নীড় ছোট ক্ষতি নেই
আকাশ তো বড়
নীল আকাশে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্নই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। বাস করি ছোট ফ্ল্যাট অথবা বড় এ্যাপার্টমেন্টে, হরেদরে একই তার অবস্থা। এখানে জানলা দিয়ে ধুুধু হাওয়া নেই, বাড়ির পাশে সবুজ আঙ্গিনা নেই, গাছের ডালে বসে থাকা পাখিদের গুঞ্জন নেই। সবমিলে কেমন যেন দমবন্ধ পরিবেশ, মনটাও হয়ে আসে ছোট, বিস্তার নেই যেখানে সেখানে হূদয়ের উদারতাও আস্তে আস্তে বিলীন হতে থাকে। অথচ আমরা সৃষ্টির সেরা, প্রভু তাঁর সবটুকু ভালোবাসা ও গুণাবলির পরশে সৃষ্টি করেছেন আমাদের। দিয়েছেন অমিত সম্ভাবনা। আমরা সেই নবীরই উম্মত যিনি জন্মেছিলেন শুধুমাত্র সেবা করার জন্য। যিনি সিরাজুম মুনিরা ‘উজ্জ্বল প্রদীপ’ যার আলো পথের অন্ধকারকে দূর করে নেয়ার জন্য চিরন্তন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তুমি যদি জানো আগামীকাল হবে রোজ কিয়ামত তবু তুমি আজ একটি বৃক্ষ রোপণ করবে-আল হাদিস। কুরআন শরীফে আল্লাহ্ বলেছেন- আমি তোমাদের জন্য বৃষ্টির পানি দিয়েছি, দিয়েছি নানারকম শস্য ও ফল, জায়তুন তীন ইনাব-জলপাই ডুমুর আঙ্গুরসহ নানা রকম ফল।
চলুন ফিরে যাই গ্রাম-বাংলায়, মাঠের পর মাঠ, ক্ষেতের পর ক্ষেত সোনালি ধান তার পাশে অফুরন্ত বেগুন, লাউ, শসা, কুমড়া, ঝিঙা, বরবটিসহ পালং, পুঁই, কলমি, ডাঁটাসহ নানা রকম শাকের মহোত্সব। এবার ফলন হয়েছে ভালো, ফর্মালিনমুক্ত এসব সবজি খেতে সুস্বাদু, অসুস্থ হওয়ার ভয় নেই। গৃহবধূরা নানা রকম সমিতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে রোজগারের পথ খুঁজে পেয়েছেন। কেউ সেলাই মেশিন কিনছেন, কেউবা হাঁস মুরগি পালন, কেউবা কাঁথা সেলাই, বিছানার চাদরে ফুল তোলা, শিল্পকর্মে নিজেকে ব্যস্ত রেখে মন ভালো রাখছেন, হাতে দু’টো পয়সা পেয়ে বাড়ির লোকও খুশি।
গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে একঝাঁক শিশুদের আনাগোনা। হাতে নতুন বই ও স্লেট-পেন্সিল, কাঁধে ঝোলানো পানির বোতল ওরা এখন আর গৃহকর্মী হতে চায় না, তারা বিনামূল্যে লেখাপড়া শিখে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পথে এগুতে চায়। আমাদের দেশের জনগণকে বাহুল্য মনে না করে জনসম্পদ বিবেচনা করতে হবে, তার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা। যে যে কাজের যোগ্য তার জন্য তারই ব্যবস্থা প্রয়োজন। যে জেলেভাই মাছ ধরেন তার শ্রম যেন বিফলে না যায়, যিনি লাউ-কুমড়ো বাধ্য হয়ে পানির দরে বিক্রি করছেন তার শ্রমলব্ধ ফসল শহরে রপ্তানি করার যোগ্য ব্যবস্থা নিতে হবে। যখন শুনি যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধায় মাত্র একটাকা দরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে, চার টাকায় একটি টাটকা কচি লাউ, তখন খুশি হওয়া দূরের কথা চোখে নামে পানি। আমার বিশ্বাস এদিকে নজর দেবেন নগরপিতারা। প্রতিটি পৌরসভায় দিনমজুর ও শ্রমিকরা যেন পরামর্শ নিতে পারেন তাদের প্রাপ্য রোজগার পাওয়ার। খুব কঠিন কাজ নয়, সকলে মিলে ভেবে-চিন্তে একটা উপায় নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে।
তিনদিন আগে স্বাধীনতা দিবসে তিন লাখ পতাকা নিয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি করেছে আমাদের নবীন প্রজন্ম। লালসবুজের পতাকায় ফুলের শোভা নিয়ে উচ্চারিত হয়েছে দেশপ্রেমের সংগীত। এটি আমাদের সম্পদ, আমাদের পাথেয়। যে দেশের জনগণ সবসময় দেশপ্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ, তাদের তো ভয়ের কিছু নেই। আমরা করবো জয়, আমরা করবো জয়, আমরা হলাম সোনার বাংলার সোনালি সেনাদল।
লেখক:শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক
[email protected]
