হরতাল-অবরোধ সর্বদা বিরূপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অর্থনীতির দিকে
বিজয়ের ৪০ বছরে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি আজ শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পেরেছে। আমাদের আরও বহু আগেই এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। একাত্তরের স্বাধীনতা আন্দোলনের পেছনে প্রকট একটি কারণ ছিল অর্থনৈতিক মুক্তিলাভ ও উন্নতি সাধন। অথচ এই কাঙ্ক্ষিত অর্থনীতিকে আমাদের শোষক সমাজ পশ্চাত্মুখী করতে সদাব্যস্ত। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, যে সকল আন্দোলন অর্থনৈতিক মুক্তির ও উন্নতির প্রতীক হওয়ার কথা তা স্বাধীনতার পর থেকেই অর্থনীতিকে ধ্বংসের মারাত্মক যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। অপ্রিয় সত্য হচ্ছে, একাত্তর-পরবর্তী প্রায় সকল বড় আন্দোলনের টার্গেটই ছিল অর্থনীতির চাকাকে অচল করা। সোজা কথায়- অর্থনীতিকে ধ্বংস করা। যা আজঅবধি বর্তমান। অথচ অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়া জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব। তাই হরতাল,অবরোধের নতুন ইস্যু উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়াটা জরুরি, কেননা অর্থনৈতিক অবরোধ এবং অর্থনৈতিক উন্নতি দু’টা দুই মেরুর শব্দ। অব্যাহত থাকুক অর্থনীতির উন্নয়নের ধারা।
আব্দুল্লাহ আল মামুন
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,
(তৃতীয় বর্ষ)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের
অর্থনীতি এগিয়ে
চলছে
বাংলাদেশ বর্তমান সময়ে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সফলভাব এগিয়ে চলছে। দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া বেশ অনুকূলে। বিগত কয়েক মাসের তুলনায় এখন অর্থনীতি বেশ সচল। এই ধারাটা ধরে রাখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অর্থনীতিকে পরিচালনা করতে হবে। এ দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে সকল বাধা আছে সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দেশের বিপুল পরিমাণ মানব সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যাপক বিকাশ ঘটাতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তার বিধান করতে হবে। দেশের শিল্পগুলোর উপর জোর দিতে হবে। তাছাড়া এদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে নতুন শিল্পের সন্ধান করতে হবে।
সৌরভ দাস
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টার
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই পারে অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করতে
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনীতি বার বার হোঁচট খেয়েছে বিভিন্ন কারণে। আর এই অর্থনীতি সামনের দিকে এগিয়ে নিতে গিয়ে হরতাল অবরোধ সবসময়ই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সময়। এই বছর জাতীয় নির্বাচনজনিত কারণে অনেকদিন যাবত্ হরতাল অবরোধ বিরাজ করায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উপর এক ব্যাপক প্রভাব পড়ে। যার ফলে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যায় এবং বার্ষিক জিডিপি পরিমাণ বহুলাংশে হ্রাস পায়। আর আমরা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ি। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে বর্তমানে হরতাল অবরোধমুক্ত এক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার কারণে এবং কৃষিখাত, পোশাকশিল্পসহ সকল খাতের প্রভূত উন্নয়নের কারণে আমাদের অর্থনীতি আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে। এই অবস্থা বজায় থাকলে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি পূর্বের মত আবারও রেকর্ড সৃষ্টি করবে। আর যদি উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হয় মানে হরতাল অবরোধের মত সহিংস আন্দোলন পুনরায় শুরু হয় তবে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি পিছিয়ে পড়ব এটাই স্বাভাবিক। তাই আমাদের উচিত হবে কৃষিকাজে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও পোশাক শিল্পকে আরো বেশি আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।
মোস্তাফিজুর রহমান সাগর
কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ,
প্রথম বর্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল,
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই অর্থনীতির মেরুদণ্ড
গণতান্ত্রিক দেশে অর্থনৈতিক সফলতার মাধ্যমই হল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। বিগত ১ বছর যাবত্ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকার কারণে অর্থনীতি পঙ্গুত্ব বরণ করতে বসেছিল। কিন্তু তার প্রেক্ষাপট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তন হতে থাকে। ফলে দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার সচল হতে থাকে। বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ দিয়ে আগামী ৬ মাস দেশের বিভিন্ন ভর্তুকি চালানো সম্ভব। তবে এ অর্থনীতির গতি টিকিয়ে রাখার জন্য প্রধানত প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। মনে রাখতে হবে,“স্বাধীন করার চেয়ে স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখাই কঠিন”। তাই যে কোন মূল্যে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে অর্থনীতির এ গতিকে টিকিয়ে রাখাই রাজনীতিবিদদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ত্বহা বিন জহরুল ইসলাম
সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
