ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২১:২২
অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে অর্থনীতি একটি জাতির মেরুদণ্ড। কোন মানুষের যদি মেরুদণ্ড না থাকে সে যেমন দাঁড়াতে পারে না তেমনি অর্থনীতি ভাল না থাকলে সে দেশ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আর্থিক সচ্ছলতা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে দেশের সকল জনগণকে হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ মিলে একসাথে কাজ করতে হবে। কে কোন দলের রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী তা বড় কোন বিষয় নয় বরং সর্বাত্মক অংশগ্রহণ করাই হলো মুখ্য বিষয়। গত কয়েক মাস আগে দেশে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল তার ফলে দেশ অনেক অর্থনীতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণ পেতে হলে দেশের প্রধান দলগুলোকে সকল প্রকার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। দেশে বর্তমানে রেমিটেন্স থেকে বড় একটা অংশ আয় হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা একটি দেশকে অনেক পিছিয়ে নিয়ে যায় যা অকল্পনীয়। তাই সকল দলের নেতাকে বলব, আসুন দেশকে ভালবাসি এবং দেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সচেষ্ট হই। আবদুর রহমান নাঈম ইংরেজি বিভাগ, অনার্স ৩য় বর্ষ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা। অর্থনীতির ধারা বর্তমানের মত সচল থাকলে ২০২১ সালের আগে মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ অর্থনীতি একটি দেশের প্রধান উন্নয়নের চাবিকাঠি। এই অর্থনীতিকে সচল রাখা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ দেশের মঙ্গল ও উন্নয়ন চাইলে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে হবে। কারণ অর্থনীতির উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। দেশের উন্নয়নের বিঘ্ন ঘটে এমন কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। গতবছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতায় যেমন অনেক নিরীহ লোক প্রাণ হারিয়েছে, তেমনি অর্থনীতির চরম বারোটা বেজেছে। ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে অনেকটা সময় চলে গেছে। আজকে দেশে হরতাল অবরোধ না থাকার কারণে অর্থনীতি অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই ঘুরে দাঁড়ানো অর্থনীতিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তাহলে দেশের প্রধান সমস্যা হলো বেকারত্ব সমস্যা সমাধান করতে পারবো। দেশ আজ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্যসীমা যেখানে ২০১২ সালে ৪০ শতাংশ ছিল তা আজ ২৬ শতাংশ নেমে এসেছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয় যেখানে ২০০৮ সালে ৬৩০ ডলার ছিল সেটা ২০১৪ সালে ১০৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। আজকে তরুণ প্রজন্মের একজন ছাত্র হিসাবে বলতে পারি এভাবে যদি আমাদের অর্থনীতি সামনের দিকে এগিয়ে যায় তাহলে ২০২১ সালের আগে বাংলাদেশ একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসাবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। কারণ আমরা স্বপ্ন দেখি ডিজিটাল বাংলাদেশের। যেখানে থাকবে না ক্ষুধা, দারিদ্র্য, থাকবে না হিংসা, হানাহানি। তাহলে ২০২১ সালের আগে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে পারবো। মো. ইলিয়াজ আলম সুমন ফের সচল হচ্ছে অর্থনীতির চাকা শিক্ষার্থী, বিএ সাউথ সন্দ্বীপ কলেজ, সন্দ্বীপ। নানা প্রতিকূলতা আর বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে আবারো সচল হতে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা। ২০১৩ সাল জুড়েই আমাদের অর্থনীতিতে ছিল একটা অন্ধকারের ছাপ। তবে বছরের শেষের দিকে তাজরিন ফ্যাশনে আগুন, রানা প্লাজা ধস, হরতাল-অবরোধের তীব্র চাপে যেন অর্থনীতিতে নেমে এসেছিল এক অচল অবস্থা। আর রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে যাওয়ায় দু-একটা দিন ছাড়া সারা সপ্তাহ জুড়েই ছিল অবরোধ। ফলে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাংলাদেশের কৃষি-অর্থনীতি। আমাদের দেশ কৃষি প্রধান অর্থনীতি হওয়ায় এর প্রভাব ছিল আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। অবশেষে ২০১৪ সালের শুরুর দিকে রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় আবারো সচল হতে শুরু করে অর্থনীতির চাকা। মানুষের স্বাধীনতার একটি বড় উপাদান অর্থনৈতিক মুক্তি। আর এই অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য দরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ব্যবস্থা, স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন। মো. জাকির হোসেন মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ, লেভেল-১ শাহজালাল হল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থনীতির চাকা সচল ও বেগবান করতে প্রয়োজন স্থিতিশীল রাজনীতি রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি সহিংস কর্মকাণ্ডের ফলে প্রায় ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছিল দেশের অর্থনীতি। পথে বসে যাবার উপক্রম হয়ে পড়েছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এমনকি হরতাল অবরোধের জন্য সারাদেশ অচল হয়ে পড়েছিল। অনেকে মনে করেন বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরবর্তী ২০১৩ সালের শেষের দিকে এবং ২০১৪ সালের প্রথমদিকে অতীতের সকল ক্ষতির রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রত্যেকের মনে একটাই প্রশ্ন বারবার উঁকি দিচ্ছিল যে, এর শেষ কোথায়? এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর যথেষ্ট দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমের ঘাটতি রয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বড় দুই রাজনৈতিক দলের সহিংসতায় বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা প্রায় অচল হয়ে গিয়েছিল, তবে বর্তমান রাজনৈতিক সহিংসতা না থাকায় দেশের অর্থনীতির চাকা আবার সচল হতে শুরু করেছে। কিন্তু এ স্থিতিশীল পরিবেশ যে অদূর ভবিষ্যতে থাকবে এর নিশ্চয়তা কে দিবে? বিরোধী দল কর্মসূচি দিলে দেশ আবার অচল হয়ে পড়বে। তাই আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংসতার আভাস পাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিরোধী দলকে অনুরোধ করবো যেন এমন কোন কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড না করে যার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির মুখ আবারও থুবড়ে পড়বে। এ কে এম ফরহাদউদ্দিন বিটিআইএস (অনার্স) চতুর্থ বর্ষ, সপ্তম সেমিস্টার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন