আমাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন নিভৃতচারী মানুষ

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৪, ২২:০১
আজ (৩০ মার্চ ২০১৪) আমার এক বন্ধুর ৭০তম জন্মদিবস। তিনি আমার ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক বন্ধুও। দেশের প্রগতিশীল রাজনীতি নির্মাণে তার একটা নিরলস ভূমিকা আছে। আমার চাইতে তিনি দশ বছরের ছোট। কিন্তু তার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকাটি আমাদের অনেকের চাইতে বড়। তাই তার জন্মদিনে তাকে প্রকাশ্যে সম্মান জানানো আমি প্রয়োজন মনে করি। তাতে দেশের প্রগতিশীল রাজনীতি ও সংস্কৃতির অতীত ও বর্তমানের একটা মূল্যায়নও হবে। মোনায়েম সরকার এই নামটির সঙ্গে আমার বহুদিনের পরিচয়। তিনি বাংলাদেশের ছাত্র ইউনিয়ন, কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপের রাজনীতিতে বহুদিন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর স্বদেশে ও বিদেশে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলায় তিনি সাহসী ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলার অন্যতম নেপথ্য নায়ক। নিজে বহু গ্রন্থের প্রণেতা এবং সম্পাদক। বর্তমানেও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চের মহাপরিচালক। তার লেখা ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা অর্ধশতের বেশি। বঙ্গবন্ধুর উপর গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা এবং সংস্কৃতি আন্দোলনে তার অবদানের জন্য ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মোনায়েম সরকার যখন সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে বসে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক উভয় ফ্রন্টে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে ব্যস্ত, তখন তার ভূমিকা সম্পর্কে শওকত ওসমান তার ‘উত্তরপর্ব মুজিব নগর’ গ্রন্থে লিখেছেন— ‘দেশাত্মবোধের সঙ্গে জীবন-এষণা এমনভাবেই মিলেছে যে, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর সে আর দেশে থাকতে পারেনি। এখানে (দেশের বাইরে) সে যেন সব রাজনৈতিক রিফিউজির অভিভাবক হয়ে বসেছিল। অভাবগ্রস্তদের জন্য টাকা পয়সা জোগাড় করা থেকে রাজনৈতিক প্রবাহ বজায় রাখার জন্য কতোভাবে না সে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছিলো’। (ডায়েরি, ১৭ জানুয়ারি ১৯৭৯)। মোনায়েম সরকার এই নামটির সঙ্গে আমি প্রথম ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হই বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে। তখন তিনি কলকাতায় এবং আমি লন্ডনে। আমরা তখন লন্ডনে বসে বাংলাদেশে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। মোনায়েম সরকার চেষ্টা করছেন কলকাতায় বসে। তখনও বাকশাল আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়নি। সিপিবি, ন্যাপ (মুজাফফর) ও আওয়ামী লীগ যুক্তভাবে কাজ করছেন। মোনায়েম সরকার তখনো বাকশালের সঙ্গে যুক্ত। আমি যুক্ত না হলেও বাকশালের সমর্থক। লন্ডন ও কলকাতা ভিত্তিক প্রতিরোধ আন্দোলনের মধ্যে তাই স্বাভাবিকভাবেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং কলকাতায় বসে যারা প্রতিরোধ আন্দোলনটি গড়ে তুলছেন, তাদের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে মোনায়েম সরকারের নামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হয়ে উঠি, এমন কি তার কাজকর্মের সঙ্গেও। মোনায়েম সরকার তখনো বাম রাজনীতিক হিসেবেই বেশি পরিচিত। বাকশালের সাথে যুক্ত থাকলেও তিনি কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপ-মুজাফফরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বেশি। আওয়ামী লীগে তিনি যোগ দেন ১৯৭৯ সালে-অর্থাত্ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর বহু বছর পর। কিন্তু আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার আগে তিনি একটি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। এই ভূমিকাটিই তার প্রতি আমাকে আকৃষ্ট করে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর বছর খানেকের মধ্যেই দু’টি প্রধান রাজনৈতিক দল সিপিবি ও ন্যাপে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। তারা ভাবতে থাকেন সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সমর্থন দিয়ে তারা তাকে তখনকার রুশ-ভারত শক্তি শিবিরে ধরে রাখতে পারবেন এবং জিয়াউর রহমান তাদের সমর্থন পেলে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতি অনুসরণ করবেন। এই বিশ্বাস থেকে সিপিবি জিয়াউর রহমানের তথাকথিত ‘খালকাটা বিপ্লবে’ সমর্থন দেয় এবং জিয়াউর রহমান নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হওয়ার জন্য তার কাছে দরখাস্ত করার যে নির্দেশ দেন, সেই নির্দেশ মেনে নিয়ে বাকশাল থেকে কার্যত বেরিয়ে গিয়ে ন্যাপ-মুজাফফর প্রথম আলাদা রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি লাভের দরখাস্ত করেন। এই সময় আমরা যারা বিদেশে বসে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনে জড়িত রয়েছি, আমাদের মধ্যে একটা সংশয় দেখা দেয় যে, ন্যাপ সামরিক সরকারের স্বীকৃতি নিয়ে বাকশাল থেকে ঘোষণা ছাড়াই বেরিয়ে যাওয়ায় এবং জিয়াউর রহমানের ‘খালকাটা বিপ্লবে’ সিপিবি সমর্থন দেওয়ায় আমাদের আন্দোলন ভেঙে যাবে কিনা! এই সময় কলকাতার এক সাংবাদিক পরেশ সাহা লন্ডনে আমাকে একটি চিঠি লেখেন। পরেশ সাহা কলকাতায় ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় সাংবাদিকতা করলেও তিনি ছিলেন বাংলাদেশের লোক। সাভারে বাড়ি এবং সুভাষ বসুর ফরোয়ার্ড ব্লক পার্টির একজন মাঝারি নেতা। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে সক্রিয় সমর্থন জুগিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমাদের প্রতিরোধ আন্দোলনেও সমর্থন জুগিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার উপরেও তিনি একটি বই লিখেছেন, মুজিব-ঘাতক কারা?” পরেশ সাহা এবং তার এক অনুসারী গোপাল সাহা বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দেশত্যাগী কাদের সিদ্দিকীর প্রতিরোধ সংগ্রামেও সমর্থন জুগিয়েছেন। পরে কাদের সিদ্দিকীর কার্যকলাপে বিরক্ত হয়ে তারা তার সংশ্রব ত্যাগ করেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালানোর জন্য আমরা যেসব পত্রিকা বের করি যেমন প্রতিরোধ, বাংলার ডাক, সানরাইজ ইত্যাদির সঙ্গেও পরেশ সাহা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। আমাদের এই প্রতিরোধ আন্দোলনে ঐক্য বজায় রাখা সম্পর্কে যখন সংশয় সন্দেহ দেখা দেয়, তখন পরেশ সাহা কলকাতা থেকে একটা চিঠি পাঠান আমাকে। তার সঙ্গে আমার এমনিতেই পত্র যোগাযোগ ছিলো। পরেশ সাহা লিখেছিলেন, “আপনাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। জিয়াউর রহমানকে সমর্থন দিতে গিয়ে সিপিবি ও ন্যাপের মোহভঙ্গ হয়েছে। জিয়াউর রহমান কমু্যুনিস্টদের ধরপাকড় শুরু করেছেন। তাছাড়া কলকাতায় এই দুই দলের যারা আছেন তারা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। কলকাতায় মোনায়েম সরকার বাম রাজনীতিকদের একজন। শুনেছি তিনি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলনের দারুণ পক্ষে। আন্দোলন চালানোর জন্য নানা ধরনের গোপন ইশতাহার, পুস্তিকা প্রকাশ করছেন। শুধু দিল্লি ও কলকাতায় বাম নেতাদের সঙ্গে নয়, ইন্দিরা গান্ধী, আই, কে, গুজরাল, পিএন হাকসার, রাজেশ্বর রায় প্রমুখ বড় বড় নেতার সঙ্গেও পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ। তিনি আন্দোলনের ঐক্য ধরে রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আমার মনে হয় না আপনাদের ঐক্য ভেঙ্গে যাবে।” পরেশ সাহার এই চিঠি পাওয়ার কিছুদিন পরই স্থপতি মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল লন্ডনে আসেন। তাদের নিয়ে লন্ডনের কনওয়ে হলে সামরিক শাসন-বিরোধী সংগ্রাম পরিষদের একটি জনসভা হয়। সেই সভায় তারা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে বামদের সরে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে ঘোষণা দেন এবং আন্দোলনের সঙ্গে সলিডারিটি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের এমন কোনো প্রগতিশীল রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন নেই যে, আন্দোলনে মোনায়েম সরকারের অন্তত নেপথ্য নায়কের ভূমিকা নেই। জিয়াউর রহমান ও জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য ১০ দল, ১৫ দলীয় জোট গঠিত হলে তার কর্মসূচি প্রণয়নে, বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রতিষ্ঠায়, উদীচী গঠনে সর্বত্র তার নেপথ্য ভূমিকা ও উদ্যোগ ছিল। বঙ্গবন্ধু পরিষদ গড়ে তোলারও তিনি অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা। কিছুকাল তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার একটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি দুই খণ্ডে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর জীবনীগ্রন্থ সম্পাদনা। বই দু’টি প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তার লেখা দু’টি পুস্তিকা (১) ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে কেন ভোট দিতে চাই’ এবং (২) ‘বিএনপি’কে কেন ভোট দেব না’ নির্বাচকমণ্ডলীর একটি অংশের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করেছে। মোনায়েম সরকারের সঙ্গে আমার চাক্ষুস পরিচয় হয়েছে আরো অনেক পরে, কিন্তু তাকে ভালোভাবে জানতে পারি ঢাকা থেকে সাপ্তাহিক ‘দেশবন্ধু’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হওয়ার পর। রোকেয়া কবির এবং তার প্রয়াত স্বামী এই পত্রিকাটি হাতে নিয়ে একদিন লন্ডনে আমার বাসায় আসেন এবং এই পত্রিকায় লেখার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন। তাদের কাছেই জানতে পারি, মোনায়েম সরকার এই পত্রিকা প্রকাশের নেপথ্যে রয়েছেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মুখপত্র এই পত্রিকাটির প্রত্যেকটি লেখা যেমন ছিল প্রাঞ্জল ও যুক্তিপূর্ণ, তেমনি ভাষা ছিল ক্ষুরধার। পত্রিকাটি বেশিদিন টেকেনি। এরপর শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের প্রথম অর্থমন্ত্রী শহীদ শাহ মোহাম্মদ কিবরিয়া যখন ‘মৃদু ভাষণ’ নামে একটি উচ্চমানের সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করেন এবং আমার অনুজ প্রতীম সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারকে এই পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব দেন, তখন কিবরিয়া সাহেব এবং বিভুরঞ্জনের মাধ্যমেই মোনায়েম সরকারের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জানতে পারি, মৃদু ভাষণেরও আসল চালিকা শক্তি মোনায়েম সরকার। দীর্ঘকাল আমি ‘মৃদু ভাষণে’ রাজনৈতিক কলাম লিখেছি। তখনো ইন্টারনেট ও নতুন তথ্যপ্রযুক্তির এতোটা উন্নতি ঘটেনি। আমাকে রাজনৈতিক কলাম লেখার জন্য নিত্য নতুন তথ্য সরবরাহ করা শুরু করেন মোনায়েম সরকার। আমাদের এই প্রাত্যহিক টেলি-যোগাযোগটি এখনো অব্যাহত আছে। যদিও ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইটের অভূতপূর্ব উন্নতির জন্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগটি এখন আর কোনো সমস্যার ব্যাপার নয়। দীর্ঘ ১৮ বছর পর যখন ১৯৯২ সালে প্রথম দেশে ফিরি তখন মোনায়েম সরকারের সঙ্গে আমার প্রথম চাক্ষুস পরিচয়। থাকেন শান্তিনগরে যাকে মা ডাকেন তার বাড়িতে। এই বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক বাড়ি। এই বাড়িতে অনেক রাজনৈতিক গোপন ও প্রকাশ্য বৈঠক হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক নেতা আত্মগোপনে ছিলেন এই বাড়িতে। বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের একটি চমত্কার অফিস ও লাইব্রেরী গড়ে উঠেছে এই বাড়িতে। বর্তমানে বাড়িটি পুনর্নির্মাণের জন্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশের একটি ফ্ল্যাটে সরে গেছেন মোনায়েম সরকার, সঙ্গে তার ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশন থেকে একবার আমন্ত্রিত হয়েছিলাম, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তার উপর স্মারক বক্তৃতা দেয়ার জন্য। ফাউন্ডেশন থেকেই বক্তৃতাটি বই আকারে সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। পরের বছর বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা দেয়ার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের দৌহিত্র, পশ্চিম বঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। তখন তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে শয্যাশায়ী। মোনায়েম সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ঢাকায় আসতে পারেননি। কিন্তু স্মারক বক্তৃতাটি দিয়েছিলেন রূপালী পর্দায় ক্যামেরায় বন্দী হয়ে। ২০০৪ সালে আমি যখন বঙ্গবন্ধুর উপর “পলাশী থেকে ধানমন্ডি” ছবিটি তৈরি করি, তখন সর্বাধিক সাহায্য ও সমর্থন জুগিয়েছেন মোনায়েম সরকার। সকল বাধা বিপত্তির মুখে, এমনকি আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় একাংশের বাধার মুখেও ছবিটি সারাদেশে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর এরকম অকৃত্রিম সমর্থক ও অনুসারীর সংখ্যা খুবই বিরল। মোনায়েম সরকারের এবং তার মায়ের শান্তিনগরের বাড়িতে আমি কয়েকবার আতিথ্য গ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। মায়ের আদর আপ্যায়নের কোনো তুলনা হয় না। এরকম রাজনীতি-সচেতন মাতৃহূদয় মহিলার সাক্ষাত্ আমি কম পেয়েছি। আমার ধারণা ম্যাকসিম গোর্কির ‘মা’ উপন্যাসের মতো তাকে নিয়ে একটি উপন্যাস লেখা যায়। আওয়ামী লীগ ও দেশের প্রগতিশীল রাজনীতির সুখে দুঃখে বিপদে আপদে অকৃত্রিম বন্ধু মোনায়েম সরকার। অবিবাহিত মানুষ, ব্যক্তিগত জীবনে নিঃসঙ্গ। গবেষণা ও রাজনীতি চর্চার মধ্যেই তিনি তার ব্যস্ত কর্মময় জীবন গড়ে তুলেছেন। তার বাড়িতে প্রায় সন্ধ্যাতে যে আড্ডা বসে, সম্ভবতঃ তা বর্তমান ঢাকার সবচাইতে আকর্ষণীয় আড্ডা। তিনি যে আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে সব সময় সমাদৃত তা নয়। কিন্তু তাদের সংকটে তিনি দ্বিধাহীনভাবে পাশে দাঁড়ান। শেখ হাসিনাকে রোজ নোট পাঠিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় সতর্ক করা তার একটি প্রাত্যহিক কাজ। এই মানুষটি দেশের স্বার্থে, দেশের প্রগতিশীল রাজনীতি ও সংস্কৃতির স্বার্থে আরও দীর্ঘকাল বেঁচে থাকুন এটা আমার আন্তরিক কামনা। তাকে আজ ৭০তম জন্মদিবসে প্রাণ ঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। [ লন্ডন ২৯ মার্চ, শনিবার, ২০১৪ ]