রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেই অর্থনীতির
চাকা সচল থাকবে
বিগত দশম জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই আগে-পিছে অনেক বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে আমাদের দেশে। বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছে কৃষি, পোশাক ও পর্যটন শিল্প। জিডিপি কমেছে অনেক বেশি পরিমাণে। পোশাক শিল্প আমাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় একটা শিল্প। এ শিল্পকে বাঁচানোর জন্য আমাদের দলমত নির্বিশেষে সবার এগিয়ে আসা উচিত। এ ক্ষেত্রটা সচল থাকলে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। এছাড়াও লাখো মানুষের একমাত্র উপার্জনের জায়গাও এটা। হরতাল অবরোধে এটা বিপর্যস্ত হয় এবং পর্যটক নগরী থাকে পর্যটকশূন্য বিদেশিরা না আসার কারণে। আমরা চাই সবার মুখে হাসি ও সচ্ছল অবস্থা সাথে সাথে দেশের উন্নতি ও স্বাভাবিক অবস্থা। দেশের অর্থনীতির চাকা সবসময় সচল থাকুক। আমরা এগিয়ে এসে আর পিছিয়ে যেতে চাই না। এজন্য সরকারের উচিত জনগণের স্বার্থে যা ভাল তাই করা।
হাফিজুর রহমান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ।
স্বাধীনতার ৪৪ বছরদেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু করেছে
পেরিয়ে গিলো কিন্তু মনে
প্রশ্ন থেকেই যায়- আসলে কি আমরা স্বাধীন? স্বাধীনতার তাত্পর্য কি তা পুরোপুরি হয়তো বুঝি না, কিন্তু এটুকু বুঝতে পারি যে স্বাধীনতা কথাটির সাথে অর্থনৈতিক মুক্তি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। স্বাধীনতার পর থেকেই ইতিহাসের পাতায় দেখে আসছি নদীর জোয়ার-ভাটার মতই এ দেশের অর্থনীতির চাকা একবার ঘোরে তো কালবৈশাখীর ঝড়ের মত কোন ঘটনাই আবার স্তব্ধ হয়ে যায়। এর সামপ্রতিক প্রমাণস্বরূপ আমরা তুলে ধরতে পারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কালকে। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে যায় যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ থেকে নেমে আসে ৫.২ শতাংশে, মূল্যস্ফীতি চলে যায় ৮ শতাংশের উপরে। এ সময় যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাদের হয়তো অনাহারে দিন কাটাতে হয়েছে। আর যারা দু’বেলা ডাল-ভাত খেয়ে আনন্দে দিন কাটাচ্ছিল তাদের জীবনেও নেমে আসে দুর্দিনের ঘনঘটা। সামপ্রতিক সময়ে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকার ফলে অর্থনীতির চাকা আবার ঘুরতে শুরু করেছে। কিন্তু জনমনে আতঙ্ক থেকেই যায় ।
মো. মোস্তাফিজুর রাহমান
ব্যবসা প্রশাসন বিভাগ,
১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
অর্থনীতিতে রাজনৈতিক কোন বাধা নেই বলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে
তৃতীয় বিশ্বের একটা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সুস্থ ধারার রাজনীতির ব্যাপক অবদান রয়েছে। আর তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৩ সালের প্রথমদিক হতে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেখলেই। একটি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করলে ঐ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। আমরা ২০১৩ সালকে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যদিয়ে পার করেছি। প্রতি মুহূর্তে হরতাল আর হামলায় কালো ধোঁয়ার কুন্ডলিতে আবদ্ধ হয়েছে এদেশের অর্থনীতি। বারবার ফুটো হয়েছে অর্থনীতির চাকা। বিপর্যস্ত হয়েছে অর্থনৈতিক অগ্রগতি। কিন্তু আশার কথা হল এই যে, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির চাকা অনেকটা সচল হতে চলেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর সাম্প্রতিককালের রাজনীতি এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সুচিন্তিত মতামত ও আলোচনা অর্থনীতির চলমান চাকাকে আরো গতিশীল করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পূর্বের চেয়ে অনেক স্থিতিশীল হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর টনক নড়েছে। দেশের মধ্যে এখন হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রায় নেই বললেই চলে। ফলশ্রুতিতে অর্থনীতিতে কোন রাজনৈতিক বাধাই ভিড়তে পারছে না। যার ফলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
মো. ইসতিয়াক উদ্দিন
প্রথম বর্ষ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং,
আহসানউল্লাহ্ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
কাজ করতে
হবে দেশের
স্বার্থে
বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ক্রমেই বেগবান হচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। হরতাল-অবরোধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ ২০১৩ পেরিয়ে ফের সচল হচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা স্থিতিশীল থাকায় সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলেছে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। তাজরিন ফ্যাশনে আগুন এবং রানা প্লাজা ধসের ফলে বিশ্ববাজারে আমাদের পোশাকশিল্পের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অনেকাংশেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে, নতুন উদ্যম নিয়ে কাজে নামছে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা। দুর্নীতির মাত্রাও কমে এসেছে বহুলাংশে। যে দেশ অর্থনৈতিকভাবে যত সমৃদ্ধ, সে দেশ তত বেশি উন্নত। দেশের উন্নয়ন তথা নিজেদের জীবনমান বৃদ্ধি করার জন্যে প্রত্যেককেই নিজেদের অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে সবাইকে।
কৌশিক আহমেদ
শাহ্জালাল হল , বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ময়মনসিংহ।
