন করেছেন ভিন্নদলের প্রার্থীরা। তাই বলতে চাই, এভাবে যদি বিতর্ক হয় তাহলে তো নির্বাচন আর নিরপেক্ষ হলো না। বিতর্ক থাকাটা ঠিক নয়।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
কবিরহাট, নোয়াখালী
দিন যাচ্ছে আর স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনকে নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বার্থে ও রাজনীতিকে স্থিতিশীলতার জন্য সব নির্বাচনকে অবশ্যই বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত বলে আমি মনে করছি।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
চতুর্থ দফা নির্বাচনকে নিয়েই হৈচৈ বলা হলে তা ঠিক হবে না। দেশের সকল নির্বাচনের ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য নির্বাচন কমিশনারকে আরো শক্তিশালী হতে হবে।
বিপ্লব আলম
উর্দুরোড
লালবাগ, ঢাকা
শুধু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে নিয়ে বিতর্ক রাখলেই চলবে না। দেশের যে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু, শান্তি ও নিরপেক্ষতার জন্য নির্বাচন হতে হবে বিতর্কের ঊর্ধ্বে। এ ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সকলেরই স্বচ্ছতা প্রকাশ করতে হবে।
সোহাগ
ভাগলপুর লেন
নবাবগঞ্জ, ঢাকা
গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই দেশের যে কোনো নির্বাচনই বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা একান্ত দরকার। নতুবা গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র ঠিক রাখা যায় না। তাই আমরা আশা করছি নির্বাচনকে ও নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ থাকতে হবে।
ফারুক আলম
মালিবাগ, ঢাকা
নির্বাচনকে সবার উর্ধ্বে রাখতে হবে এটাই একমাত্র কথা হবে। স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই জাতীয়সহ আগামী যে কোনো নির্বাচন সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
যে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিময় ও নিরপেক্ষ হবে এটাই সাধারণ মানুষ ও দেশবাসীর প্রত্যাশা। ইতিমধ্যে দেশে কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে অনেক বিতর্ক উঠে। এটা গণতন্ত্রের জন্য শুভলক্ষণ নয়। আমরা চাই বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে নির্বাচন হবে গণতান্ত্রিক পরিবেশে।
আইরিন সুলতানা (মন্জু)
ধুপপুর,
সাইজ পাড়া, চট্টগ্রাম
আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পরে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন একের পর এক জাতীয়, স্থানীয়-সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে আসছে। এতে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হচ্ছেন। এখন চলছে ও উপজেলা নির্বাচন। চতুর্থ ধাপের নির্বাচন আগামী ৩১শে মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। শেষ পর্যায়ের এই স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে । পরাজিত শক্তির কথায় আর জ্বালাও-পোড়াও-হরতাল-অবরোধ করা ঠিক হবে না। বিতর্ক হতে পারে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না। কোথাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এর চাইতে বিএনপি- জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে সন্ত্রাস আরো করেছিল। নিজেরা দোষ করে এখন দোষ চাপাচ্ছে সরকারের ওপর। সাধারণ মানুষকে লাঠিপেটা করছে। সব নির্বাচনেই সন্ত্রাসীদের রুখতে হবে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য। আগামী নির্বাচনগুলো সহিংসতামুক্ত করতে সন্ত্রাসীদের দমন করা অপরিহার্য।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচন শেষ হয়েছে। যে কোনো মূল্যে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কোনোরকম ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা ঠিক নয়। তাহলেই গণতন্ত্রের সঠিক ব্যবহার করা হবে।
রিফাত
ঝিনাইদহ
ইতোমধ্যে চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় উপজেলা নির্বাচনের প্রথম থেকে চতুর্থ দফা পর্যন্ত নানা অনিয়ম ও হানাহানি যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, আমরা এটি কখনো আশা করি না। তবে আমরা মনে করছি পঞ্চমপর্বের নির্বাচনটি অন্যরকম হবে। গণতন্ত্রের ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই জাতীয় ও স্থানীয় নির্বিশেষে সব নির্বাচনকে অবশ্যই সবার ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।
নীলুফা আক্তার
টোলার বাগ, মিরপুর, ঢাকা
বর্তমান বাংলাদেশে নির্বাচনব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে কেউই মসনদের বাইরে থাকতে চান না। নির্বাচনব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার কারণে প্রার্থিগণ সহিংস হয়ে উঠছেন। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেইসাথে নির্বাচন কমিশনার যেন ব্যবসা খুলে বসেছেন। তার কারণ হচ্ছে একজন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তাকে প্রথমেই সিডি ক্রয় বাবদ মোট টাকা গুনতে হয়। এ কারণে অনেক সময় ভালো, সত্, যোগ্য প্রার্থিগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। গোটা নির্বাচনীব্যবস্থা সরকারি খরচে করলে অনেক নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে।
মো. আবদুল মজিদ সর্দার
নির্বাহী পরিচালক,
ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সোসাইটি,
বাংগাল পাড়া,
শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ
