ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২১:৪৩
বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও ত্বরান্বিত হবে যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে হরতাল-অবরোধ জাতীয় অর্থনীতির চাকা শ্লথ করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন আবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম উত্স গার্মেন্টস শিল্প। কিন্তু গার্মেন্টস কারখানায় কিছু দুর্ঘটনা অর্থনীতির লাগাম টেনে ধরেছিল যা থেকে আস্তে আস্তে উত্তরণ হচ্ছে। আমেরিকার সাথে GSP সুবিধা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বোপরি, বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকে। আমরা আশা করবো, সরকার এই রাজনৈতিক সমস্যা দূর করে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখবে। মো. আশরাফুল ইসলাম ৪র্থ বর্ষ, রসায়ন বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ==== প্রত্যেকেই যদি সামাজিক দায়বদ্ধতার সাথে আপন আপন কাজ সম্পাদন করি তাহলেই অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে গত বছরের শেষের দিকে আমাদের দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের স্বার্থের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। হরতাল, অবরোধ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘাতে দেশের অর্থনীতি চরম হুমকির মুখে পড়ে। জনজীবনে বিরাজ করছিল উত্কণ্ঠা। দেশজ উত্পাদন হ্রাস পেতে শুরু করে। আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে Balance of payment বিনষ্ট হতে শুরু করে। যেহেতু বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অন্যতম প্রভাবক, তাই সে সময় বৈদেশিক বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য চরম হুমকি। তারপরও দেশের মানুষের গণসচেতনতায় এই অচল অবস্থা স্থায়ী রূপ লাভে ব্যর্থ হয়। দেশে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে শুরু করে। কৃষি, শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতার ছোঁয়া লাগে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন কর্মের সুযোগ হচ্ছে, যা বেকারত্ব লাঘব করে অর্থনীতি সমৃদ্ধকরণে ভূমিকা রাখছে। তাই দেশের বৃহত্ স্বার্থে যদি রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিরা ছাড়ের মনোভাব পোষণ করে পরস্পরে শ্রদ্ধাশীল হয় এবং দেশের প্রতি দেশের মানুষের প্রতি ন্যূনতম অকৃত্রিম ভালবাসা বজায় থাকে, আমরা প্রত্যেকেই যদি সামাজিক দায়বদ্ধতার সাথে আপন কার্য সম্পাদন করি, তবেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে, দেশ উন্নয়নের দিকে স্থায়ী মোড় নেবে। আব্দুল্লাহ আল বুখারী ১৪তম ব্যাচ, শিক্ষাবর্ষ ২০১০-১১ অর্থনীতি বিভাগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া === টেকসই অর্থনীতির জন্য চাই গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শাসন ব্যবস্থার নাম “ডেমোক্রাসি” উন্নয়নশীল বিশ্বের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করলে পরিলক্ষিত হয় যে দেশের গণতন্ত্র যত দৃঢ় ঐ দেশের অর্থনৈতিক ভীত ততো বজবুত। বাংলাদেশের সংবিধানের ১১নং অনুচ্ছেদ” গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলা হলেও গণগন্ত্রের ছদ্যবরণে স্বৈরতন্ত্রের চর্চা চলছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিট প্রয়োগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলিক অধিকার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৭তম। ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিচার বিষয়ক সূচক যথাক্রমে ৯৪ ও ৮২তম। বলাচলে গণতান্ত্রিক চর্চায় বাংলাদেশে রুগ্ন যার ফলে বিনা বিচার প্রাণহানি ঘটেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানবাধিকার আইনের শাসন তথা সুশাসন পূর্বশর্ত। আইনের শাসন হচ্ছে, জনগণ আইন মানবে এবং তারা কেবলমাত্র আইন দ্বারা শাসিত হবে। নির্বাচন হচ্ছে গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম মাধ্যম কিন্তু নির্বাচনের নামে প্রতিনিয়ত যা হচ্ছে তা হলো হতভাগা পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ বহন। দেশকে তথা অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য মানবাধিকার লংঘন বন্ধ করে। গণতান্ত্রিক পূর্ণাঙ্গ চর্চার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সিকদার রেদোয়ান আহমেদ, আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। === অর্থনীতির চাকাকে ঘুরাতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির চাকা ঘুরানো প্রয়োজন বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা কখনই আমার দেশের নীতি-নির্ধারকরা সামনের দিকে চালাতে পারেনি। তারা চালিয়েছে ঠিক, তবে একবার সামনে একবার পিছনে। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে বাংলাদেশের যতগুলো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে এটি হলো বড় কারণের মধ্যে একটি। স্বাভাবিক কথা- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিভিন্ন মতাবলম্বী দল বা গোষ্ঠী থাকতে পারে আর তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া হয় একমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে। রাজনৈতিক কোন দলের মধ্যে ক্ষমা করার মানুষিকতা মোটেও নেই। হরতাল, অবরোধ, দুর্নীতি, জ্বালাও-পোড়ার রাজনীতির কারণ আমার দেশের নেতাদের ক্ষমা করার মানুষিকতার অভাব। দেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের এ ধরনের সংস্কৃতির চাকা আগে ঘুরাতে হবে। তাই বলা যেতে পারে অর্থনীতির চাকাকে পরিবর্তন করতে হলে রাজনৈতিক দলের সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। সিকদার আনিছুর রহমান সরকারি বি. এম. কলেজ, বরিশাল, বি এ অনার্স (ইংরেজী), এম এ অধ্যয়নরত, বরিশাল সদর, বরিশাল।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন